ঈমান-আকীদা

ইসলাম একমাত্র আল্লাহর মনোনীত ধর্ম। ইসলাম একমাত্র মুক্তির পথ। ইসলাম ছাড়া মুক্তি নেই।

আবু আব্দুল্লাহ | December 14 2023 | 116

যে কেও জেনেছে, ইসলাম নামে একটি দ্বীন আছে যা এক আল্লাহর কথা বলে এবং সে রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ)-এর রিসালাতের খবর শুনেছে, তার জন্য ইসলাম ছাড়া পরকালে মুক্তির আর কোন উপায় নেই। এবং রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ)-এর অনুসরণ ছাড়াও কারো জন্য অন্য কোন পথ অনুসরণ বৈধ নয়। এমনকি মুসা (আঃ)-ও যদি থাকতেন তবে তার জন্য আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর অনুসরণ ছাড়া অন্য কিছু বৈধ হতো না। আল্লাহ বলেছেন-

إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ

‘নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম। যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত।’ (সূরা আল ইমরান ১৯ ও ৮৫)

রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) এর স্পষ্ট বানী-

আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেছেন,

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ لاَ تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا وَلاَ تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا ‏.

‘ঈমানদার ছাড়া কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।’ (সহিহ মুসলিম ৯৮, মান: সহিহ)

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত,

قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الْمُوجِبَتَانِ فَقَالَ ‏”‏مَنْ مَاتَ لاَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ مَاتَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ النَّارَ‏”‏.

‘এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর সামনে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করল-ইয়া রসূলুল্লাহ! ওয়াজিবকারী (অবশ্যম্ভাবী) দু’টো বিষয় কি? তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে কোন কিছু শারীক না করে যে ব্যক্তি মারা যাবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছু শারীক করা অবস্থায় মারা যাবে সে জাহান্নামে যাবে।’ (সহিহ মুসলিম ১৭০, মান: সহিহ)

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেন,

“‏وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لاَ يَسْمَعُ بِي أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ يَهُودِيٌّ وَلاَ نَصْرَانِيٌّ ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ إِلاَّ كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ‏”‏‏.‏

‘সে সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! ইয়াহুদী হোক আর খৃস্টান হোক, যে ব্যক্তিই আমার এ রিসালাতের খবর শুনেছে অথচ আমার রিসালাতের উপর ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করবে, অবশ্যই সে জাহান্নামী হবে।’ (সহিহ মুসলিম ২৭৯, মান: সহিহ)

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَنَّهُ قَالَ وَالَّذِى نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لاَ يَسْمَعُ بِى أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ يَهُودِىٌّ وَلاَ نَصْرَانِىٌّ ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِى أُرْسِلْتُ بِهِ إِلاَّ كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ

‘যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ আছে, সেই সত্তার কসম! এই জাতির যে কেউ ইয়াহুদী হোক বা খ্রিস্টান আমার কথা শুনবে, অতঃপর যা দিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি, তার প্রতি ঈমান আনবে না, সেই জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (মুসলিম ৪০৩, হাদিস সম্ভার ১৫০৮, মান: সহিহ)

উমার (রাঃ) তখন কেবল মাত্র ইসলাম গ্রহণ করেছেন-

জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত,

وَعَنْ جَابِرٌ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ أَتَاهُ عُمَرُ فَقَالَ إِنَّا نَسْمَعُ أَحَادِيثَ مِنْ يَهُودَ تُعْجِبُنَا أَفْتَرَى أَنْ نَكْتُبَ بَعْضَهَا؟ فَقَالَ: أَمُتَهَوِّكُونَ أَنْتُمْ كَمَا تَهَوَّكَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى؟ لَقَدْ جِئْتُكُمْ بِهَا بَيْضَاءَ نَقِيَّةً وَلَوْ كَانَ مُوسَى حَيًّا مَا وَسِعَهُ إِلَّا اتِّبَاعِيগ্ধ رَوَاهُ أَحْمد وَالْبَيْهَقِيّ فِي كتاب شعب الايمان

‘একদা উমার (রাঃ) এর হাতে একটি পাতা ছিল, যার মধ্যে তাওরাতের কিছু অংশ লিখা ছিল। মহানবী (ﷺ) তা দেখে রাগান্বিত হয়ে তাঁকে বললেন, ‘আমার ব্যাপারে কি কোন সন্দেহ আছে হে ইবনে খাত্ত্বাব? আমি কি শুভ্র ও নির্মল শরীয়ত নিয়ে আগমন করিনি? যদি আমার ভাই মূসা জীবিত থাকতেন, তাহলে আমার অনুসরণ ছাড়া তাঁর অন্য কোন এখতিয়ার ছিল না।’ অন্য বর্ণনামতে উমার (রাঃ) তাঁর নিকট এসে বললেন, আমরা ইয়াহুদীদের নিকট কিছু এমন কথা শুনি যা আমাদেরকে ভালো লাগে। আপনার কী রায়, তার কিছু লিখে নেব কি? তা শুনে তিনি বললেন, ‘তোমরাও কি নির্বিচারে সব কিছু মেনে নিতে চাও, যেমন ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানরা মেনে নিয়েছে? যদি মূসা জীবিত থাকতেন, তাহলে আমার অনুসরণ ছাড়া তাঁর অন্য কোন এখতিয়ার ছিল না।’ (আহমাদ ১৫১৫৬, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ১৭৬, হাদিস সম্ভার ১৫০৬, মান: সহিহ)

অন্য বর্ণনায় আছে- একদা উমার (রাঃ) তাওরাতের কয়েকটি পাতা নিয়ে পড়ছিলেন। তা দেখে নবী (ﷺ) রাগান্বিত হয়ে বললেন,

وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَصْبَحَ فِيكُمْ مُوسَى ثُمَّ اتَّبَعْتُمُوهُ وَتَرَكْتُمُونِي لَضَلَلْتُمْ إِنَّكُمْ حَظِّي مِنْ الْأُمَمِ وَأَنَا حَظُّكُمْ مِنْ النَّبِيِّينَ

‘সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! যদি মুসাও জীবিত হয়ে এসে যান, আর তোমরা আমাকে ছেড়ে তাঁর অনুসারী হয়ে যাও এবং আমাকে বর্জন কর, তাহলে অবশ্যই তোমরা ভ্রষ্ট হয়ে যাবে। নিশ্চয় উম্মতের মধ্যে তোমরা আমার অংশ এবং নবীগণের মধ্যে আমি তোমাদের অংশ।’ (আহমাদ ১৫৮৬৪, ১৮৩৩৫, মানঃ সহিহ)

অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘যদি মূসা তোমাদের মাঝে জীবিত থাকতেন, তাহলে আমার অনুসরণ ছাড়া তাঁর জন্য অন্য কিছু বৈধ হতো না।’ (আহমাদ ১৪৬৩১, শুআবুল ঈমান বাইহাক্বী ১৭৯, আবূ য়্যা’লা ২১৩৫, হাদিস সম্ভার ১৫০৭, মান: সহিহ)

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ أَتى رَسُولَ اللهِ ﷺ بِنُسْخَةٍ مِنْ التَّوْرَاةِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ هَذِهِ نُسْخَةٌ مِنْ التَّوْرَاةِ فَسَكَتَ فَجَعَلَ يَقْرَأُ وَوَجْهُ رَسُولِ اللهِ يَتَغَيَّرُ فَقَالَ أَبُوْ بَكْرٍ ثَكِلَتْكَ الثَّوَاكِلُ مَا تَرَى مَا بِوَجْهِ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَنَظَرَ عُمَرُ إِلى وَجْهِ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَ أَعُوذُ بِاللهِ مِنْ غَضَبِ اللهِ وَغَضَبِ رَسُولِه رَضِينَا بِاللهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِه لَوْ بَدَا لَكُمْ مُوسى فَاتَّبَعْتُمُوهُ وَتَرَكْتُمُونِي لَضَلَلْتُمْ عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ وَلَوْ كَانَ حَيًّا وَأَدْرَكَ نُبُوَّتِي لَاتَّبَعَنِي. رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ

‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে তাওরাত কিতাবের একটি পাণ্ডুলিপি এনে বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! এটা হল তাওরাতের একটি পাণ্ডুলিপি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) চুপ থাকলেন। এরপর ‘উমার (রাঃ) তাওরাত পড়তে আরম্ভ করলেন। (এদিকে রাগে) রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চেহারা বিবর্ণ হতে লাগল। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, ‘উমার! তোমার সর্বনাশ হোক। তুমি কি রসূল (ﷺ)-এর বিবর্ণ চেহারা মুবারক দেখছো না? ‘উমার (রাঃ) রসূলের চেহারার দিকে তাকালেন এবং (চেহারায় ক্রোধান্বিত ভাব লক্ষ্য করে) বললেন, আমি আল্লাহ্‌র গযব ও তাঁর রসূলের ক্রোধ হতে পানাহ চাচ্ছি। আমি ‘রব’ হিসেবে আল্লাহ্‌ তা‘আলার উপর, দ্বীন হিসেবে ইসলামের উপর এবং নাবী হিসেবে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উপর সন্তুষ্ট আছি। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘আল্লাহ্‌র কসম, যাঁর হাতে আমার জীবন! যদি (তাওরাতের নাবী স্বয়ং) মূসা (আঃ) তোমাদের মধ্যে থাকতেন আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করতে আর আমাকে ত্যাগ করতে, তাহলে তোমরা সঠিক সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পথভ্রষ্ট হয়ে যেতে। মূসা (আঃ) যদি এখন জীবিত থাকতেন এবং আমার নবূওয়াতের যুগ পেতেন, তাহলে তিনিও নিশ্চয়ই আমার অনুসরণ করতেন।’ (দারিমী ৪৩৫, মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৪, মান: হাসান)

অতএব ইসলামের বক্তব্য স্পষ্ট হল- যে কেও দ্বীন ইসলাম তথা আল্লাহ ও তার রাসুলের ব্যাপারে শুনেছে তার জন্য ইসলাম ছাড়া পরকালে মুক্তির আর কোন উপায় নেই এবং আল্লাহর রাসুল (ﷺ)-এর অনুসরণ ছাড়া অন্য কোন পথ অনুসরণ করা কারো জন্য বৈধ নয়, সে যেই হোক না কেন।

—Sharia Law

প্রসঙ্গ: ঈমান-আকীদা