ঈমান-আকীদা

এই কালিমা তাদেরকে জাহান্নাম থেকে রেহাই দিবে

নাবি আলাইসিস সালাম যখন কাকুতিমিনতি করবেন, তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন — . ‎فَيَقُولُ: وَعِزَّتِي وَجَلاَلِي، وَكِبْرِيَائِي وَعَظَمَتِي لَأُخْرِجَنَّ مِنْهَا مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ . “আমার ইজ্জত‌ ও পরাক্রম এবং আমার বড়ত্ব ও মহত্ত্বের শপথ! যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে, আমি অবশ্যই অবশ্যই তাদের সবাইকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনব।” [বুখারি-৭৫১০, মুসলিম-১৯৩] . ‎عن حذيفة بن اليمان، قال: قال رسول الله — صلى الله عليه وسلم -: “يدرس الإسلام كما يدرس وشي الثوب، حتى لا يدرى ما صيام ولا صلاة ولا نسك ولا صدقة…وتبقى طوائف من الناس، الشيخ الكبير والعجوز، يقولون: أدركنا آباءنا على هذه الكلمة: لا إله إلا الله، فنحن نقولها”. . “হুজায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, নাবি আলাইসিস সালাম বলেন — ইসলাম মুছে যাবে যেভাবে কাপড়ের নকশা (ধীরে ধীরে) মুছে যায়। শেষমেশ এমন হবে যে, মানুষ জানবেই না সিয়াম কী সালাত কী, কুরবানি কী, সাদাকাহ কী।… তখন একদল বৃদ্ধ নারী-পুরুষ থাকবে, যারা বলবে: আমরা আমদের পিতৃপুরুষদের এই কালিমা তথা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’র ওপর পেয়েছি। তাই আমরাও এটিই বলি। . ‎فقال له صلة : ما تغني عنهم لا إله إلا الله، وهم لا يدرون ما صلاة ولا صيام ولا نسك ولا صدقة؟ فأعرض عنه حذيفة، ثم ردها عليه ثلاثا، كل ذلك يعرض عنه حذيفة، ثم أقبل عليه في الثالثة، فقال:يا صلة، تنجيهم من ‎النار، ثلاثا . তখন তাবেঈ সিলাহ বিন যুফার রাহ. হুজায়ফা রা-কে বললেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” তাদের কী কজে আসেব, যখন তারা জানবেই না যে, সালাত কী, সিয়াম কী, কুরবানি কী? হুজায়ফা রা. তার উত্তর না-দিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। সিলাহ তিন বার এ প্রশ্ন পুনরাবৃত্তি করলেন। হুজায়ফা প্রত্যেকবার তার প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন। তৃতীয় বারে তিনি তার দিকে ফিরে বলেন: হে সিলাহ! এই কালিমা তাদেরকে জাহান্নাম থেকে রেহাই দেবে। তিনি কথাটি তিন বার বললেন।” [ইবনু মাজাহ — ৪০৪৯ মান: সহিহ] . “আনাস রা. থেকে বর্ণন, নাবি আলাইসিস সালাম বলেন — . ‎عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: «يَقُولُ اللهُ: أَخْرِجُوا مِنَ النَّارِ مَنْ ذَكَرَنِي يَوْمًا» أَوْ خَافَنِي فِي مَقَامٍ. . আল্লাহ বলবেন, জাহান্নাম থেকে তাকেও বের করে আনো, যে কোনো একদিন আমাকে স্মরণ করেছে বা কোনো একস্থানে আমাকে ভয় পেয়েছে।” [তিরমিজি — ২৫৯৪, আস-সুন্নাহ, ইবনু আবি আসিম — ৮৩৩, মানঃ হাসান] . নাবি আলাইসিস সালাম বলেন — . ‎مَا مِنْ عَبْدٍ يَشْهَدُ أَن لاَ إلهَ إلاَّ الله وَأنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ صِدْقاً مِنْ قَلْبِهِ إلاَّ حَرَّمَهُ الله عَلَى النَّار قَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ أفَلاَ أُخْبِرُ بِهَا النَّاس فَيَسْتَبْشِرُوا ؟ قَالَ إِذاً يَتَّكِلُوا فأخبر بِهَا مُعاذٌ عَندَ موتِه تَأثُّما. . “যে কোন বান্দা খাঁটি মনে সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কেউ (সত্য) উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সা. তাঁর বান্দা ও তাঁর রসূল, তাকে আল্লাহ তা’আলা দোযখের জন্য হারাম করে দেবেন। মুআজ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি লোকেদেরকে এই খবর বলে দেব না, যেন তারা (শুনে) আনন্দিত হয়? তিনি বললেন, তাহলে তো তারা (এর উপরই) ভরসা করে নেবে (এবং আমল ত্যাগ করে বসবে)। অতঃপর মুআজ (ইলম গোপন রাখার) পাপ থেকে বাঁচার জন্য তাঁর মৃত্যুর সময় (এ হাদীসটি) জানিয়ে দিয়েছিলেন।” [বুখারী ১২৮, মুসলিম ১৫৭] . আর এ দিক বিবেচনায় জুমহুর আয়িম্মায়ে কেরাম আমলের গুরুত্ব বুঝাতে এবং আমলের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত রাখতে তা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, রুকনে আসলি বা মৌলিক অংশ হিসেবে নয়।” — মোহাম্মদ আব্দুল হক হাফি. . আরেকটি মজবুত দলীল হল ঐ হাদিস যেখানে আল্লাহ কিয়ামতের মাঠে একজনকে তার ৯৯টি গুনাহের খাতা দেখাবেন যার কালিমা ছাড়া আর কোন নেক আমল ছিল না। কালেমা নিজেই একটি আমল। তাওহীদ নিজেই একটি লাগাতার আমল। যা তাকে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হওয়া থেকে আটকাবে। হাদীস সহীহ : তিরমিযী হা/২৬৩৯ ইবনু আবি যাইদ রহি. সহ আরও কিছু ফকিহ দাবী করেন যে যুহুদ (অস্বীকার) ব্যতীত ফরজসমূহ তরককারী কাফের নয় বরং ফাসেক৷ ইজমায়ে উম্মাহ হলো — তাদের জানাজা পড়ানো হবে, ইসলাম অনুযায়ী তাদের মিরাস বন্টিত হবে এবং মুসলিমদের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে৷ (শরহে বুখারী লি ইবনি বাত্তলঃ8/579)

August 02 2025

89

ঈমান-আকীদা

আমলহীন ব্যক্তি জান্নাতে যাবে? কোন আমল না করে কেও কি জান্নাতে প্রবেশ করবে?

শাফাআতের প্রসিদ্ধ ও দীর্ঘ হাদিসের শেষাংশে এসেছে, ‎فَيُخْرِجُ مِنْهَا قَوْمًا لَمْ يَعْمَلُوا خَيْرًا قَطُّ قَدْ عَادُوا حُمَمًا অতঃপর আল্লাহ জাহান্নাম থেকে এমন একদলকে বের করবেন, যারা কখনোই কোনো আমল করে নাই। আগুনে পুড়ে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। [মুসনাদে আহমদ — ১১৮৯৮, পড়ুন — মুসলিম ৩৪৩, বুখারী ২২, ৬৫৬০; মুসনাদে আহমদ — ১১৮৯৮] ইমাম ইবনুল কায়্যিম রাহ. বলেন, “হাদিসের ভাষ্য থেকে পরিষ্কার যে, এরা কোনো নেক কাজ করে নাই। স্রেফ আল্লাহর রহমত এদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করবে।” [হাদিল আরওয়াহ — ২/৭৮০] নাবি আলাইসিস সালাম যখন কাকুতিমিনতি করবেন, তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন — ‎فَيَقُولُ: وَعِزَّتِي وَجَلاَلِي، وَكِبْرِيَائِي وَعَظَمَتِي لَأُخْرِجَنَّ مِنْهَا مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ “আমার ইজ্জত‌ ও পরাক্রম এবং আমার বড়ত্ব ও মহত্ত্বের শপথ! যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে, আমি অবশ্যই অবশ্যই তাদের সবাইকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনব।” [বুখারি-৭৫১০, মুসলিম-১৯৩] ইমাম ইবনু রজব আল-হাম্বলি রাহ. বলেন — “শাফাআত সংক্রান্ত হাদিসে সহিহ বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে — নাবি আলাইসিস সালাম বলেন, “…..তখন আমি বলব, ‘হে আমার প্রভু! আমাকে অনুমতি দিন তাদের ব্যাপারে, যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে।’ তখন আল্লাহ বলবেন, ‘আমার সম্মান, আমার গৌরব, আমার মহত্ত্ব এবং আমার শ্রেষ্ঠত্বের শপথ! আমি তাদের জাহান্নাম থেকে বের করে দেব, যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে।’ সহিহ মুসলিমে আরও এসেছে: ‘তখন আল্লাহ বলবেন, এটি তোমার এখতিয়ারের বিষয় নয়, অথবা এটি তোমার কাজ নয়।’ ইবনু রজব রাহ. বলেন — وهذا يدل عَلَى أن الذين يخرجهم الله برحمته، من غير شفاعة مخلوق، هم أهل كلمة التوحيد، الذين لم يعملوا معها خيرًا قط بجوارحهم. “এটি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, যারা আল্লাহর (স্পেশাল) রহমতে কোনো মাখলুকের শাফাআত ছাড়াই জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে, তারা সেই লোক যারা তাওহিদের কালিমা (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) উচ্চারণ করেছে, কিন্তু শরীরের কোনো অঙ্গ দিয়ে এর সাথে কোনো নেক আমল করে নি।” — [আত-তাখউইফ মিনান নার ওয়া আত-তারিফ বিহাল দারিল বাওয়ার, পৃষ্ঠা ৩৬৪]

August 02 2025

83

ঈমান-আকীদা

বিদআতিদের সম্পর্কে সালাফগণের অবস্থান

বিদ'আতির সাথে বসো না ,কারণ আমি ভয় পাই যে তোমার উপর লানত নাযিল হবে। 📖[ইবনে বাত্তাহ, আল-ইনাবাহ (২/৪৫৯)] বিদ‘আতীদের রদ করা আল্লাহ’র রাস্তায় জিহাদ করার শামিল। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “বিদ‘আতীদের রদকারী একজন মুজাহিদ। এমনকি ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া বলেছেন, ‘সুন্নাহকে ডিফেন্ড করা সর্বোত্তম জিহাদ’।” 📖[নাক্বদ্বুল মানত্বিক্ব, পৃষ্ঠা: ১২; গৃহীত: শাইখ খালিদ বিন দ্বাহউয়ী আয-যাফীরী (হাফিযাহুল্লাহ), ইজমা‘উল ‘উলামা ‘আলাল হাজরি ওয়াত তাহযীরি মিন আহলিল বিদা‘; পৃষ্ঠা: ১০৪] ফুদাঈল বিন ঈয়াদ রাহিমাহুল্লাহ (মৃ-১৮৭ হি.) বলেন, ❝ আমার সাক্ষাত হয়েছে সুন্নাতের অনুসারী শ্রেষ্ঠ মনিষিদের সাথে এবং তারা বিদ'আতীদের সাথে মিশতে নিষেধ করতেন ❞ 📖[আল-লালাকাঈ,২৬৭] রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সাহাবী ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, ❝আহালুল হাওয়া (প্রবৃত্তির অনুসারী/বিদ'আতী) এর সাথে বসবে না,কারণ তাদের (সাথে) সমাবেশ -অন্তরের রোগ।❞ 📖 [আজূর্রি আস শারিয়াহ(১/১৯৬, নং ১৩৯); লালাকাঈ ,শারহু উসূলি ই'তিক্বাদু আহালুস সুন্নাহ ওয়াল জাম'আত(২/৪৩৮); আশ-শারিয়াতু লিলাযরীঈ(১/৪৫২)] ইবরাহীম নাখয়ী (রহ.) বলেন, বিদাতীদের নিকট বসো না, তাদের সাথে কথা বলো না। আমি আশংকা করি যে তারা তোমাদের অন্তরকে প্রভাবিত করে ফেলবে। 📖 [‘আল-বিদা‘ ওয়ান নাহয়্যু আনহা’’ পৃ. ৫৬, আল-ই‘তিছাম ০১/১৭২] শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমীয়া (রহ.) বলেন-- বিদাতীদের অনিষ্ট বিষয়ে বলেন, যদি কেউ তাদের মুক্বাবিলা না করত তাহলে দীন ধ্বংস হয়ে যেত। যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুদলের আক্রমণ থেকে তাদের আক্রমণ মারাত্মক। কেননা তারা বিজয়ী হলে শুধু আনুগত্যই করে নিতে পারে; মন-মানসিকতা এবং দীন ধ্বংস করতে পারে না। পক্ষান্তরে বিদাতীরা প্রথমেই মন-মানসিকতা নষ্ট করে দেয়। 📖 [মাজমূ‘ ফাতওয়া ২৮/২৩২] উসমান বিন যায়েদাহ বলেন, সুফিয়ান আমাকে উপদেশ দিয়ে বলেন, ‘বিদআতীদের সাথে ওঠা-বসা করো না।’ 📖 [আল ইবানাহ ২/৪৬৩, ৪৫২] ফিরয়াবী বলেন, ‘সুফিয়ান সওরী আমাকে অমুক বিদআতীর সংশ্রবে যেতে নিষেধ করেছেন।’ 📖 [আল ইবানাহ ৪৫৩] ইবনুল মুবারক বলেন, ‘খবরদার কোন বিদআতীর সাথে বসো না।’ 📖 [আল ইবানাহ ৪৫৪]

December 23 2023

45

ঈমান-আকীদা

ইসলাম একমাত্র আল্লাহর মনোনীত ধর্ম। ইসলাম একমাত্র মুক্তির পথ। ইসলাম ছাড়া মুক্তি নেই।

যে কেও জেনেছে, ইসলাম নামে একটি দ্বীন আছে যা এক আল্লাহর কথা বলে এবং সে রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ)-এর রিসালাতের খবর শুনেছে, তার জন্য ইসলাম ছাড়া পরকালে মুক্তির আর কোন উপায় নেই। এবং রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ)-এর অনুসরণ ছাড়াও কারো জন্য অন্য কোন পথ অনুসরণ বৈধ নয়। এমনকি মুসা (আঃ)-ও যদি থাকতেন তবে তার জন্য আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর অনুসরণ ছাড়া অন্য কিছু বৈধ হতো না। আল্লাহ বলেছেন- إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম। যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত।’ (সূরা আল ইমরান ১৯ ও ৮৫) রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) এর স্পষ্ট বানী- আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেছেন, قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ لاَ تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا وَلاَ تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا ‏. ‘ঈমানদার ছাড়া কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।’ (সহিহ মুসলিম ৯৮, মান: সহিহ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الْمُوجِبَتَانِ فَقَالَ ‏”‏مَنْ مَاتَ لاَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ مَاتَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ النَّارَ‏”‏. ‘এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর সামনে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করল-ইয়া রসূলুল্লাহ! ওয়াজিবকারী (অবশ্যম্ভাবী) দু’টো বিষয় কি? তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে কোন কিছু শারীক না করে যে ব্যক্তি মারা যাবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছু শারীক করা অবস্থায় মারা যাবে সে জাহান্নামে যাবে।’ (সহিহ মুসলিম ১৭০, মান: সহিহ) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেন, “‏وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لاَ يَسْمَعُ بِي أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ يَهُودِيٌّ وَلاَ نَصْرَانِيٌّ ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ إِلاَّ كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ‏”‏‏.‏ ‘সে সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! ইয়াহুদী হোক আর খৃস্টান হোক, যে ব্যক্তিই আমার এ রিসালাতের খবর শুনেছে অথচ আমার রিসালাতের উপর ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করবে, অবশ্যই সে জাহান্নামী হবে।’ (সহিহ মুসলিম ২৭৯, মান: সহিহ) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَنَّهُ قَالَ وَالَّذِى نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لاَ يَسْمَعُ بِى أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ يَهُودِىٌّ وَلاَ نَصْرَانِىٌّ ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِى أُرْسِلْتُ بِهِ إِلاَّ كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ ‘যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ আছে, সেই সত্তার কসম! এই জাতির যে কেউ ইয়াহুদী হোক বা খ্রিস্টান আমার কথা শুনবে, অতঃপর যা দিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি, তার প্রতি ঈমান আনবে না, সেই জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (মুসলিম ৪০৩, হাদিস সম্ভার ১৫০৮, মান: সহিহ)

December 14 2023

115

ঈমান-আকীদা

কবরে শুয়ে মৃতরা কি শুনতে পায়?

আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন: “নিশ্চয় তুমি মৃতকে শুনাতে পারবে না, আর তুমি বধিরকে আহ্বান শুনাতে পারবে না, যখন তারা পিঠ ঘুরিয়ে চলে যায়।” [সূরা আন-নামল- ২৭:৮০] “আর জীবিতরা ও মৃতরা এক নয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শুনাতে পারেন, কিন্তু যে ব্যক্তি কবরে আছে তাকে তুমি শুনাতে পারবে না।” [সূরা আল-ফাতির- ৩৫:২২] যারা বলেন ‘মৃতরা শুনতে পায় না’ তাঁদের প্রাথমিক প্রমাণ হলো কুরআনের এই দুটো আয়াত। আল্লাহ কুরআনে স্পষ্ঠভাবে বলছেন- তুমি মৃতকে শুনাতে পারবে না। এখন আমরা দেখবো হাদীসে কী আছে। বদর যুদ্ধ শেষে কাফিরদের লাশগুলোকে দাফন করা হয়। লাশ দাফন শেষে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাফিরদের নামধরে ডাকতে থাকেন। নামধরে ডেকে তিনি সূরা আরাফের ৪৪ নাম্বার আয়াত তেলাওয়াত করেন- “তোমাদের সাথে রব যে ওয়াদা করেছেন, তা তোমরা বাস্তবে পেয়েছো?” এটা দেখে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বেশ অবাক হলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি মৃতদেরকে ডেকে কথা বলছেন?” অর্থাৎ, তারা তো মৃত। আপনি তাদের সাথে কিভাবে কথা বলছেন? উমরের (রা:) প্রশ্নের জবাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন (ভাবানুবাদ), “তোমরা যেমন আমাকে শুনছো, তারাও ঠিক আমাকে শুনছে; কিন্তু তারা জবাব দিতে পারছে না।” [সহীহ বুখারী: ১৩৭০]

December 11 2023

284

ঈমান-আকীদা