লিখুন ডট কম || ০৮ জুন ২০২৬

সম্পাদকীয়

March 08 2025

151

সিয়ার

ধর্ষণের শাস্তির জন্য চারজন সাক্ষ্য লাগবে? ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি দিতে সাক্ষ্য প্রমাণ নীতি। ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি।

শাস্তি ধর্ষণের শাস্তি ও যেনা বা ব্যভিচারের শাস্তির মধ্যে কিছুটা তারতম্য রয়েছে। যেনা বা ব্যভিচারে লিপ্ত হ’লে তার শাস্তি - “বিবাহিত পুরুষ ও নারীর জন্য প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদন্ড ও অবিবাহিতদের জন্য একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছর নির্বাসন” (নূর ২৪/০২; বুখারী হা/৪৯৬৯; মুসলিম হা/১৬৯১; মিশকাত হা/৩৫৫৫) কিন্তু ধর্ষণ যেহেতু যিনার মত দুজনের সম্মতিতে হয় না তাই এক্ষেত্রে যিনার শাস্তির সাথে মুহারাবার শাস্তি যুক্ত হবে। কেবলমাত্র ধর্ষকের শাস্তি হবে। মুহারাবার শাস্তি হলো — অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ডাকাতির যে শাস্তি তাই। মুহারাবার শাস্তির ব্যাপারে কোরআন পাকে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, যারা আল্লাহ ও তার রাসুলের সঙ্গে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে, তাদেরকে হত্যা করা হবে, অথবা শূলে চড়ানো হবে, অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেওয়া হবে, অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হলো — তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। (সুরা মায়িদা ৩৩) যখন সমাজে ধর্ষণ মহামারি রূপ ধারণ করে, তখন সমাজকে কলুষমুক্ত করতে মুহারাবার মতো কঠোর শাস্তি দেওয়া জরুরি। কাজী তাকে রজম করতে নির্দেশ দিতে পারবে। আর ধর্ষণের কারণে অথবা ধর্ষণ পরবর্তী হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলে তার একমাত্র শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড প্রদান। সাক্ষ্য প্রমাণ ধর্ষণ সাধারণ জিনার মতো নয়, বরং এটি বলপ্রয়োগ এবং সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই ধর্ষণের ক্ষেত্রে চারজন সাক্ষীর শর্ত ছাড়া অন্যান্য প্রমাণ গ্রহণযোগ্য। চারজন সাক্ষী ছাড়াও ফরেনসিক ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে ধর্ষণের বিচার সম্ভব। নারীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে (ধর্ষণের) বিচার- আলকামা ইবনু ওয়াইল (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানায় একজন মহিলা নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলো। রাস্তায় একজন লোক তার সামনে পড়ে এবং সে তাকে তার পোশাকে ঢেকে নিয়ে (জাপটে ধরে) নিজের প্রয়োজন মিটায় (ধর্ষণ করে)। মহিলাটি চিৎকার করলে লোকটি পালিয়ে গেল। তারপর আর একজন লোক তার সম্মুখ দিয়ে যাচ্ছিল। মহিলাটি বলল ঐ লোকটি আমার সাথে এই এই করেছে। ইতোমধ্যে মুহাজির সাহাবীদের একটি দলও সে স্থান দিয়ে যাচ্ছিল। মহিলাটি বলল, ঐ লোকটি আমার সাথে এই এই করেছে। যে লোকটি তাকে ধর্ষণ করেছে বলে সে ধারণা করল, তারা (দৌড়ে) গিয়ে তাকে ধরে ফেলেন। তাকে নিয়ে তারা মহিলাটির সামনে ফিরে আসলে সে বলল, হ্যাঁ, এই সেই লোক। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাকে নিয়ে আসেন। তিনি যখন তাকে রজমের (পাথর মেরে হত্যা) হুকুম দিলেন, সে সময়ে তার আসল ধর্ষণকারী উপস্থিত হয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তার ধর্ষণকারী (ঐ লোকটি নয়)। তিনি মহিলাটিকে বললেনঃ যাও, তোমাকে আল্লাহ তা’আলা মাফ করে দিয়েছেন। তিনি (সন্দেহজনকভাবে) ধৃত লোকটির সম্বন্ধে ভাল কথা বললেন। মহিলাটির আসল ধর্ষণকারীর সম্পর্কে তিনি হুকুম করলেনঃ একে রজম কর। তিনি আরো বললেনঃ সে এমন ধরণের তাওবা করেছে, যদি মদীনার সকল জনগণ এমন তাওবা করে তবে তাদের সেই তাওবা কুবুল করা হবে।” [তিরমিজি: ১৪৫৪, হাসান] এটি একটি দৃষ্টান্ত। এছাড়াও ওমর (রা.) এর যুগে সাক্ষী ছাড়া ফরেনসিক প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার হয়েছে। শরীরের চিহ্ন, কাপড়ের দাগ, সন্দেহভাজন ব্যক্তির আচরণ ইত্যাদির ভিত্তিতে অপরাধের শাস্তি দিয়েছেন। এখন তো মেডিকেল টেস্ট, DNA টেস্ট সিসিটিভি সহ্য কত রকম প্রমাণ থাকে। এগুলো নিয়ে টেনশন নেই। মূলনীতি হল নিরপরাধ কেও যেন শাস্তি না পায়। এবং ধর্ষকের যেন কঠোর বিচার দ্রুত কার্যকর করা হয়। (আব্দিল বার্র, আল-ইস্তিযকার ৭/১৪৬) — Sharia Law

December 14 2023

115

ঈমান-আকীদা

ইসলাম একমাত্র আল্লাহর মনোনীত ধর্ম। ইসলাম একমাত্র মুক্তির পথ। ইসলাম ছাড়া মুক্তি নেই।

যে কেও জেনেছে, ইসলাম নামে একটি দ্বীন আছে যা এক আল্লাহর কথা বলে এবং সে রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ)-এর রিসালাতের খবর শুনেছে, তার জন্য ইসলাম ছাড়া পরকালে মুক্তির আর কোন উপায় নেই। এবং রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ)-এর অনুসরণ ছাড়াও কারো জন্য অন্য কোন পথ অনুসরণ বৈধ নয়। এমনকি মুসা (আঃ)-ও যদি থাকতেন তবে তার জন্য আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর অনুসরণ ছাড়া অন্য কিছু বৈধ হতো না। আল্লাহ বলেছেন- إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম। যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত।’ (সূরা আল ইমরান ১৯ ও ৮৫) রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) এর স্পষ্ট বানী- আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেছেন, قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ لاَ تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا وَلاَ تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا ‏. ‘ঈমানদার ছাড়া কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।’ (সহিহ মুসলিম ৯৮, মান: সহিহ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الْمُوجِبَتَانِ فَقَالَ ‏”‏مَنْ مَاتَ لاَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ مَاتَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ النَّارَ‏”‏. ‘এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর সামনে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করল-ইয়া রসূলুল্লাহ! ওয়াজিবকারী (অবশ্যম্ভাবী) দু’টো বিষয় কি? তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে কোন কিছু শারীক না করে যে ব্যক্তি মারা যাবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছু শারীক করা অবস্থায় মারা যাবে সে জাহান্নামে যাবে।’ (সহিহ মুসলিম ১৭০, মান: সহিহ) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেন, “‏وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لاَ يَسْمَعُ بِي أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ يَهُودِيٌّ وَلاَ نَصْرَانِيٌّ ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ إِلاَّ كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ‏”‏‏.‏ ‘সে সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! ইয়াহুদী হোক আর খৃস্টান হোক, যে ব্যক্তিই আমার এ রিসালাতের খবর শুনেছে অথচ আমার রিসালাতের উপর ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করবে, অবশ্যই সে জাহান্নামী হবে।’ (সহিহ মুসলিম ২৭৯, মান: সহিহ) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَنَّهُ قَالَ وَالَّذِى نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لاَ يَسْمَعُ بِى أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ يَهُودِىٌّ وَلاَ نَصْرَانِىٌّ ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِى أُرْسِلْتُ بِهِ إِلاَّ كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ ‘যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ আছে, সেই সত্তার কসম! এই জাতির যে কেউ ইয়াহুদী হোক বা খ্রিস্টান আমার কথা শুনবে, অতঃপর যা দিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি, তার প্রতি ঈমান আনবে না, সেই জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (মুসলিম ৪০৩, হাদিস সম্ভার ১৫০৮, মান: সহিহ)

December 14 2023

198

সংশয় নিরসন

ইসলামি শরীয়তের পরিভাষা: “ইমাম” “ওয়ালিয়ুল আমর” “রাষ্ট্রপ্রধান” “সরকার”

বর্তমান ইলমি ও ফিকরি ময়দানে অন্যতম একটি সংকট হল পরিভাষা সংক্রান্ত। পরিভাষাকে এড়িয়ে গিয়ে আমরা শব্দের মারপ্যাঁচে নিজেদের মূল্যায়নকে ক্রিয়েট করছি। ইসলামি শরীয়তের পরিভাষা কিংবা অন্য কোন মতবাদের পরিভাষা- উভয়ক্ষেত্রেই সমভাবে আমরা এই ভুলটি করে যাচ্ছি। ফলে একদিকে ইসলামী শরীয়তের নানা বিধান বিকৃতি সাধন হচ্ছে। যেমন জিহাদ, কিতাল, ইমামাত, খিলাফাত ইত্যাদি শর’য়ী বিষয়। অন্যদিকে বহিরাগত কুফুরি মতাদর্শ ইসলামে প্রবেশ করার সুযোগ পাচ্ছে। যেমন গণতন্ত্র, সেকুলারিজম ইত্যাদি পশ্চিমা আদর্শ। কুরআন সুন্নাহ এবং ফিকহের কিতাবগুলোতে বর্ণিত “ইমাম” কিংবা “ওয়ালিয়ুল আমর” নিছক কোন শব্দ নয়। এগুলো হল শর’য়ী পরিভাষা। এই পরিভাষাগুলোর সাথে ইসলামী শরীয়তের অনেক বিধান সম্পৃক্ত। নিছক শাব্দিক দৃষ্টিকোণ থেকে “রাষ্ট্রপ্রধান” কিংবা “সরকার” অর্থ তুলে এর পারিভাষিক বিধানকে প্রয়োগ করা ইলমি খিয়ানত। ইসলামী শরীয়তে পারিভাষিকভাবে যাকে ইমাম বলে বর্তমান রাষ্টপ্রধানদের উপর তা কার্যকর হয় না।

December 14 2023

121

আমল ও আত্মশুদ্ধি

“তোমরা মৃতদের গালি দিও না, কেননা তারা অবশ্যই যা আমল করে সামনে পাঠিয়েছে তার কাছে পৌঁছে গেছে” - হাদিসটির ব্যাখ্যা।

একটা হাদিস উল্লেখ করে অনেকেই আমভাবে সকল মৃত সম্পর্কে অপছন্দনীয় কথা বলতে নিষেধ করেন, হাদিসটি হচ্ছে- لاَ تَسُبُّوا الأَمْوَاتَ، فَإِنَّهُمْ قَدْ أَفْضَوْا إِلَى مَا قَدَّمُوا . “তোমরা মৃতদের গালি দিও না, কেননা তারা অবশ্যই যা আমল করে সামনে পাঠিয়েছে তার কাছে পৌঁছে গেছে” . . এটা সহিহ বুখারির ১৩৯৩ নং হাদিস, এখানে أفضی إلی অবগত হওয়া অর্থও নির্দেশ করে।. . যাই হোক এই হাদিসের বাহ্যিক অর্থ এমনিতেও কেবল গালিগালাজ ও লানত করা থেকে নিষেধ করেছে। যাইদ বিন মুনির বা অন্য যারা এ থেকে আম হুকুম নিয়েছেন ইমাম ইবন হাজার(রাহ) ফাতহুল বারিতে তার জবাব দিয়েছেন।. . এই বাবের শুরু থেকে হাদিস পর্যন্ত ইবন হাজার(রাহ) আলোচনা করেছেন, সারমর্ম এই অল্প কথায় এসে যায়-. . وأصح ما قيل في ذلك أن أموات الكفار والفساق يجوز ذكر مساويهم للتحذير منهم والتنفير عنهم وقد أجمع العلماء على جواز جرح المجروحين من الرواة أحياء وأمواتا . . “সর্বাধিক সঠিক মত হচ্ছে এটা যা বলা হয় যে কাফির ও ফাসিকদের দোষত্রুটিসমূহ (খারাপ দিকসমূহ) তাদের থেকে সতর্ক করতে ও তাদের থেকে (অন্যদের) তাড়ানোর জন্য উল্লেখ করা জায়েয। আলিমগণ একমত যে ত্রুটিপূর্ণ বর্ণনাকারীদের জার্হ করা জায়েয, তা সে জীবিত হোক বা মৃত”- ফাতহুল বারী: ৩/২৫৯ , অনুরূপ আলোচনা ইমাম আইনীও(রাহ.) করেছেন।. . যাই হোক, আজকাল জালিম তো দূর কি বাত দেখছি আহলে বিদ’আহ মারা যাবার পরও অনেকে শোক প্রকাশ করছেন। ওকে, এটা আপনাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এ বিষয়ে আমার বলবার কিছু নাই। তবে আমি সালাফের কিছু ঘটনা উল্লেখ করব যা অন্যদের প্রেরণা দেবে-. . 1) ইমাম আবু বকর আল খাল্লাল(রাহ.) বলেন- قيل لأبي عبد الله — أي : الإمام أحمد بن حنبل — : الرجل يفرح بما ينزل بأصحاب ابن أبي دؤاد ، عليه في ذلك إثم ؟ قال : ومن لا يفرح بهذا ؟ . . “আবু আব্দিল্লাহ অর্থাৎ ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল(রাহ.) কে বলা হল ইবন আবি দুওয়াদের সংগীদের ওপর যে মুসিবত এসেছে তা জেনে লোকেরা আনন্দিত হচ্ছে। এতে কি তাদের গুনাহ হচ্ছে? তিনি বললেন, এতে কে আনন্দিত হবে না?”- আস সুন্নাহ্: ৫/১২১. . ইবন আবি দুওয়াদ ছিল মু’তাযিলাদের ইমাম। যে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়। . . ২) বাগদাদের আমীরদের একজন ছিল আল হাসান বিন সাফী আত তুর্কি। সে ছিল রাফিযী, শী’আ। তাঁর মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে ইমাম ইবন কাসির(রাহ.) বলেন-. . فلله الحمد والمنَّة . وحين مات فرح أهل السنة بموته فرحاً شديداً ، وأظهروا الشكر لله ، فلا تجد أحداً منهم إلا يحمد الله . . “আল্লাহইর প্রশংসা ও অনুগ্রহ (যে এ মারা গেছে)। সে যখন মারা যায় তখন আহলে সুন্নাহ অত্যন্ত আনন্দিত হয়। আর আল্লাহর শুকরিয়া খুল্লামখুল্লা প্রকাশ করে, তুমি তাদের এমন একজনকেও পাবে না যে আল্লাহর প্রশংসা করে নি”-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ১২/৩৩৮. . আজকাল আহলে সুন্নাহ বদলে গেছে।. . 3) ইমাম আবু হানিফা(রাহ.) হাম্মাদ(রাহ) হতে বর্ণনা করেন-. . بشرت ابراهيم النخعي بموت الحجاج فسجد ورايته يبكي. . “ইব্রাহীম আন নাখাঈ(রাহ.) কে হাজ্জাজের মৃত্যুর সুসংবাদ দেয়া হল, তিনি তখনই সিজদায় পড়ে গেলেন, আর আমি তাঁকে (সিজদায়) কাঁদতে দেখলাম”-তবাকাতু ইবন সা’দ: ৬/২৮০ . . এগুলোই যথেষ্ট ইন শা আল্লাহ। - উস্তাদ মানযুরুল কারীম (হাফিঃ)

December 05 2023

193

সাম্প্রতিক

নতুন শিক্ষাবর্ষের সূচনা আসুন, নিজের ব্যাপারে দায়িত্বশীল হই!

আমাদের মাদরাসাগুলোতে একটি নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়েছে আলহামদু লিল্লাহ! নতুনের শুরু আমাদের মনে নিয়ে আসে নতুন আগ্রহ, নতুন উদ্দীপনা। এ উদ্দীপনাও আল্লাহ তাআলার নিআমত। আমাদের কর্তব্য, তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করা। বর্তমান সময়টা যদিও নানা প্রতিকূলতায় ঘেরা, নতুন নতুন বাধা-বিপত্তিতে আক্রান্ত হচ্ছে আমাদের জ্ঞান-চর্চাকেন্দ্রিক কর্মতৎপরতা, তবুও নতুনের আগমন আমাদের মনে নব উদ্দীপনা এনেই দেয়। নানা রকমের শঙ্কা, প্রতিকূলতা, বাধা-বিপত্তির মধ্যেও এই উদ্দীপনাকে সজীব রেখে আমাদের জীবন-বৃক্ষ ফুলে-ফলে সুশোভিত করে তুলতেই হবে। আর সেজন্য দরকার দিনরাতের ঘাম ঝরানো পরিশ্রম আর আল্লাহ তাআলার রহমতের বারি বর্ষণের প্রার্থনা। এই দুই শর্ত পূরণ হলে আশা করা যায় আমাদের জীবনভূমি সুজলা সুফলা হয়ে উঠবে। ইলমের পথে সফলতা অর্জন করতে হলে অবশ্যই সময়কে কাজে লাগাতে হবে। সময় আমাদের মহামূল্যবান সম্পদ। মহান আল্লাহর অন্যতম প্রধান নিআমত। আমাদের প্রজ্ঞাবান পূর্বসূরিরা যেসকল বিষয়কে জীবনের সমার্থক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তার একটি হচ্ছে সময়। ইমাম হাসান বসরী রাহ.-এর তাৎপর্যপূর্ণ উক্তি - ‘হে আদমের বেটা! তুমি কয়েকটি দিনের সমষ্টি ছাড়া আর কিছু নও। একটি দিন যখন অতীত হয় তখন আসলে তোমার জীবনেরই একটি অংশ অতীত হয়।’

December 05 2023

206

সাম্প্রতিক

আর বিলম্ব না করে মাদরাসাগুলোকে চলতে দিন

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি চলছে প্রায় দুই বছর থেকে। বাংলাদেশে ২০২০-এর মার্চ মাস থেকে এ মহামারিকে উপলক্ষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে আছে। বিভিন্ন পরীক্ষা হয়নি। কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগুলোও হয়নি। পরীক্ষা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের ‘অটো পাশ’ দিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে গত শিক্ষাবর্ষে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুললেও মাদরাসাগুলো খোলা রাখার ব্যাপারে সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছিল এবং পুরো দেশে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও কওমী মাদরাসায় শিক্ষাবর্ষের শেষ মাস শাবানের আগ পর্যন্ত সুচারুরূপে লেখাপড়া হয়েছে। কিন্তু এরপর কোনো অজানা কারণে কওমী মাদরাসাগুলোকেও সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পর্যায়ে নিয়ে এসে তাদের শিক্ষাদান কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

December 05 2023

222

আমল ও আত্মশুদ্ধি

হিজাব-নিকাব হিজাবের মর্যাদা রক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

হিজাব-নিকাব আমাদের কাছে অতি পরিচিত দুটি শব্দ। শব্দদুটি মূলত আরবী শব্দ হলেও তা আমাদের ভাষার শব্দভাণ্ডারে পাকাপোক্ত স্থান করে নিয়েছে। এর স্থান বাংলাভাষী মুসলিমদের অন্তরের গভীরে। হিজাব-নিকাব স্বচ্ছ পরিচ্ছন্ন ইসলামী সংস্কৃতির অংশ। মুসলিম নারীর মর্যাদা ও আভিজাত্যের প্রতিক। যুগ যুগ ধরে চলে আসা উম্মাহর মহীয়সী নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। সর্বোপরি তা কুরআন-সুন্নাহর পর্দার বিধান পালনের উত্তম উপায়। এসব কারণে মুসলিম-মানসে হিজাব-নিকাবের স্থান অত্যন্ত গভীরে। এটি একটি পোশাকমাত্র না, এর সাথে জড়িয়ে আছে মুসলিম নারী-পুরুষের ধর্মীয় আবেগ, মহান আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের পবিত্র প্রেরণা, উন্নত ও নির্মল ঐতিহ্যের অনুসরণ, সংযম, সচ্চরিত্র ও লজ্জাশীলতার মতো উন্নত চারিত্রিক গুণাবলির অনুশীলন। এইসব জিনিসের গুরুত্ব উপলব্ধি করার মতো জ্ঞানগত ও চিন্তাগত যোগ্যতা যাদের আছে, তারা হিজাব-নিকাবের গুরুত্বও উপলব্ধি করতে পারবেন।

December 05 2023

188

সাম্প্রতিক

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দ্রব্যমূল্য, লোডশেডিং ও ভবিষ্যতের শঙ্কা : কিছু কথা

মুসলিম জাহানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত- হজ¦ ও কুরবানী সমাপ্ত হয়েছে। এই দুই ইবাদতকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের মাঝে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছিল। আল্লাহর স্মরণ ও আল্লাহমুখিতার পবিত্র অনুপ্রেরণা কিছুটা হলেও আমাদের দোলা দিয়েছিল। চিন্তা করলে দেখা যাবে, একমাত্র আল্লাহর স্মরণই আমাদের জীবন ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। আমাদের চারপাশে কষ্টের ব্যাপারগুলো বাড়ছে। দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতি, লোডশেডিং, ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এগুলো আমাদের কর্মেরই ফসল। কুরআন-সুন্নাহ্য় মানুষের ব্যক্তি-জীবন ও সামাজিক জীবনের ব্যাধিগুলো খুব পরিষ্কারভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই ভয়াবহ ব্যাধিগুলোর একটি হচ্ছে দুনিয়ার মোহ। দুনিয়ার মোহগ্রস্ত মানুষ অর্থ-সম্পদের ব্যাপারে এমনই আসক্ত হয়ে পড়ে যে, কিছুতেই তার পেট ভরে না। এর সাথে যখন আল্লাহর ভয় ও আখেরাতের জবাবদিহিতার অনুভূতি বিলুপ্ত হয়ে যায় তখন কোনো ব্যবস্থাই ব্যক্তি ও সমাজকে সহজ-স্বভাবিক অবস্থায় ধরে রাখতে পারে না।

December 05 2023

202

আদাব ও আখলাক

সাম্প্রতিক ইস্যু অসংযত, অতিউৎসাহী আচরণ থেকে নিবৃত্ত হোন

সম্প্রতি মেয়েদের লেবাস-পোশাক ও সাফ ফুটবলে শিরোপাপ্রাপ্তিকে কেন্দ্র করে একটি মহল থেকে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ন্ত্রিত আচরণ প্রকাশিত হতে দেখা যাচ্ছে। মানুষের আচার-ব্যবহারে অনেক কিছুই প্রকাশিত হয়। শব্দ-বাক্যের চাতুর্য আর উপস্থাপনার কলা-কৌশল দ্বারা সবকিছু ঢাকা যায় না। তাই এই সবকিছুর মধ্য দিয়েও ইসলাম ও ইসলামের সংযত-শালীন জীবনব্যবস্থার প্রতি একশ্রেণির মানুষের চরম বিদ্বেষ প্রকাশিত হয়েই পড়ে। জীবনের সকল অঙ্গনে ইসলাম মানুষকে সুস্থ-সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে। সঠিক বিশ্বাস, ভারসাম্যপূর্ণ চেতনা, আল্লাহমুখী জীবনবোধ ও সংযত-শালীন জীবনধারা ইসলামী জীবনব্যবস্থার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। একারণেই ইসলাম ভোগবাদী জীবন-দর্শনের প্রধান শত্রুরূপে পরিগণিত। ইসলাম যতই মানবতার, উদারতার ও সহনশীলতার কথা বলুক- যেহেতু ইসলামী জীবনব্যবস্থার মধ্যেই সংযমী জীবনাচারের অত্যন্ত শক্তিশালী শিক্ষা ও বিধান আছে তাই একশ্রেণির মানুষ কিছুতেই ইসলামের শিক্ষা-দীক্ষাকে সহ্য করতে পারে না। কিন্তু এ তো স্পষ্ট কথা যে, জলাতঙ্ক-রোগে আক্রান্ত কারো কাছে পানি যতই ভীতি ও আতঙ্কের কারণ হোক- এতে পানির কোনো দোষ নেই। ঐ ব্যাধিগ্রস্তের চিকিৎসাই এখানে মুখ্য প্রয়োজন।

December 05 2023

190

অন্যান্য

শিক্ষা পাঠ্যপুস্তকের অনৈতিকতা : কিছু সাধারণ কথা

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষার মাধ্যমেই কোনো জাতি শক্তিমান জাতি হিসেবে গড়ে ওঠে। কিন্তু জাতির মেরুদণ্ডের পরিচর্যা যদি মেরুদণ্ডহীন লোকদের হাতে ন্যস্ত হয় তখন সেই জাতির ভবিষ্যত কত ভয়াবহ হতে পারে তা খুব সহজেই অনুমেয়। সম্প্রতি যে বিষয়গুলো সামনে আসছে তা একটি জাতির জন্য রীতিমত রোমহর্ষক। যারা এই দেশ ও জাতির ভবিষ্যত নিয়ে আন্তরিকতার সাথে ভাবেন তাদের অবশ্যই এই অবক্ষয় রোধে সর্বশক্তি নিয়োজিত করতে হবে। জাতির কর্ণধারদের এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলার কাছে জবাবদিহি করতে হবে। ইসলাম মানুষকে ভালো-মন্দের পরিষ্কার সীমারেখা দান করেছে। ঈমানী শিক্ষা মানুষকে আল্লাহকে ভয় করতে ও ভালবাসতে শেখায় এবং আল্লাহপ্রদত্ত সীমারেখা মেনে চলতে প্রস্তুত করে। এই সীমারেখা মেনে চলার চর্চা যারা করেন তাদের মধ্যে সৌজন্য, সংযম, শালীনতা ও লজ্জাশীলতা তৈরি হয়। একজন সৎ-সজ্জন মানুষের জন্য এইসকল বৈশিষ্ট্যের কোনো বিকল্প নেই। অন্যদিকে যে সমাজ থেকে আল্লাহপ্রদত্ত ভালো-মন্দের সীমারেখা বিলুপ্ত হতে থাকে, তা লঙ্ঘন করতে তারা উৎসাহিত হতে থাকে, সেই সমাজ থেকে শুধু একান্ত ধর্মীয় বিষয়গুলোই বিলুপ্ত হয় না, স্বাভাবিক মানবীয় বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলির ক্ষেত্রেও ভয়াবহ অবক্ষয়ের বিস্তার ঘটতে থাকে। মিথ্যা-প্রতারণা, পরস্বহরণ, হিংস্রতা, পরশ্রীকাতরতা থেকে শুরু করে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, লুটপাট, রক্তপাত, ইজ্জত-আব্রু লুণ্ঠন পর্যন্ত সব রকমের অনাচারই সংঘটিত হতে থাকে। এই সত্য আজ আমাদের গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে। সমাজের সর্বস্তরে ঈমানের আলো বিস্তারে সব রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঈমান ইসলাম পরিপন্থী নানা বিষয়ের প্রচার-প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যেসকল অপপ্রয়াস চলে প্রত্যেকে স্ব স্ব অঙ্গন থেকে সেসবের খণ্ডন ও প্রতিরোধে পূর্ণ শক্তি ব্যয় করতে হবে।

December 05 2023

193

সাম্প্রতিক

আরবলীগের জেদ্দা সম্মেলন ও সোনায় মোড়ানো জিলাপি

মে ২০১২ সালে আলকাউসারে ‘আরববিশ্বে জিহাদের প্রত্যাবর্তন’ শিরোনামে একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। তাতে জানা গিয়েছিল, পুরো আরববিশ্ব সিরিয়া ও তার শাসক বাশার আলআসাদের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছে। এবং তার বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানকে জিহাদ আখ্যা দিচ্ছে। যদিও ইতিপূর্বে দীর্ঘদিন থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে (বর্তমানের মতো) জিহাদ শব্দ প্রায় অনুচ্চারিতই হয়ে গিয়েছিল। এমনকি মসজিদের খতীবগণও কুরআন মাজীদের জিহাদের আয়াতগুলো এবং এ বিষয়ক হাদীসগুলো এড়িয়ে চলতেন। কিন্তু তখন রাতারাতি পরিস্থিতি পাল্টে দেওয়া হয়েছিল। হারামাইনসহ মসজিদে মসজিদে জিহাদের ফযীলতের ওয়াজ এবং সিরিয়ার বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানকে জিহাদ আখ্যাদান তখনকার নিয়মিত ঘটনা ছিল।

December 05 2023

175

সাম্প্রতিক

মাদরাসা ছাত্র হত্যাকাণ্ড : এ নৃসংশতার কি কোনো প্রতিকার নেই?

মাদরাসার ছাত্র রেজাউল করিম হত্যার পর তো অনেক দিন পার হয়ে গেল। কোনো বিচার শুরু হয়েছে বলে শোনা যায়নি। কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও খবর পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যে পাঠকবৃন্দ জেনে গেছেন-‘রাজধানীর গুলিস্তানে ‘শান্তি সমাবেশ’শেষে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত রেজাউল করিম (২১) যাত্রাবাড়ীর একটি মাদরাসায় পড়তেন। কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না তিনি। রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন ঢামেকের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরা। এর আগে ঘটনার দিন রাতে সিআইডির একটি দল ময়নাতদন্ত করে। রোববার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

December 05 2023

161

সাম্প্রতিক

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতি এ দুঃসময়ে দরকার ব্যাপক সরকারি পদক্ষেপ

দ্রব্যমূল্য ক্রমেই আমজনতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। মধ্যবিত্তের একরকম সমস্যা, নিম্নবিত্তের আরেক রকম সমস্যা। বাচ্চাদের মাদরাসা-স্কুল ফি, বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস সিলিন্ডার ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে সকলের। অন্যদিকে বিজ্ঞমহলের মতে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্মরণকালের ভয়াবহ খারাপ অবস্থায় রয়েছে। যতই দিন যাচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও কমছে। সৎ ব্যবসায়ীরা আছেন চরম চাপ ও কষ্টে। একশ্রেণির বাড়তি সুবিধাভোগী গুটিকতেক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট (খোদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ভাষায়) নিয়ন্ত্রণ করছে নিত্যপণ্যের পুরো বাজার। ভাবে বোঝা যায় তাদের কাছে সরকারও জিম্মি। অর্থাৎ তারা ক্ষমতাবানদের চেয়েও বড় ক্ষমতাবান। সকল ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এমতাবস্থায় আমজনতার কাহিল অবস্থা দেখার মনে হয় কেউ নেই। ক্ষমতাসীনেরা বিভিন্নভাবে প্রায় দেড় দশক ধরে ক্ষমতার স্বাদ ভোগ করছে। তবুও তাদের পেট ভরছে না। তারা দেশ-বিদেশে দৌড়ঝাঁপ দিচ্ছেন অনন্তকাল ক্ষমতায় টিকে থাকতে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর দৌড়ঝাঁপÑ ভবিষ্যতে তারা কীভাবে ক্ষমতায় আসবে তা নিয়ে। তাহলে জনগণকে দেখবে কে?

গাজায় ইসরাইলের বর্বরতা গাজাবাসীর জন্য দুফোঁটা অশ্রু!

December 01 2023

232

সাম্প্রতিক

গাজায় ইসরাইলের বর্বরতা গাজাবাসীর জন্য দুফোঁটা অশ্রু!

মাসের শুরুতেই পাঠকের হাতে আলকাউসার তুলে দিতে আগের মাসের ২১ তারিখেই পত্রিকা প্রেসে চলে যায়। মাঝে মাঝে এর ব্যত্যয় ঘটলেও সাধারণত এই নিয়ম রক্ষার চেষ্টা করা হয়। সেই হিসেবে অক্টোবরের শুরু থেকেই নভেম্বর ২০২৩ সংখ্যাটির কাজ পুরোদমে চলছিল। অনেক দূর অগ্রসরও হয়ে গিয়েছিল। এরইমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ঘটে যায় ঐতিহাসিক ঘটনা। সংঘটিত হয় ফিলিস্তিনী মুক্তিকামী সংগঠন হামাসের সামরিক অভিযান ‘তূফানুল আকসা’। তারপর থেকে চলছে ফিলিস্তিন জাতি নিধনে দখলদার ইসরাইলের বর্বর গণহত্যা। তারা মুহুর্মুহু বোমা হামলায় গাজাবাসীর কেবল ঘর-বাড়ি-বসতভিটাই ধ্বংস করছে না; বরং হত্যা করছে নারী-শিশুসহ হাজার হাজার নিরপরাধ বেসামরিক লোকজনকে।