লিখুন ডট কম || ০৮ জুন ২০২৬

প্রবন্ধ-নিবন্ধ

August 02 2025

93

সংশয় নিরসন

ইমাম আবু হানিফা রাহ. কি সত্যিই মুরজিআ ছিলেন?

#ভূমিকাঃ মুরজিআ একটি বিভ্রান্ত ও বেদআতি ফেরকার নাম। এরা আবার বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত। তাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ বক্তব্য হচ্ছে: “পাপাচার ঈমানের জন্য ক্ষতিকর নয়, যেভাবে কুফরি থাকলে নেককাজ কোনো উপকারী নয়।” আহলেসুন্নাহ ওয়াল-জামাআত সর্বসম্মতিক্রমে এ মতবাদকে ভ্রান্ত ও বেদআত মনে করেন। ইমাম আবু হানিফা রাহ. থেকেও এমন কোনো বক্তব্য নেই। তবে ঈমানের ‘হকিকত’ নিয়ে জুমহুর আয়িম্মা ও আবু হানিফার মাঝে কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে। #বিরোধের সূত্রপাতঃ জুমহুরের মতে ঈমান হচ্ছে মুরাক্কা বা যৌগিক। অন্তরের বিশ্বাস-আমল-কর্ম ও মৌখিক স্বীকারোক্তি, তিনের সমন্বিত রূপের নাম ঈমান। আর আবু হানিফার মতে অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাস এবং মৌখিক স্বীকারোক্তির নামই ঈমান। কিন্তু আমল ঈমানের মৌলিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং তা ঈমানের মুকাম্মিল বা পরিপূরক। আর এ বিরোধকে আমি লফজি-শাব্দিক বিরোধ মনে করি। বাস্তবিক অর্থে তাঁদের মধ্যে কোনো বিরোধই নেই। কিন্তু যারা এ বিরোধকে হাকিকি বিরোধ মনে করেন এবং আমলকে ঈমানের ‘রুকনে আসলি’ তথা মৌলিক অংশ জ্ঞান করেন, তাদের ওপর বেশকিছু আপত্তি উত্তাপিত হয়। সে আপত্তি, তার জবাব ও পাল্টা জবাবের প্রেক্ষিতে আমরা প্রমাণ করব — এ বিরোধ স্রেফ লফজি। #আপত্তিঃ ‘আমল’ যদি ঈমানের ‘রুকনে আসলি’ তথা মৌলিক অংশ হয়, তাহলে ভ্রান্ত খারেজি কিংবা মু’তাযিলিদের মাজহাব গ্রহণ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। কারণ, রুকনের কোনো ফরদ/ন্যূনতম অংশ ছেড়ে দেয়া মানে ব্যক্তি কাফের হওয়া সুনিশ্চিত। অর্থাৎ কেউ মাঝেমধ্যে সালাত পরিহার করলে বা যাকাত না-দিলে কিংবা সিয়াম ভঙ্গ করলে কাফের হয়ে যাওয়ার কথা। এখন যদি বলেন ‘এ ক্ষেত্রে সে (এসব আমলে কমতি থাকায়) কাফের এবং ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত’, তবে তা হবে খারেজিদের মাজহাব। আর যদি বলেন ‘সে কাফেরও না আবার মুসলিমও না’, (منزلة بين المنزلتين) তাহলে তা হবে মু’তাযিলিদের মাজহাব। আর এ উভয় মাজহাবই আহলে সুন্নাহর নিকট নিকৃষ্ট বেদআত। তাঁরা যুগে যুগে এদের রদ্দ করে এসেছেন। এ আপত্তি থেকে বাঁচতে জুমহুরের পক্ষ থেকে বলা হয়, আমল ঈমানের অংশ বলতে ‘জিনসে আমল’ উদ্দেশ্য। অর্থাৎ ব্যক্তি যদি আমল সম্পূর্ণরূপে পরিহার করে, তবেই সে কাফের হবে, কিছু কমতির ফলে কাফের হবে না। খারেজি আর মু’তাযিলিদের সঙ্গে তাঁদের পার্থক্য এখানেই। তবে, এ জবাব খুরুজ আর ই’তেযাল থেকে বাঁচাতে পারলেও তা সহিহ ও সরিহ অনেক হাদিসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেগুলোতে আমলবিহীন অনেক মানুষ জান্নাতে যাওয়ার কথা বিবৃত হয়েছে। যেমনঃ

August 02 2025

88

ঈমান-আকীদা

এই কালিমা তাদেরকে জাহান্নাম থেকে রেহাই দিবে

নাবি আলাইসিস সালাম যখন কাকুতিমিনতি করবেন, তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন — . ‎فَيَقُولُ: وَعِزَّتِي وَجَلاَلِي، وَكِبْرِيَائِي وَعَظَمَتِي لَأُخْرِجَنَّ مِنْهَا مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ . “আমার ইজ্জত‌ ও পরাক্রম এবং আমার বড়ত্ব ও মহত্ত্বের শপথ! যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে, আমি অবশ্যই অবশ্যই তাদের সবাইকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনব।” [বুখারি-৭৫১০, মুসলিম-১৯৩] . ‎عن حذيفة بن اليمان، قال: قال رسول الله — صلى الله عليه وسلم -: “يدرس الإسلام كما يدرس وشي الثوب، حتى لا يدرى ما صيام ولا صلاة ولا نسك ولا صدقة…وتبقى طوائف من الناس، الشيخ الكبير والعجوز، يقولون: أدركنا آباءنا على هذه الكلمة: لا إله إلا الله، فنحن نقولها”. . “হুজায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, নাবি আলাইসিস সালাম বলেন — ইসলাম মুছে যাবে যেভাবে কাপড়ের নকশা (ধীরে ধীরে) মুছে যায়। শেষমেশ এমন হবে যে, মানুষ জানবেই না সিয়াম কী সালাত কী, কুরবানি কী, সাদাকাহ কী।… তখন একদল বৃদ্ধ নারী-পুরুষ থাকবে, যারা বলবে: আমরা আমদের পিতৃপুরুষদের এই কালিমা তথা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’র ওপর পেয়েছি। তাই আমরাও এটিই বলি। . ‎فقال له صلة : ما تغني عنهم لا إله إلا الله، وهم لا يدرون ما صلاة ولا صيام ولا نسك ولا صدقة؟ فأعرض عنه حذيفة، ثم ردها عليه ثلاثا، كل ذلك يعرض عنه حذيفة، ثم أقبل عليه في الثالثة، فقال:يا صلة، تنجيهم من ‎النار، ثلاثا . তখন তাবেঈ সিলাহ বিন যুফার রাহ. হুজায়ফা রা-কে বললেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” তাদের কী কজে আসেব, যখন তারা জানবেই না যে, সালাত কী, সিয়াম কী, কুরবানি কী? হুজায়ফা রা. তার উত্তর না-দিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। সিলাহ তিন বার এ প্রশ্ন পুনরাবৃত্তি করলেন। হুজায়ফা প্রত্যেকবার তার প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন। তৃতীয় বারে তিনি তার দিকে ফিরে বলেন: হে সিলাহ! এই কালিমা তাদেরকে জাহান্নাম থেকে রেহাই দেবে। তিনি কথাটি তিন বার বললেন।” [ইবনু মাজাহ — ৪০৪৯ মান: সহিহ] . “আনাস রা. থেকে বর্ণন, নাবি আলাইসিস সালাম বলেন — . ‎عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: «يَقُولُ اللهُ: أَخْرِجُوا مِنَ النَّارِ مَنْ ذَكَرَنِي يَوْمًا» أَوْ خَافَنِي فِي مَقَامٍ. . আল্লাহ বলবেন, জাহান্নাম থেকে তাকেও বের করে আনো, যে কোনো একদিন আমাকে স্মরণ করেছে বা কোনো একস্থানে আমাকে ভয় পেয়েছে।” [তিরমিজি — ২৫৯৪, আস-সুন্নাহ, ইবনু আবি আসিম — ৮৩৩, মানঃ হাসান] . নাবি আলাইসিস সালাম বলেন — . ‎مَا مِنْ عَبْدٍ يَشْهَدُ أَن لاَ إلهَ إلاَّ الله وَأنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ صِدْقاً مِنْ قَلْبِهِ إلاَّ حَرَّمَهُ الله عَلَى النَّار قَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ أفَلاَ أُخْبِرُ بِهَا النَّاس فَيَسْتَبْشِرُوا ؟ قَالَ إِذاً يَتَّكِلُوا فأخبر بِهَا مُعاذٌ عَندَ موتِه تَأثُّما. . “যে কোন বান্দা খাঁটি মনে সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কেউ (সত্য) উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সা. তাঁর বান্দা ও তাঁর রসূল, তাকে আল্লাহ তা’আলা দোযখের জন্য হারাম করে দেবেন। মুআজ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি লোকেদেরকে এই খবর বলে দেব না, যেন তারা (শুনে) আনন্দিত হয়? তিনি বললেন, তাহলে তো তারা (এর উপরই) ভরসা করে নেবে (এবং আমল ত্যাগ করে বসবে)। অতঃপর মুআজ (ইলম গোপন রাখার) পাপ থেকে বাঁচার জন্য তাঁর মৃত্যুর সময় (এ হাদীসটি) জানিয়ে দিয়েছিলেন।” [বুখারী ১২৮, মুসলিম ১৫৭] . আর এ দিক বিবেচনায় জুমহুর আয়িম্মায়ে কেরাম আমলের গুরুত্ব বুঝাতে এবং আমলের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত রাখতে তা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, রুকনে আসলি বা মৌলিক অংশ হিসেবে নয়।” — মোহাম্মদ আব্দুল হক হাফি. . আরেকটি মজবুত দলীল হল ঐ হাদিস যেখানে আল্লাহ কিয়ামতের মাঠে একজনকে তার ৯৯টি গুনাহের খাতা দেখাবেন যার কালিমা ছাড়া আর কোন নেক আমল ছিল না। কালেমা নিজেই একটি আমল। তাওহীদ নিজেই একটি লাগাতার আমল। যা তাকে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হওয়া থেকে আটকাবে। হাদীস সহীহ : তিরমিযী হা/২৬৩৯ ইবনু আবি যাইদ রহি. সহ আরও কিছু ফকিহ দাবী করেন যে যুহুদ (অস্বীকার) ব্যতীত ফরজসমূহ তরককারী কাফের নয় বরং ফাসেক৷ ইজমায়ে উম্মাহ হলো — তাদের জানাজা পড়ানো হবে, ইসলাম অনুযায়ী তাদের মিরাস বন্টিত হবে এবং মুসলিমদের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে৷ (শরহে বুখারী লি ইবনি বাত্তলঃ8/579)

August 02 2025

82

ঈমান-আকীদা

আমলহীন ব্যক্তি জান্নাতে যাবে? কোন আমল না করে কেও কি জান্নাতে প্রবেশ করবে?

শাফাআতের প্রসিদ্ধ ও দীর্ঘ হাদিসের শেষাংশে এসেছে, ‎فَيُخْرِجُ مِنْهَا قَوْمًا لَمْ يَعْمَلُوا خَيْرًا قَطُّ قَدْ عَادُوا حُمَمًا অতঃপর আল্লাহ জাহান্নাম থেকে এমন একদলকে বের করবেন, যারা কখনোই কোনো আমল করে নাই। আগুনে পুড়ে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। [মুসনাদে আহমদ — ১১৮৯৮, পড়ুন — মুসলিম ৩৪৩, বুখারী ২২, ৬৫৬০; মুসনাদে আহমদ — ১১৮৯৮] ইমাম ইবনুল কায়্যিম রাহ. বলেন, “হাদিসের ভাষ্য থেকে পরিষ্কার যে, এরা কোনো নেক কাজ করে নাই। স্রেফ আল্লাহর রহমত এদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করবে।” [হাদিল আরওয়াহ — ২/৭৮০] নাবি আলাইসিস সালাম যখন কাকুতিমিনতি করবেন, তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন — ‎فَيَقُولُ: وَعِزَّتِي وَجَلاَلِي، وَكِبْرِيَائِي وَعَظَمَتِي لَأُخْرِجَنَّ مِنْهَا مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ “আমার ইজ্জত‌ ও পরাক্রম এবং আমার বড়ত্ব ও মহত্ত্বের শপথ! যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে, আমি অবশ্যই অবশ্যই তাদের সবাইকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনব।” [বুখারি-৭৫১০, মুসলিম-১৯৩] ইমাম ইবনু রজব আল-হাম্বলি রাহ. বলেন — “শাফাআত সংক্রান্ত হাদিসে সহিহ বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে — নাবি আলাইসিস সালাম বলেন, “…..তখন আমি বলব, ‘হে আমার প্রভু! আমাকে অনুমতি দিন তাদের ব্যাপারে, যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে।’ তখন আল্লাহ বলবেন, ‘আমার সম্মান, আমার গৌরব, আমার মহত্ত্ব এবং আমার শ্রেষ্ঠত্বের শপথ! আমি তাদের জাহান্নাম থেকে বের করে দেব, যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে।’ সহিহ মুসলিমে আরও এসেছে: ‘তখন আল্লাহ বলবেন, এটি তোমার এখতিয়ারের বিষয় নয়, অথবা এটি তোমার কাজ নয়।’ ইবনু রজব রাহ. বলেন — وهذا يدل عَلَى أن الذين يخرجهم الله برحمته، من غير شفاعة مخلوق، هم أهل كلمة التوحيد، الذين لم يعملوا معها خيرًا قط بجوارحهم. “এটি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, যারা আল্লাহর (স্পেশাল) রহমতে কোনো মাখলুকের শাফাআত ছাড়াই জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে, তারা সেই লোক যারা তাওহিদের কালিমা (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) উচ্চারণ করেছে, কিন্তু শরীরের কোনো অঙ্গ দিয়ে এর সাথে কোনো নেক আমল করে নি।” — [আত-তাখউইফ মিনান নার ওয়া আত-তারিফ বিহাল দারিল বাওয়ার, পৃষ্ঠা ৩৬৪]

December 23 2023

45

ঈমান-আকীদা

বিদআতিদের সম্পর্কে সালাফগণের অবস্থান

বিদ'আতির সাথে বসো না ,কারণ আমি ভয় পাই যে তোমার উপর লানত নাযিল হবে। 📖[ইবনে বাত্তাহ, আল-ইনাবাহ (২/৪৫৯)] বিদ‘আতীদের রদ করা আল্লাহ’র রাস্তায় জিহাদ করার শামিল। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “বিদ‘আতীদের রদকারী একজন মুজাহিদ। এমনকি ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া বলেছেন, ‘সুন্নাহকে ডিফেন্ড করা সর্বোত্তম জিহাদ’।” 📖[নাক্বদ্বুল মানত্বিক্ব, পৃষ্ঠা: ১২; গৃহীত: শাইখ খালিদ বিন দ্বাহউয়ী আয-যাফীরী (হাফিযাহুল্লাহ), ইজমা‘উল ‘উলামা ‘আলাল হাজরি ওয়াত তাহযীরি মিন আহলিল বিদা‘; পৃষ্ঠা: ১০৪] ফুদাঈল বিন ঈয়াদ রাহিমাহুল্লাহ (মৃ-১৮৭ হি.) বলেন, ❝ আমার সাক্ষাত হয়েছে সুন্নাতের অনুসারী শ্রেষ্ঠ মনিষিদের সাথে এবং তারা বিদ'আতীদের সাথে মিশতে নিষেধ করতেন ❞ 📖[আল-লালাকাঈ,২৬৭] রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সাহাবী ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, ❝আহালুল হাওয়া (প্রবৃত্তির অনুসারী/বিদ'আতী) এর সাথে বসবে না,কারণ তাদের (সাথে) সমাবেশ -অন্তরের রোগ।❞ 📖 [আজূর্রি আস শারিয়াহ(১/১৯৬, নং ১৩৯); লালাকাঈ ,শারহু উসূলি ই'তিক্বাদু আহালুস সুন্নাহ ওয়াল জাম'আত(২/৪৩৮); আশ-শারিয়াতু লিলাযরীঈ(১/৪৫২)] ইবরাহীম নাখয়ী (রহ.) বলেন, বিদাতীদের নিকট বসো না, তাদের সাথে কথা বলো না। আমি আশংকা করি যে তারা তোমাদের অন্তরকে প্রভাবিত করে ফেলবে। 📖 [‘আল-বিদা‘ ওয়ান নাহয়্যু আনহা’’ পৃ. ৫৬, আল-ই‘তিছাম ০১/১৭২] শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমীয়া (রহ.) বলেন-- বিদাতীদের অনিষ্ট বিষয়ে বলেন, যদি কেউ তাদের মুক্বাবিলা না করত তাহলে দীন ধ্বংস হয়ে যেত। যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুদলের আক্রমণ থেকে তাদের আক্রমণ মারাত্মক। কেননা তারা বিজয়ী হলে শুধু আনুগত্যই করে নিতে পারে; মন-মানসিকতা এবং দীন ধ্বংস করতে পারে না। পক্ষান্তরে বিদাতীরা প্রথমেই মন-মানসিকতা নষ্ট করে দেয়। 📖 [মাজমূ‘ ফাতওয়া ২৮/২৩২] উসমান বিন যায়েদাহ বলেন, সুফিয়ান আমাকে উপদেশ দিয়ে বলেন, ‘বিদআতীদের সাথে ওঠা-বসা করো না।’ 📖 [আল ইবানাহ ২/৪৬৩, ৪৫২] ফিরয়াবী বলেন, ‘সুফিয়ান সওরী আমাকে অমুক বিদআতীর সংশ্রবে যেতে নিষেধ করেছেন।’ 📖 [আল ইবানাহ ৪৫৩] ইবনুল মুবারক বলেন, ‘খবরদার কোন বিদআতীর সাথে বসো না।’ 📖 [আল ইবানাহ ৪৫৪]

December 14 2023

233

দ্বীনিয়াত ও শিক্ষা

কাফের দেশে স্থায়ী বসবাস সম্পর্কে ইসলামের বিধান

অমুসলিম দেশে ৯/১১ এর মত হামলার মাসালা হল- ‘যদি হামলা করা জরুরী হয়ে পরে, কাফিররা যদি ঐ স্থানে থাকা মুসলিমদেরকে ঢাল হিসেবে ব্যাবহার করে আর কুফফারদের দল থেকে যদি মুসলিমদের আলাদা করা সম্ভব না হয়, তবে ইমামদের বক্তব্য অনুসারে তাদেরসহ কুফফারদের উপড়ে হামলা করা বৈধ। পরকালে তারা যার যার নিয়ত অনুযায়ী উঠবে। মুসলিমরা সেখানে অবস্থান করে বলে জিহাদ বন্ধ রাখা হবে না। জিহাদ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি যে অন্যান্য বিষয়গুলোর চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ । যে সকল বিষয় জিহাদকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার ঝুঁকির সম্মুখীন করে তার সবকিছুই রহিত হয়ে যাবে। মুসলিম উম্মতের বিপক্ষে কাফেরদের সুবিধার জন্য শরিয়তের দলীল ব্যাবহার কারার কোন সুযোগ নেই।' (দেখুনঃ ফাতাওয়া ইবন তাইমিয়াহ, ২৮/৫৩৭ ও ২০/৫২, আল হাশিয়া আলা আর রাওধ, ৪/২৭১, আল হিদায়া (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ জিহাদ, ২/৪৩২, ও এই বিষয়ে শাইখ আব্দুর রহমান রহিঃ এর বিস্তারিত ফতোয়া) একটি বিষয় চিন্তা করুন — ‘সেসব মুসলিম দের কি ঐ সমস্থ জায়গায় থাকার কথা?’ ‘তার দ্বীন যে ভূমিতে হুমকির মুখে সেখানে বসবাস করা কি তাদের জন্য জায়েজ?’ ‘তাদের কি হিজরত করা উচিত নয়?’ — সত্যিটা হচ্ছে তারা দ্বীন সম্পর্কে উদাসীন। ‘জায়েজ নাকি নাজায়েজ’ এতে তাদের কিছু যায় আসে না।’ একটি হাদিস দেখুন- আবুল আসওয়াদ মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহ.) থেকে বর্ণিত, عَبْدُ اللهِ بْنُ يَزِيْدَ الْمُقْرِئُ حَدَّثَنَا حَيْوَةُ وَغَيْرُهُ قَالَا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبُو الْأَسْوَدِ قَالَ قُطِعَ عَلَى أَهْلِ الْمَدِيْنَةِ بَعْثٌ فَاكْتُتِبْتُ فِيْهِ فَلَقِيْتُ عِكْرِمَةَ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَأَخْبَرْتُهُ فَنَهَانِيْ عَنْ ذَلِكَ أَشَدَّ النَّهْيِ ثُمَّ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَّ نَاسًا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ كَانُوْا مَعَ الْمُشْرِكِيْنَ يُكَثِّرُوْنَ سَوَادَ الْمُشْرِكِيْنَ عَلَى عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَأْتِي السَّهْمُ فَيُرْمَى بِهِ فَيُصِيْبُ أَحَدَهُمْ فَيَقْتُلُهُ أَوْ يُضْرَبُ فَيُقْتَلُ فَأَنْزَلَ اللهُ : {إِنَّ الَّذِيْنَ تَوَفّٰهُمُ الْمَلٰٓئِكَةُ ظَالِمِيْٓ أَنْفُسِهِمْ}الآيَةَ رَوَاهُ اللَّيْثُ عَنْ أَبِي الْأَسْوَدِ. “রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে যেসব মুসলিম মুশরিকদের সঙ্গে ছিল এবং তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছিল, মাঝে মাঝে এমনও হত যে, তাদের কেউ কেউ মুসলিমদেরই তীরের আঘাতে নিহত হতো বা তাদেরকে হত্যা করা হত। তখন আল্লাহ তা‘আলা — … إِنَّ الَّذِيْنَ تَوَفّٰهُمُ الْمَلٰ۬ئِكَةُ ظَالِمِيْٓ أَنْفُسِهِمْ ‘নিশ্চয় যারা নিজদের প্রতি যুলমকারী, ফেরেশতারা তাদের জান কবজ করার সময় বলে, ‘তোমরা কী অবস্থায় ছিলে’? তারা বলে, ‘আমরা যমীনে দুর্বল ছিলাম’। ফেরেশতারা বলে, ‘আল্লাহর যমীন কি প্রশস্ত ছিল না যে, তোমরা তাতে হিজরত করতে’? সুতরাং ওরাই তারা যাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম। আর তা মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল। (সূরা নিসা ৯৭) আয়াতটি অবতীর্ণ করেন।” (সহীহ বুখারী ৪৫৯৬, মান সহিহ) হাদিসে এসেছে- জারীর আল-বাজালী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, «أَنَا بَرِيءٌ مِنْ كُلِّ مُسْلِمٍ يُقِيمُ بَيْنَ الْمُشْرِكِينَ» ‘আমি ঐসব মুসলিমের উপর অসন্তুষ্ট ও রুষ্ট যারা মুশরিকদের মধ্যে অবস্থান করে।’ (বুলুগুল মারাম ১২৬৪, মান: সহিহ, এ বিষয়ে আরো দেখুন- জামে’ আত-তিরমিজি ১৬০৪, মান: সহিহ, আবু দাউদ ২৭৮৭, মান: সহিহ) নোট- এটি প্রকাশিত অফিসিয়াল ফতোয়া নয়, কিছু দলীল ভিত্তিক সরল বাক্য মাত্র।

December 14 2023

214

অপসংস্কৃতি ও বাতিল ফিরকা

মুরজিয়া হচ্ছে ক্বেবলার (অনুসরণকারী) ইহুদী

আল্লাহর ইচ্ছায় বিগত কয়েক বছরে বর্তমান যুগের খারেজীদের ব্যাপারে উম্মাহ একটা সুস্পষ্ট ধারনা লাভ করেছে। কিন্তু অনেকেই আরেক আপদ ‘মুরজিয়া গোষ্ঠীর’ ফিতনার কথা ভুলে গেছেন। মুরজিয়া গোষ্ঠী খারেজীদের বিপরীত। খারেজীরা কবিরা গুনাহের কারণে মুসলিমকে কাফির মনে করে আর মুরজিয়া গোষ্ঠী সুস্পষ্ট শিরকে আকবার ও কুফরে আকবার (নাওয়াক্বিদ) করলেও ঈমান অক্ষুন্ন থাকে বলে মনে করে। তারা ঈমান বিনষ্টকারী কাজগুলোকে বিষয়গুলোকে (নাওয়াক্বিদুল ঈমান) জুহুদ এর শর্ত দিয়ে আটকে দেয়। কিন্তু আহলে সুন্নাহ এই দুই বিভ্রান্ত দলের মধ্যবর্তী অবস্থান গ্রহন করে। তারা খারেজীদের বিপরীতে কবিরা গুনাহের কারণে ঈমান নষ্ট হয়ে যায় বলে মনে করেন না। আবার মুরজিয়াদের বিপরীতে নাওয়াক্বিদের কারণে ঈমান নষ্ট হয়ে যায় বলে মনে করেন। ইতিহাসে যখন খারেজীদের আবির্ভাব হয়, একই সময় মুরজিয়াদেরও আবির্ভাব হয়। বর্তমান যুগের মুরজিয়ারা যদিও মুখে মুখে এই দাবী করে যেন- “ঈমান হচ্ছে অন্তরে বিশ্বাস, মৌখিক স্বীকৃতি ও আ’মলের সমন্বয়” কিন্তু বাস্তবে তারা নানা অযুহাতে আ’মলকে ঈমান এর বাইরে রেখে দেয়। যেমনঃ মুসলিম নামধারী শাসকরা একাধিক ‘নাওয়াকিদুল ঈমান’ করলেও তাদের দৃষ্টিতে তারা ঈমানদার, কারণ হিসেবে তারা দাবী করেঃ ‘হয়তো অন্তরে তারা এই কাজকে খারাপ জানে’, অথবা ‘আমরা তো তাদের অন্তরের খবর জানি না’ ইত্যাদি। অর্থাৎ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তাদের দাবী হচ্ছে, অন্তরে কুফরী না করলে সেটা ঈমান বিনষ্টকারী হবে না। শুধু বাহ্যিক আ’মলের মাধ্যমে ঈমান বিনষ্ট হতে পারে না!! এছাড়া তারা এটাও দাবী করে যে, অন্তরে যতক্ষণ ঈমান আছে, ততক্ষণ বাইরের আ’মল যেমনঃ ইস্তেহলাল (আল্লাহ্‌র দেয়া বিধানকে পরিবর্তন বা হালালকে হারাম করা কিংবা হারামকে হালাল করা) এর কারণে ঈমান নষ্ট হয় না। জঘন্য মুরজিয়া গোষ্ঠী সম্পর্কে সালাফদের কিছু বক্তব্যঃ ক) ইমাম ইব্রাহীম নাখয়ী (রঃ) বলেছেন, لأنا لفتنة المرجئة أخوف على هذه الأمة من فتنة الازارقة ‘এই উম্মাহর জন্য আমরা মুরজিয়াদের ফিতনাকে আজারিক্বাহদের (চরম এক প্রকার খারেজী গোষ্ঠী) ফিতনা থেকে বেশী ভয় করি’। খ) ইমাম আওজায়ী (রঃ) বলেন, قال الاوزاعي كان يحيى وقتادة يقولان ليس من الاهواء شيء أخوف عندهم على الامة من الارجاء ‘ইয়াহইয়া ও ক্বাতাদা বলেছেন, যে বিদয়াত প্রচলন হয়েছে, এর মধ্যে উম্মাহর জন্য ইরজা এর চেয়ে বেশী অন্য কিছুকে ভয় করি না’। গ) সাইয়্যেদ ইবনে জুবায়ের (রঃ) বলেছেন, قال سعيد بن جبير غير سائله ولا ذاكرا ذاك له لا تجالس طلقا يعن أنه كان يرى رأي المرجئة ‘তাকে প্রশ্ন করবে না, এবং তার কাছে সেটা উল্লেখও করবে না, তালকা (তালকা বিন হাবীব) এর সাথে বসবে না’ (কারণ সে মুরজিয়াদের দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতো) অপর এক বর্ণনায় আছে, সাইয়্যেদ ইবনে জুবায়ের (রঃ) বলেছেন, المرجئة يهود القبلة ‘মুরজিয়া হচ্ছে ক্বেবলার (অনুসরণকারী) ইহুদী’। আল্লাহ মুরজিয়াদের ফিতনা থেকে এই উম্মাহকে হেফাজত করুন।

December 05 2023

178

অন্যান্য

সকল মুসলমানের জন্যে দ্বীনের মৌলিক শিক্ষা অপরিহার্য শিখতে হবে আলেমদের শরণাপন্ন হয়ে

‘আররহমান’ আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে বড় ও শ্রেষ্ঠ গুণবাচক নাম। সবাই কমবেশি এর অর্থ জানি— ‘তিনি দয়ালু’। আসলে এর যথাযথ কোনো বাংলা অর্থ হয় না। কুরআনে কারীমে এবং দ্বীনে ইসলামে কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর কোনোরকম ভাবানুবাদ তো করা যায়, কিন্তু পরিপূর্ণ অর্থ করা সম্ভব হয় না। আমরা যারা মাদরাসায় পড়ি বা আরবী ব্যাকরণের সাথে পরিচিত, তারা জানি, মুবালাগাহ বা সিফাতে মুশাব্বাহার মানে হল, কোনো গুণ বড় করে বুঝানো। কিন্তু কিছু কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর বড়ত্বের পরিধি মানুষের ভাবনার চেয়েও বেশি। যেমন, আমরা বললাম, দয়ালু। আপনি এখানে দয়ার আধিক্য বোঝানোর জন্য কী যোগ করবেন? ‘অতি দয়ালু’, ‘অনেক দয়ালু’, ‘বেশি দয়ালু’! পরিপূর্ণ অর্থ আদায় হয়নি! আররহীম শব্দের অর্থ এর চেয়েও বেশি। ‘আররহমান’-এর অর্থ তো তার চেয়েও অনেক বেশি। এজন্য এ ব্যাপারে উলামায়ে কেরাম একমত যে, ‘আররহমান’ শব্দটি এমন বেশি দয়ার কথা বুঝায়, যেটা আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কারো দ্বারা সম্ভব নয়। এজন্য আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম ‘রহমান’ রাখা নিষেধ। আব্দুর রহমান নাম রাখা যাবে। রহমানের বান্দা, রহমানের গোলাম এটা বলা যাবে, কিন্তু রহমান বলা যাবে না। কারণ আল্লাহ তাআলা ছাড়া কেউ রহমান হতে পারে না।

December 05 2023

185

ইসলামী অর্থনীতি

যাকাত প্রদানে দায়িত্বশীল হোন

ইসলামে যাকাতের এতই গুরুত্ব যে, যাকাতের জন্য, যাকাত অস্বীকার করার অপরাধে, ইসলামের একেবারে শুরু যুগেই, প্রথম খলীফার আমলেই যুদ্ধ পর্যন্ত করা হয়েছে। যাকাতের বিধিবিধান অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত। আমরা তো এককথায় এতটুকু জানি যে, যাকাত আড়াই পার্সেন্ট দিতে হয়। বর্তমানে একটা ফ্যাশন বের হয়েছে, বিভিন্ন আর্থিক সংস্থা, বিভিন্ন ইসলামী অ্যাপওয়ালা বা ইসলামী সংস্থা যাকাত ক্যালকুলেটর দিয়ে দিচ্ছে। মনে হয় যেন এটা ব্যাংকের ইএমআই হিসাব করার মতো একটা ক্যালকুলেটর-ব্যবস্থা- ব্যাংক থেকে আপনি কত টাকা ঋণ নিলেন, কত কিস্তিতে আদায় করবেন, কত পার্সেন্ট সুদ- সব আপনি ইনপুট দিলেন আর ক্লিক করলেন, ব্যস, হিসাব বের হয়ে গেল। যাকাতকেও এখন ক্যালকুলেটর বসিয়ে এরকম করে দেওয়া হয়েছে।

December 05 2023

187

সাম্প্রতিক

নির্মম নিষ্ঠুরতা : ইসলামের পথেই সমাধান

স্বার্থপর ও জুলুমবাজির এই দুনিয়ায় যতই দিন যাচ্ছে মনে হচ্ছে, শিষ্টের দমন দুষ্টের লালন বেড়েই চলেছে। মাঝে মাঝে মনে হয়, যদি চোখ বন্ধ করে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনো বদ্ধ ঘরে থাকা যেত! আশপাশের খবর না আসত। পেপার-পত্রিকা, গণমাধ্যমের সাথে যদি যোগাযোগ না থাকত, তাহলে মনে হয় অনেক কিছু থেকে বেঁচে যাওয়া যেত। এমন এমন খবর শুনতে হয়, দেখতে হয়, যেগুলো শুনলে, দেখলে শরীর-মন বিবশ হয়ে যেতে চায়। জুলুমবাজি ও স্বার্থপরতা বাড়তে বাড়তে এমন অবস্থায় পৌঁছেছে, যেসমস্ত অন্যায়-অবিচার মানুষ একসময় কল্পনা করেনি, সভ্য সমাজ চিন্তা করেনি, ইসলামে তো প্রশ্নই আসে না- সেগুলো এখন অহরহ ঘটছে। স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন, স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন, পিতা-মাতার হাতে সন্তান খুন- এসবও এখন দেখতে হচ্ছে। এধরনের ঘটনা এখন মাঝে মাঝেই ঘটছে। তাই মনে হয়েছে এ বিষয় নিয়ে আলকাউসারের পাঠকদের সঙ্গে কিছু কথা আলোচনা করি।

December 05 2023

215

ইসলামী অর্থনীতি

আলিমদের ব্যবসা-বাণিজ্যে অংশগ্রহণ : কিছু সমস্যা ও তার সমাধান

উপার্জনের ক্ষেত্রে কী কী সমস্যা আসতে পারে এবং সেগুলো থেকে উত্তরণের উপায় কী? সমস্যা সম্পর্কে কথা বলতে গেলে প্রথমে বলতে হবে, কী পরিমাণ সম্পদ থাকা দরকার। একেক পরিমাণ সম্পদের সমস্যা একেক রকম। সম্পদের পরিমাণের শেষ নেই। তবে আমি মনে করি, আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্যের মুখাপেক্ষী না হয়ে সহজেই জীবন অতিবাহিত করা যায়, অন্তত এতটুকু সম্পদ থাকা দরকার। এ পরিমাণ সম্পদ উপার্জনের চেষ্টা করা জরুরি। এবং আল্লাহ চাহে তো এ পরিমাণ সম্পদ উপার্জন করা অসম্ভব নয়। মুমিন হিসেবে এ বিশ্বাস থাকতে হবে যে, যতদিন দুনিয়াতে মুসলমান থাকবে ততদিন হালাল রোজগারের পথ খোলা থাকবে। কারণ কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা হালাল রিযিকের আদেশ করেছেন। তবে কখনো তা অপেক্ষাকৃত কঠিন হতে পারে, কিন্তু এ তো শুধু উপার্জনের ক্ষেত্রে নয়, দ্বীনের অন্য সকল ক্ষেত্রেই একই কথা। আপনারা যে এখানে এসেছেন গাড়িতে আপনার লেবাসের কয়জনকে দেখেছেন? বাসে নামাযের সময় হয়েছে আপনি হয়তো বাস থামানোর অনুরোধ করেছেন, কিন্তু অন্যরা বিরক্ত হচ্ছে। কেউ কেউ তো এমনও বলে থাকে যে, পরে কাযা পড়ে নিয়েন!

December 05 2023

292

ইসলামী অর্থনীতি

করযে হাসানা : কিছু নির্দেশনা

মানুষের একার পক্ষে সবসময় সব প্রয়োজন পূরণ সম্ভব হয় না। অনেক ক্ষেত্রে পরস্পরকে সাহায্য করতে হয়। এই সাহায্যের নানা ধরন ও অনেক উপায় রয়েছে। একটি বড় উপায় ঋণ তথা করজ। বিভিন্ন কারণে মানুষ করজ নিয়ে থাকে। তার মধ্যে মূলতঃ দুটি কারণ বড়। ১. সাধারণ জীবন চলা তথা খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ইত্যাদির প্রয়োজনে করজ নেয়া। ২. ব্যবসা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ঋণ গ্রহণ। বক্ষমাণ নিবন্ধে আমরা মূলতঃ প্রথম প্রকার নিয়েই আলোচনা করব। ঋণের ক্ষেত্রে সমাজে দু’টি অবস্থা লক্ষ করা যায়- সয়লাব ও সঙ্কট। অর্থাৎ সুদভিত্তিক ঋণের সয়লাব আর সুদবিহীন ঋণের সঙ্কট। একদিকে সামান্য প্রয়োজনেই ঋণগ্রহণ করে ফেলা হয়। বরং বিনা প্রয়োজনে ও গোনাহের কাজেও ঋণ নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, ঋণের উপর ঋণগ্রহণ করা হয়। অন্যদিকে সত্যিকারের ঋণ বিরল। কঠিন বিপদেও তা কদাচিৎই পাওয়া যায়। একটা সফল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে এটা বড় প্রতিবন্ধক।

December 05 2023

206

ইসলামী অর্থনীতি

শরীয়া নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই ‘সুকুক’ ছাড়া হয়েছে

সুকুক শব্দটি বহুবচন। এর এক বচন হল ‘ছক’। যদিও আরবীতে ব্যবহার হয়, কিন্তু এটি মূলত ফার্সি থেকে এসেছে। ফার্সিতে আগের সময়ে ‘ছক’ শব্দ ব্যবহৃত হত। এটা সাধারণত কোনো ডকুমেন্ট, দলীল, সার্টিফিকেট জাতীয় জিনিসের জন্য ব্যবহৃত হত। রাষ্ট্র থেকে গুণীজনদের কোনো ভাতা দেয়ার জন্য এ ধরনের ডকুমেন্ট দেয়া হত। সেটা দিয়ে সে নির্ধারিত সময় ভাতা বা রেশন উত্তোলন করতে পারত। অর্থাৎ ‘ছক’ ছিল এসব সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার গ্রহণ করবার একটা আইনি দলীল। পরবর্তীতে এটা আরবীতেও ব্যবহার হওয়া শুরু হয়েছে। এরপর বর্তমান সময়ে যেসব অর্থে ছক শব্দ ব্যবহৃত হয়, এসব অর্থে ব্যবহার শুরু হয়েছে আরও বহু বছর পরে এসে। যাইহোক, সে তো শাব্দিক অর্থের কথা গেল। প্রচলিত অর্থে সুকুক হচ্ছে বর্তমান বিশ্বে সুদভিত্তিক বন্ডের বিকল্প। বন্ডের মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জনগণ থেকে ঋণ নেয়। সেই ঋণ গ্রহণ করতে গিয়ে যে ডকুমেন্ট সরকার দেয় সেটাকে বিভিন্ন ইউনিট বা এককে ভাগ করা হয়। যেমন দশ হাজার টাকার ইউনিট। এক হাজার টাকার ইউনিট। একেকটা ইউনিট একেকটা বন্ড। এই বন্ডেরই সুদবিহীন বিকল্প চালু হয়েছে কয়েক দশক আগেই। সেটা হল বর্তমানের সুকুক। সে নামেই এখন সরকার সুকুক ছেড়েছে। এটা গত মাসে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং মানুষ থেকে টাকা নেয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে।

‘এরা এমন এক কালসাপ, যার বিষদাঁত এখনই উপড়ে ফেলা না হলে অন্যান্য মুসলিম ভূখণ্ডেও ছোবল বসাবে’

December 02 2023

253

সাম্প্রতিক

‘এরা এমন এক কালসাপ, যার বিষদাঁত এখনই উপড়ে ফেলা না হলে অন্যান্য মুসলিম ভূখণ্ডেও ছোবল বসাবে’

শ্রদ্ধেয় ভাই ও বন্ধুগণ! বর্তমানে ফিলিস্তিনের মুসলমানগণ যে বিভীষিকাময় সময় পার করছেন তাতে বিশ্বের মুসলমানগণ অস্থির হয়ে আছেন। গাজা উপত্যকায় পৈশাচিকভাবে বোম্বিং করা হচ্ছে। (বর্তমান তথ্য অনুসারে) তিন হাজারের বেশি মুসলিমকে শহীদ করা হয়েছে এবং তাদের বাড়ি-ঘর ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের ওপর বোমা বর্ষণ করা হচ্ছে। আহতদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক নারী-শিশু এই পাশবিক নির্মমতার শিকার। গাজা সিটির বড় অংশ মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুসলিম জনপদের ধ্বংসলীলা আর নিষ্পাপ শিশুদের লাশের মিছিল দেখে মুসলমানরা এখন হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছে। বিশ্বশক্তি যারা নিজেদেরকে মানবাধিকার সুরক্ষার ঠিকাদার ঘোষণা করে, তারা কেবল মুখে কুলুপ এঁটে তামাশা দেখছে, তাই নয়; বরং জালিমদের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশ্যে নির্লজ্জভাবে অবতীর্ণ হয়েছে।