অপসংস্কৃতি ও বাতিল ফিরকা
মুরজিয়া হচ্ছে ক্বেবলার (অনুসরণকারী) ইহুদী
আবু আব্দুল্লাহ | December 14 2023 | 215আল্লাহর ইচ্ছায় বিগত কয়েক বছরে বর্তমান যুগের খারেজীদের ব্যাপারে উম্মাহ একটা সুস্পষ্ট ধারনা লাভ করেছে। কিন্তু অনেকেই আরেক আপদ ‘মুরজিয়া গোষ্ঠীর’ ফিতনার কথা ভুলে গেছেন।
মুরজিয়া গোষ্ঠী খারেজীদের বিপরীত। খারেজীরা কবিরা গুনাহের কারণে মুসলিমকে কাফির মনে করে আর মুরজিয়া গোষ্ঠী সুস্পষ্ট শিরকে আকবার ও কুফরে আকবার (নাওয়াক্বিদ) করলেও ঈমান অক্ষুন্ন থাকে বলে মনে করে। তারা ঈমান বিনষ্টকারী কাজগুলোকে বিষয়গুলোকে (নাওয়াক্বিদুল ঈমান) জুহুদ এর শর্ত দিয়ে আটকে দেয়।
কিন্তু আহলে সুন্নাহ এই দুই বিভ্রান্ত দলের মধ্যবর্তী অবস্থান গ্রহন করে। তারা খারেজীদের বিপরীতে কবিরা গুনাহের কারণে ঈমান নষ্ট হয়ে যায় বলে মনে করেন না। আবার মুরজিয়াদের বিপরীতে নাওয়াক্বিদের কারণে ঈমান নষ্ট হয়ে যায় বলে মনে করেন।
ইতিহাসে যখন খারেজীদের আবির্ভাব হয়, একই সময় মুরজিয়াদেরও আবির্ভাব হয়।
বর্তমান যুগের মুরজিয়ারা যদিও মুখে মুখে এই দাবী করে যেন- “ঈমান হচ্ছে অন্তরে বিশ্বাস, মৌখিক স্বীকৃতি ও আ’মলের সমন্বয়” কিন্তু বাস্তবে তারা নানা অযুহাতে আ’মলকে ঈমান এর বাইরে রেখে দেয়।
যেমনঃ মুসলিম নামধারী শাসকরা একাধিক ‘নাওয়াকিদুল ঈমান’ করলেও তাদের দৃষ্টিতে তারা ঈমানদার, কারণ হিসেবে তারা দাবী করেঃ ‘হয়তো অন্তরে তারা এই কাজকে খারাপ জানে’, অথবা ‘আমরা তো তাদের অন্তরের খবর জানি না’ ইত্যাদি।
অর্থাৎ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তাদের দাবী হচ্ছে, অন্তরে কুফরী না করলে সেটা ঈমান বিনষ্টকারী হবে না। শুধু বাহ্যিক আ’মলের মাধ্যমে ঈমান বিনষ্ট হতে পারে না!!
এছাড়া তারা এটাও দাবী করে যে, অন্তরে যতক্ষণ ঈমান আছে, ততক্ষণ বাইরের আ’মল যেমনঃ ইস্তেহলাল (আল্লাহ্র দেয়া বিধানকে পরিবর্তন বা হালালকে হারাম করা কিংবা হারামকে হালাল করা) এর কারণে ঈমান নষ্ট হয় না।
জঘন্য মুরজিয়া গোষ্ঠী সম্পর্কে সালাফদের কিছু বক্তব্যঃ
ক) ইমাম ইব্রাহীম নাখয়ী (রঃ) বলেছেন,
لأنا لفتنة المرجئة أخوف على هذه الأمة من فتنة الازارقة
‘এই উম্মাহর জন্য আমরা মুরজিয়াদের ফিতনাকে আজারিক্বাহদের (চরম এক প্রকার খারেজী গোষ্ঠী) ফিতনা থেকে বেশী ভয় করি’।
খ) ইমাম আওজায়ী (রঃ) বলেন,
قال الاوزاعي كان يحيى وقتادة يقولان ليس من الاهواء شيء أخوف عندهم على الامة من الارجاء
‘ইয়াহইয়া ও ক্বাতাদা বলেছেন, যে বিদয়াত প্রচলন হয়েছে, এর মধ্যে উম্মাহর জন্য ইরজা এর চেয়ে বেশী অন্য কিছুকে ভয় করি না’।
গ) সাইয়্যেদ ইবনে জুবায়ের (রঃ) বলেছেন,
قال سعيد بن جبير غير سائله ولا ذاكرا ذاك له لا تجالس طلقا يعن أنه كان يرى رأي المرجئة
‘তাকে প্রশ্ন করবে না, এবং তার কাছে সেটা উল্লেখও করবে না, তালকা (তালকা বিন হাবীব) এর সাথে বসবে না’ (কারণ সে মুরজিয়াদের দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতো)
অপর এক বর্ণনায় আছে, সাইয়্যেদ ইবনে জুবায়ের (রঃ) বলেছেন,
المرجئة يهود القبلة
‘মুরজিয়া হচ্ছে ক্বেবলার (অনুসরণকারী) ইহুদী’।
আল্লাহ মুরজিয়াদের ফিতনা থেকে এই উম্মাহকে হেফাজত করুন।
রাসুল (সাঃ) বদদোয়া করেছেন?
December 14 2023
347
করযে হাসানা : কিছু নির্দেশনা
December 05 2023
294
বর্তমান সময়ে বিবাহের ক্ষেত্রে মোহরে ফাতেমী কত টাকা?
December 01 2023
293
কবরে শুয়ে মৃতরা কি শুনতে পায়?
December 11 2023
284
‘এরা এমন এক কালসাপ, যার বিষদাঁত এখনই উপড়ে ফেলা না হলে অন্যান্য মুসলিম ভূখণ্ডেও ছোবল বসাবে’
December 02 2023
254
ফিলিস্তিন সংকট : স্বদেশ ও বিদেশ
December 03 2023
253
গাজায় ইসরাইলের বর্বরতা গাজাবাসীর জন্য দুফোঁটা অশ্রু!
December 01 2023
234
কাফের দেশে স্থায়ী বসবাস সম্পর্কে ইসলামের বিধান
December 14 2023
234
হিজাব-নিকাব হিজাবের মর্যাদা রক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
December 05 2023
223
ঈদের নামায স্থানীয়ভাবে আদায় করবো? না সৌদির সঙ্গে মিলিয়ে?
December 03 2023
216