ঈমান-আকীদা

আমলহীন ব্যক্তি জান্নাতে যাবে? কোন আমল না করে কেও কি জান্নাতে প্রবেশ করবে?

আবু আব্দুল্লাহ | August 02 2025 | 82

শাফাআতের প্রসিদ্ধ ও দীর্ঘ হাদিসের শেষাংশে এসেছে,

‎فَيُخْرِجُ مِنْهَا قَوْمًا لَمْ يَعْمَلُوا خَيْرًا قَطُّ قَدْ عَادُوا حُمَمًا

অতঃপর আল্লাহ জাহান্নাম থেকে এমন একদলকে বের করবেন, যারা কখনোই কোনো আমল করে নাই। আগুনে পুড়ে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। [মুসনাদে আহমদ — ১১৮৯৮, পড়ুন — মুসলিম ৩৪৩, বুখারী ২২, ৬৫৬০; মুসনাদে আহমদ — ১১৮৯৮]

ইমাম ইবনুল কায়্যিম রাহ. বলেন, “হাদিসের ভাষ্য থেকে পরিষ্কার যে, এরা কোনো নেক কাজ করে নাই। স্রেফ আল্লাহর রহমত এদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করবে।” [হাদিল আরওয়াহ — ২/৭৮০]

নাবি আলাইসিস সালাম যখন কাকুতিমিনতি করবেন, তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন —

‎فَيَقُولُ: وَعِزَّتِي وَجَلاَلِي، وَكِبْرِيَائِي وَعَظَمَتِي لَأُخْرِجَنَّ مِنْهَا مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ

“আমার ইজ্জত‌ ও পরাক্রম এবং আমার বড়ত্ব ও মহত্ত্বের শপথ! যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে, আমি অবশ্যই অবশ্যই তাদের সবাইকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনব।” [বুখারি-৭৫১০, মুসলিম-১৯৩]

ইমাম ইবনু রজব আল-হাম্বলি রাহ. বলেন —

“শাফাআত সংক্রান্ত হাদিসে সহিহ বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে — নাবি আলাইসিস সালাম বলেন, “…..তখন আমি বলব, ‘হে আমার প্রভু! আমাকে অনুমতি দিন তাদের ব্যাপারে, যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে।’ তখন আল্লাহ বলবেন, ‘আমার সম্মান, আমার গৌরব, আমার মহত্ত্ব এবং আমার শ্রেষ্ঠত্বের শপথ! আমি তাদের জাহান্নাম থেকে বের করে দেব, যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে।’ সহিহ মুসলিমে আরও এসেছে: ‘তখন আল্লাহ বলবেন, এটি তোমার এখতিয়ারের বিষয় নয়, অথবা এটি তোমার কাজ নয়।’

ইবনু রজব রাহ. বলেন —

وهذا يدل عَلَى أن الذين يخرجهم الله برحمته، من غير شفاعة مخلوق، هم أهل كلمة التوحيد، الذين لم يعملوا معها خيرًا قط بجوارحهم.

“এটি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, যারা আল্লাহর (স্পেশাল) রহমতে কোনো মাখলুকের শাফাআত ছাড়াই জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে, তারা সেই লোক যারা তাওহিদের কালিমা (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) উচ্চারণ করেছে, কিন্তু শরীরের কোনো অঙ্গ দিয়ে এর সাথে কোনো নেক আমল করে নি।” — [আত-তাখউইফ মিনান নার ওয়া আত-তারিফ বিহাল দারিল বাওয়ার, পৃষ্ঠা ৩৬৪]

في حديث الشفاعة، قَالَ: فأقول:»يا رب، ائذن لي فيمن يقول لا إله إلاَّ الله، فيقول: «وعزتي وجلالي، وكبريائي وعظمتي، لأخرجن من النار من قَالَ: لا إله إلاَّ الله». خرجاه في الصحيحين (٤). وعند مسلم: (٥) «فيقول: ليس ذلك لك، أو ليس ذلك إليك». وهذا يدل عَلَى أن الذين يخرجهم الله برحمته، من غير شفاعة مخلوق، هم أهل كلمة التوحيد، الذين لم يعملوا معها خيرًا قط بجوارحهم، و

প্রশ্নঃ এখানে হয়তো ঐ বান্দাদের কথা বলা হয়েছে যারা ঈমান আনার পরেই মারা গেছে নেক আমলের সুযোগ পায়নি।

জবাব — এমন হলে তো ঐ মুসলিমের জাহান্নামে থাকার কথা ছিল না। কারণ ইসলাম তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেয়। এটা থেকে সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায় নেক আমল না করা সত্যেও সে ঈমানদার ছিল।

“আনাস রা. থেকে বর্ণন, নাবি আলাইসিস সালাম বলেন —

‎عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: «يَقُولُ اللهُ: أَخْرِجُوا مِنَ النَّارِ مَنْ ذَكَرَنِي يَوْمًا» أَوْ خَافَنِي فِي مَقَامٍ.

আল্লাহ বলবেন, জাহান্নাম থেকে তাকেও বের করে আনো, যে কোনো একদিন আমাকে স্মরণ করেছে বা কোনো একস্থানে আমাকে ভয় পেয়েছে।” [তিরমিজি — ২৫৯৪, আস-সুন্নাহ, ইবনু আবি আসিম — ৮৩৩, মানঃ হাসান]

কেও কেও ইজমার কথাও উল্লেখ করেছেন, ইবনু আবি যাইদ রহি. সহ আরও কিছু ফকিহ দাবী করেন যে যুহুদ (অস্বীকার) ব্যতীত ফরজসমূহ তরককারী কাফের নয় বরং ফাসেক৷ ইজমায়ে উম্মাহ হলো — তাদের জানাজা পড়ানো হবে, ইসলাম অনুযায়ী তাদের মিরাস বন্টিত হবে এবং মুসলিমদের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে৷ (শরহে বুখারী লি ইবনি বাত্তলঃ 8/579)

তাই আমরা বলতে পারি কেও শিরক কুফর করে কাফির মুরতাদ না হয়ে গেলে সে একদিন জান্নাতে যাবে। কেবল মাত্র কুফর শিরক হল ঈমান ভঙ্গকারী। কোন আমল অস্বীকার না করলে কেবল না করার কারনে কুফর শিরক হয় না। সালাতের বিষয়ে যে সংশয় আছে তা আমরা পরবর্তী পোস্টে ক্লিয়ার করবো ইন শা আল্লাহ।

এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত পড়ুন — ইমাম আবু হানিফা রাহ. কি সত্যিই মুরজিআ ছিলেন? (আন্ডার লাইনের ওপরে ক্লিক করুন)

পড়ুন — বেনামাজি কাফের? সালাত আদায় না করলে কাফের হয়ে যায়?

প্রসঙ্গ: ঈমান-আকীদা