ঈমান-আকীদা
বেনামাজি কাফের? সালাত আদায় না করলে কাফের হয়ে যায়?
আবু আব্দুল্লাহ | January 31 2025 | 140এই আর্টিকেল পড়ার আগে এটা পড়তে হবে — আমলহীন ব্যক্তি জান্নাতে যাবে? কোন আমল না করে কেও কি জান্নাতে প্রবেশ করবে? (আন্ডার লাইনের ওপরে ক্লিক করুন)
এই মাসালা গণ তাকফিরের পথ খুলে দেয়। আমাদের সমাজে এমন লোকজনই বেশী যারা সালাতকে স্বীকার করে কিন্তু অলসতা করে সালাত আদায় করে না। তারা সালাত আদায় না করে নিজেদের কবিরা গুনাহগার মনে করে। দেখা যায় একজন ৫ বছর সালাত আদায় করেছে এরপর ৩-৪ বছর অলসতা করে সালাত আদায় করেনি, জুমআ পড়েছে কেবল। এরপর আবার কয়েক বছর ধরে পড়ছে। আবার অলসতা করছে। এই অবস্থাই বেশী। সালাত আদায় না করা কবিরা গুনাহ। কিন্তু এমন লোক কাফির কিনা আসুন কুরআন হাদিসের দলীল অনুযায়ী বিবেচনা করি।
- A.)
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ ۚ وَمَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا [٤:١١٦]
নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না,যে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা, ক্ষমা করেন। যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয়। [সূরা নিসা-১১৬]
B.) সাহাবী উবাদা ইবনে সামেত (রা:) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূল (স:) এরশাদ করেছেন,
من شهد أن لا اله إلا الله وحده لا شريك له وأن محمدا عبده ورسوله وأن عيسى عبد الله ورسوله وكلمته ألقاها إلى مريم وروح منه، والجتة حق والنار حق أدخله الله الجنة على ما كان من العمل. (أخرجاه)
‘‘যে ব্যক্তি এ সাক্ষ্য দান করল যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি একক। তাঁর কোন শরিক নেই। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল। ঈসা (আঃ) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। তিনি তাঁর এমন এক কালিমা যা তিনি মরিয়াম (আঃ) এর প্রতি প্রেরণ করেছেন এবং তিনি তাঁরই পক্ষ থেকে প্রেরিত রুহ বা আত্মা। জান্নাত সত্য জাহান্নাম সত্য। সে ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা জান্নাত দান করবেন, তার আমল যাই হোক না কেন। [বুখারী ৩৪৩৫; মুসলিম ২৭]
C.) মুয়াজ রা. থেকে বর্ণিত। নাবি আলাইসিস সালাম তাঁকে বলেন —
مَا مِنْ عَبْدٍ يَشْهَدُ أَن لاَ إلهَ إلاَّ الله وَأنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ صِدْقاً مِنْ قَلْبِهِ إلاَّ حَرَّمَهُ الله عَلَى النَّار قَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ أفَلاَ أُخْبِرُ بِهَا النَّاس فَيَسْتَبْشِرُوا ؟ قَالَ إِذاً يَتَّكِلُوا فأخبر بِهَا مُعاذٌ عَندَ موتِه تَأثُّما.
“যে কোন বান্দা খাঁটি মনে সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কেউ (সত্য) উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সা. তাঁর বান্দা ও তাঁর রসূল, তাকে আল্লাহ তা’আলা দোযখের জন্য হারাম করে দেবেন। মুআজ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি লোকেদেরকে এই খবর বলে দেব না, যেন তারা (শুনে) আনন্দিত হয়? তিনি বললেন, তাহলে তো তারা (এর উপরই) ভরসা করে নেবে (এবং আমল ত্যাগ করে বসবে)। অতঃপর মুআজ (ইলম গোপন রাখার) পাপ থেকে বাঁচার জন্য তাঁর মৃত্যুর সময় (এ হাদীসটি) জানিয়ে দিয়েছিলেন।” [বুখারী ১২৮, মুসলিম ১৫৭]
D.) “আল্লাহ কিয়ামত দিবসে এই উম্মতের একজনকে সমস্ত সৃষ্টির সামনে আলাদা করে এনে উপস্থিত করবেন। আল্লাহ তার সামনে নিরানব্বইটি আমলনামার খাতা খুলে ধরবেন। বীপরিতে ঐ বান্দার কেবল কালিমা আছে, আর কোন সাওয়াব নেই। আল্লাহ ঐ বান্দাকে জান্নাত দান করবেন।” [সংক্ষেপিত মূলভাব — তিরমিজী ২৬৩৯]
ঐ বান্দা কিন্তু কেবল ঈমান এনে মৃত্যুবরণ করেছেন এমন নওমুসলিম কেও নন। কেননা ইসলাম কবুল সকল গুনাহকে মুছে দেয়। অথচ ঐ বান্দার অনেক গুনাহ ছিল।
এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত পড়ুন — এই কালিমা তাদেরকে জাহান্নাম থেকে রেহাই দিবে (আন্ডার লাইনের ওপরে ক্লিক করুন)
পড়ুন —মুসলিম ৩৪৩, বুখারী ২২, ৬৫৬০;
একথা পরিষ্কার যে আমল ছাড়াও কেও জান্নাতে যেতে পারে। শাফায়াতের বর্ণনাগুলো এবং উপরোক্ত হাদিস হতে তাই প্রমাণ হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে অন্য কোন আমলের সাওয়াব ছাড়াই কেবল কালিমার জন্যই আল্লাহ কাওকে জান্নাত দিচ্ছেন। আর ঈমান ছাড়া কেও জান্নাতে যেতে পারবে না। এই হাদিস অনুযায়ী ঈমান থাকার জন্য অন্য কোন আমল প্রয়োজন হচ্ছে না। এখন প্রশ্ন — আমল কি ঈমানের অংশ না?
“জুমহুর আয়িম্মায়ে কেরাম আমলের গুরুত্ব বুঝাতে এবং আমলের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত রাখতে তা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, রুকনে আসলি বা মৌলিক অংশ হিসেবে নয়।” [মাওলানা মোহাম্মাদ আব্দুল হক হাফি.]
2. সালাতের গুরুত্ব বুঝাতে অনেকগুলো হাদীস আছে যেগুলোতে ঈমান নেই বলা হয়েছে। যেমন আবুদ-দারদা রা. হতে বর্ণিত —
.لا إيمان لمن لا صلاة له
“যার নামাজ নেই, তার ঈমানই নেই।”
[আস-সুন্নাহ, খাল্লাল — ১৩৮৪]
তার মানে এই না যে, যার সালাত নেই সে কাফের। বরং তিনি রা. সালাতের গুরুত্ব বুঝাতে এমন করে বলেছেন। আর এমন ধমকি হিসাবে এবং গুরুত্ব বুঝানোর নজির শরিয়তে রয়েছে। যেমনঃ হাদিসে এসেছে —
لَا إِيمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ
“যার মধ্যে আমনতদারি নেই, তার ঈমানই নেই।” [আহমদ — ১২৩৮৩]
لا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ
তোমাদের কেউ প্রকৃত মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য সেটাই পছন্দ করবে, যা তার নিজের জন্য পছন্দ করে। [বুখারি-মুসলিম]
لَا إِيمَانَ لِمَنْ لَا تَقِيَّةَ لَهُ
যার তাকওয়া নেই, তার ঈমানই নেই।
[মুসান্নাফ ইবনি আবি শাইবা — ৩৩০৪৫]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لاَ يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلاَ يَشْرَبُ الخَمْرَ حِينَ يَشْرَبُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلاَ يَسْرِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ،
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, কোন যিনাকারী যিনা করার সময় মুসলমান থাকে না, কোন মদ পানকারী মদ পান করার সময় মুসলমান থাকে না, কোন চুরিকারী ব্যক্তি চুরি করার সময় মুসলমান থাকে না। [বুখারী, হাদীস নং-২৪৭৫, ২৩৪৩]
এমন আরো অগণিত হাদীস আছে..
কিন্তু কেউ-ই এই দাবি করেন না যে, আমানতের খেয়ানত করলে কিংবা অপর মুসলিম ভাই’র জন্য সেরাটা পছন্দ না-করলে অথবা তাকওয়ার কমতি থাকলে ব্যক্তি কাফের-মুরতাদ/চিরস্থায়ী জাহান্নামি হয়ে যাবে। বরং আমানত, মুসলিম ভাই’র কল্যাণকামিতা এবং তাকওয়ার গুরুত্ব বুঝাতে এমন করে বলা হয়েছে।
তেমনি কেও মদ খেতে খেতে বা চুরি করতে করতে মারা গেলেও তার ঈমান যায় না। বরং হাদীসগুলো ধমকি।
3. ‘আবদুল্লাহ ইবনুস সুনাবিহী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، — يَعْنِي ابْنَ هَارُونَ — حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُطَرِّفٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصُّنَابِحِيِّ، قَالَ زَعَمَ أَبُو مُحَمَّدٍ أَنَّ الْوِتْرَ، وَاجِبٌ، فَقَالَ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ كَذَبَ أَبُو مُحَمَّدٍ أَشْهَدُ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ “ خَمْسُ صَلَوَاتٍ افْتَرَضَهُنَّ اللَّهُ تَعَالَى مَنْ أَحْسَنَ وُضُوءَهُنَّ وَصَلاَّهُنَّ لِوَقْتِهِنَّ وَأَتَمَّ رُكُوعَهُنَّ وَخُشُوعَهُنَّ كَانَ لَهُ عَلَى اللَّهِ عَهْدٌ أَنْ يَغْفِرَ لَهُ وَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ فَلَيْسَ لَهُ عَلَى اللَّهِ عَهْدٌ إِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُ وَإِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ ” .
‘তিনি বলেন, আবূ মুহাম্মাদের মতে, বিত্র সলাত ওয়াজিব। একথা শুনে ‘উবাদাহ্ ইবনুস সামিত (রাঃ) বললেন, আবূ মুহাম্মাদ মিথ্যা (ভুল) বলেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছিঃ “সম্মানিত মহান আল্লাহ্ পাঁচ ওয়াক্ত সলাত ফরয করেছেন। যে ব্যক্তি উত্তমরূপে উযু করে নির্ধারিত সময়ে পূর্ণরূপে রুকু’ ও পরিপূর্ণ মনোযোগ সহকারে সলাত আদায় করবে, তাকে ক্ষমা করার জন্য আল্লাহ্ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর যে ব্যাক্তি এরূপ করবে না, তার জন্য আল্লাহ্র পক্ষ হতে কোন প্রতিশ্রুতি নেই। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে ক্ষমা করবেন অন্যথায় শাস্তি দিবেন।” [আবু দাউদ ৪২৫]
হাদিসটি শুরু থেকে পড়ুন। এই হাদীস শুরু হয়েছে বিতর সালাত ফরজ/ওয়াজিব কিনা তা নিয়ে। কেও কেও বিত্র সলাত ফরজ/ওয়াজিব মনে করে তর্ক করছিলেন। হাদিসের মূল উদ্দেশ্য ফরজ/ওয়াজিব সালাত কম বা বেশী করা নিয়ে। সে প্রেক্ষিতেই হাদীস বর্ণিত। তাহলে হাদিসের শেষের “তিনি ইচ্ছা করলে তাকে ক্ষমা করবেন অন্যথায় শাস্তি দিবেন” এর মূল উদ্দেশ্য — ফরজ সালাত পড়া বা না পড়া নিয়ে। এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, সালাত ত্যাগকারী কাফির, মুরতাদ নয়। তার জান্নাত জাহান্নাম আল্লাহর হাতে। অথচ কাফির কখনো জান্নাতে যাবেনা। আর সালাত ত্যাগকারী এরুপ নয়। এটি বিতর সালাত ওয়াজিব নয় তার এবং সালাতে মনোযোগী হবারও দলীল। আরেকটি বর্ণনা —
সুনান ইবনু মাজাহ: পরিচ্ছেদঃ ৫/১৯৪. পাঁচ ওয়াক্তের ফরয সালাত ও তার হিফাযাত করা:
بَاب مَا جَاءَ فِي فَرْضِ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ وَالْمُحَافَظَةِ عَلَيْهَا
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنِ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ، عَنِ الْمُخْدِجِيِّ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ “ خَمْسُ صَلَوَاتٍ افْتَرَضَهُنَّ اللَّهُ عَلَى عِبَادِهِ فَمَنْ جَاءَ بِهِنَّ لَمْ يَنْتَقِصْ مِنْهُنَّ شَيْئًا اسْتِخْفَافًا بِحَقِّهِنَّ فَإِنَّ اللَّهَ جَاعِلٌ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَهْدًا أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ وَمَنْ جَاءَ بِهِنَّ قَدِ انْتَقَصَ مِنْهُنَّ شَيْئًا اسْتِخْفَافًا بِحَقِّهِنَّ لَمْ يَكُنْ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدٌ إِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ وَإِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُ ” .
উবাদাহ ইবনুুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ “আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ) ফরয করেছেন। যে ব্যক্তি সালাতের কোন হক নষ্ট না করে তা যথাযথভাবে আদায় করবে, নিশ্চয় আল্লাহ্র নিকট কিয়ামতের দিন তার জন্য এই প্রতিশ্রুতি আছে যে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর যে ব্যক্তি সালাতের হক নষ্ট করবে এবং যথাযথভাবে সালাত পড়বে না, তার জন্য আল্লাহ্র কাছে কোন অঙ্গীকার নেই। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিবেন, অন্যথায় মাফ করবেন।” [ইবনে মাজাহ ১৪০০১]
আরেকটি বর্ণনা —নাসায়ী: পরিচ্ছেদঃ ৬: পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের হিফাযাত করা
خْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ، أَنَّ رَجُلًا مِنْ بَنِي كِنَانَةَ يُدْعَى الْمُخْدَجِيّ سَمِعَ رَجُلًا بِالشَّامِ يُكْنَى أَبَا مُحَمَّدٍ، يَقُولُ: الْوِتْرُ وَاجِبٌ، قال الْمُخْدَجِيُّ: فَرُحْتُ إِلَى عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ فَاعْتَرَضْتُ لَهُ وَهُوَ رَائِحٌ إِلَى الْمَسْجِدِ فَأَخْبَرْتُهُ بِالَّذِي قال أَبُو مُحَمَّدٍ، فَقَالَ عُبَادَةُ: كَذَبَ أَبُو مُحَمَّدٍ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: خَمْسُ صَلَوَاتٍ كَتَبَهُنَّ اللَّهُ عَلَى الْعِبَادِ، مَنْ جَاءَ بِهِنَّ لَمْ يُضَيِّعْ مِنْهُنَّ شَيْئًا اسْتِخْفَافًا بِحَقِّهِنَّ كَانَ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدٌ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ، وَمَنْ لَمْ يَأْتِ بِهِنَّ فَلَيْسَ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدٌ إِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ وَإِنْ شَاءَ أَدْخَلَهُ الْجَنَّةَ .
কুতায়বাহ (রহ.)…. ইবনু মুহায়রীয (রহ.) হতে বর্ণিত যে, মুখদাজী নামক বানূ কিনানার জনৈক ব্যক্তি আবূ মুহাম্মাদ নামক এক ব্যক্তিকে সিরিয়ায় বলতে শুনলেন যে, বিতরের সালাত ওয়াজিব। মুখদাজী বলেন, আমি এ কথা শুনে ’উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। আমি যখন তার কাছে পৌছাই তখন তিনি মসজিদে যাচ্ছিলেন। তখন আমি তাঁকে আবূ মুহাম্মাদ-এর বক্তব্য শুনালাম। ’উবাদাহ্ (রাঃ) বললেন, আবূ মুহাম্মদ মিথ্যা বলেছেন। আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা’আলা বান্দার ওপরে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। যে ব্যক্তি এ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবে এবং এগুলোর মধ্যে কোন সালাত অবহেলা করে ছেড়ে দিবে না, তার জন্যে আল্লাহর ওয়াদা হলো- তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। যে ব্যক্তি এ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবে না, তার জন্যে আল্লাহর কোন ওয়া’দা নেই। ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিতে পারেন। আবার ইচ্ছা করলে জান্নাতেও প্রবেশ করাতে পারেন। [নাসায়ী ৪৬১]
আরেকটি বর্ণনা —
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنِ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ بَنِي كِنَانَةَ يُدْعَى الْمُخْدَجِيَّ سَمِعَ رَجُلاً، بِالشَّامِ يُدْعَى أَبَا مُحَمَّدٍ يَقُولُ إِنَّ الْوِتْرَ وَاجِبٌ . قَالَ الْمُخْدَجِيُّ فَرُحْتُ إِلَى عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ عُبَادَةُ كَذَبَ أَبُو مُحَمَّدٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ “ خَمْسُ صَلَوَاتٍ كَتَبَهُنَّ اللَّهُ عَلَى الْعِبَادِ فَمَنْ جَاءَ بِهِنَّ لَمْ يُضَيِّعْ مِنْهُنَّ شَيْئًا اسْتِخْفَافًا بِحَقِّهِنَّ كَانَ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدٌ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ وَمَنْ لَمْ يَأْتِ بِهِنَّ فَلَيْسَ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدٌ إِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ وَإِنْ شَاءَ أَدْخَلَهُ الْجَنَّةَ ” .
আল-কানবী (রহঃ) ….. আবু মুহাম্মাদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিতিরের নামায ওয়াজিব। রাবী মাখ্দাজী বলেন, তখন আমি উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলি যে, আবু মুহাম্মদ এরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবু মুহাম্মাদ ভুল করেছেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন। যে ব্যক্তি তা সঠিকভাবে আদায় করবে এবং অলসতাহেতু তার কিছুই পরিত্যাগ করবে না, আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবার জন্য অংগীকার করেছেন। আর যে ব্যক্তি তা (সঠিকভাবে) আদায় করবে না, তাঁর জন্য আল্লাহর নিকট কোন অংগীকার নাই। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি প্রদান করবেন এবং ইচ্ছা করলে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। [আবূ দাউদ ১৪২০]
এগুলো খুব পরিষ্কার বর্ণনা। আরও দেখুন আবূ দাউদ ৪২৫, আহমাদ ২২১৮৫, ২২১৯৬, ২২২৪৬, ২৭৭৪০; মুওয়াত্ত্বা মালিক ২৭০, দারিমী ১৫৭৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৪৫১, ১২৭৬, মিশকাত ৫৭০।
আবুল ফারজ (রহঃ) বলেন-
وَلَوْ كَانَ كَافِرًا لَمْ يُدْخِلْهُ فِي الْمَشِيْئَةِ
“সলাত পরিত্যাগকারী কাফের হলে তাকে আল্লাহর ইচ্ছার অন্তর্ভুক্ত করতেন না।” [সালাত পরিত্যাগকারীর হুকুম, শায়খ আলবানী রহ., p-51]
4. এছাড়াও মুসলিম উম্মতের ইতিহাসে নামাজ তরককারীকে মুরতাদ হিসাবে শাস্তি দেওয়া হয়নি বরং তাকে সালাত না পড়ার জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
5. রসূল (ﷺ) বলেন, “কিয়ামতের দিন বান্দার নিকট থেকে তার আমলসমূহের মধ্যে যে আমলের হিসাব সর্বাগ্রে নেওয়া হবে, তা হল নামায। নামায ঠিক হলে সে পরিত্রাণ ও সফলতা লাভ করবে। নচেৎ (নামায ঠিক না হলে) ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সুতরাং (হিসাবের সময়) ফরয নামাযে কোন কমতি দেখা গেলে আল্লাহ তাবারাকা অতাআলা ফিরিশ্তাদের উদ্দেশ্যে বলবেন, ‘দেখ, আমার বান্দার কোন নফল (নামায) আছে কি না।’ অতএব তার নফল নামায দ্বারা ফরয নামাযের ঘাটতি পূরণ করা হবে। অতঃপর আরো সকল আমলের হিসাব অনুরুপ গ্রহণ করা হবে।” (আবূদাঊদ, সুনান ৭৭০, তিরমিযী, সুনান ৩৩৭, সইবনে মাজাহ্, সুনান ১১৭নং, সহিহ তারগিব ১/১৮৫)
এই হাদিসটির মর্ম বুঝা যায় এই যে, ধরুন কেও যদি ৬০ বছর হায়াত পায় যার ৫০ বছর সালাত আদায় করা ফরজ ছিল। তখন যদি দেখা যায় যে বান্দা প্রথম ১০ বছর, মাঝে ৫ বছর এবং শেষ ১৫ বছর ঠিক ভাবে সালাত আদায় করেছে, অর্থাৎ ৩০ বছর ঠিক করে ফরজ সালাত পাওয়া গেছে। তখন বাকি ২০ বছরের ঘাটতি পূরণের জন্য বান্দার নফল সুন্নত সালাত খোজা হবে। ঐ সময়ে সালাত তরক করলেও সে কাফির ছিল না। এজন্যেই ঘাটতি পূরণের ব্যবস্থা করা হবে।
যদি সালাত অলসতা করে না পড়লেই কেও ঈমানহীন কাফির হয়ে চীর জাহান্নামী হয়ে যেতো, তবে তার আগের সব আমল নষ্ট হয়ে যেতো। তার জন্য সালাত ঘাটতি পূরণের প্রয়োজন হত না। যেদিন থেকে সালাত আদায় শুরু করেছে এবং এক ওয়াক্তও বাদ দেয়নি সেদিন থেকে ঈমানদার হিসাব করলেই হত।
ওপরের হাদিস হতে — “কাফির অবস্থার সময়ের সালাতের ঘাটতি পূরণ করা হবে” এটা নিশ্চয়ই কেও দাবী করবেন না। কেননা বান্দা তখন কাফির হয়ে গিয়ে থাকলে তার ওপরে ঐ সময়ে সালাত ফরজ ছিল না। ঈমান থাকলেই কেবল সালাত ফরজ থাকে। কিয়ামতের মাঠে নিশ্চয়ই সালাত দিয়ে “কাফির অবস্থার সময়ে” নতুন করে মুমিন বানানো হবে না। এরকম কোন দলীল প্রমাণ নেই। বরং ইসলাম কবুল করলে, তাওবাহ করলে, আল্লাহ পূর্বের গুনাহ সাওয়াবে পরিণত করে দিবেন এমন দলীল আছে।
কেও বলবেন — এখানে হাদিসে নিয়মিত নামাজ পড়া লোকদের উদ্দেশ্য, যারা নিয়মিত পড়েছে কিন্তু এক দুই ওয়াক্ত অনিচ্ছাকৃত / ইচ্ছাকৃতভাবে মিস করেছে।
জবাবে বলতে হয় — অনিচ্ছাকৃত ভুল আল্লাহ ক্ষমা করেছেন। তার জন্য নফল বা সুন্নত নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এর জন্য নফল নিয়ে বান্দার সাওয়াব আল্লাহ কমাবেন না, অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য কেও ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। হাদিসে দেখুন “ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত” শব্দ উল্লেখ আছে। এটার সম্ভাবনা তাই এখানেই বাদ। আর ইচ্ছাকৃত হলে বলতে হয় — এক ওয়াক্ত আদায় না করলেই তখন কাফের হয় নাই? কয় ওয়াক্ত সালাত আদায় না করলে কাফের হয়? ওয়াক্ত বা সময় ঠিক করার দলীল কি? — এর কোন সদুত্তর নেই। আসলে সালাত আদায় না করার কারনে ঈমানহীন হওয়াটাই সঠিক না। এজন্যেই এসব জবাব সুস্পষ্টভাবে নেই।
6. সালাত নিয়ে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বালের অভিমত
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আলস্যবশত সলাত (নামাজ) পড়লো না, সে কাফির। [শারহুল মুমতি আলা যাদুল মুস্তাকনি ২/২৬]
ইমাম এখানে কাফের বলেছেন। কিন্তু এত সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে তিনি কি মত রাখতেন তা ক্লিয়ার হবে তার ছেলের বক্তব্য হতে। আহমাদ বিন হাম্বাল (রহঃ) হতে একটি উক্তি রয়েছে যা পূর্বে বর্ণিত বিষয়সমূহের সাথে খুব ভাল সম্পর্ক রয়েছে এবং পূর্বের ঐ কথারই প্রমাণ বহন করে যে, “সাধারণভাবে সলাত পরিত্যাগকারী কাফের হয় না।” আব্দুল্লাহ বিন ইমাম আহমাদ তাঁর মাসায়েল গ্রন্থের ৫৬ ও ১৯৫ পৃষ্ঠায় বলেছেন :
“আমি আমার পিতাকে দু’মাস যাবৎ সলাত ত্যাগকারী এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, সে বর্তমানে উক্ত দু’মাসের সলাতসমূহ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে আদায় করে নিবে। ঐ ওয়াক্তের শেষ পর্যন্ত সেই ওয়াক্তের নির্ধারিত সলাত আদায় করবে যেগুলো সে ছেড়ে দিয়েছে। জীবনে ২য় বার আর এমন করবে না। অতঃপর পরের ওয়াক্তের ছুটে যাওয়া সলাত আদায় করবে। তবে যদি ছুটে যাওয়া সলাতের পরিমাণ বেশি হয় এবং সে জীবিকা অন্বেষণে ব্যস্ত থাকার কারণে পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করতে না পারে। তাহলে সেই সলাত পুনরায় আদায় করবে যেমন সলাতরত অবস্থায় কোনো কিছু ছুটে যাওয়ার কথা স্মরণ হলে তা পরে আদায় করা হয়।”
শায়খ আলবানী রহ. বলেন, প্রিয় পাঠক! আপনি ইমাম আহমাদ এর বক্তব্য শ্রবণ করলেন যা পূর্বের কথা প্রমাণ করে যে, সাধারণভাবে সলাত বর্জন করলে একজন মুসলিম ইসলাম থেকে খারিজ বা বের হয়ে যায় না বরং একাধারে দু’মাস সলাত আদায় না করলেও নয়। বরং যে ব্যক্তি জীবিকা অন্বেষণে ব্যস্ত থাকে তার জন্য পূর্বের কাযা সলাতসমূহকে পরে আদায় করে নেয়ার অনুমতি দিলেন।”
[সালাত পরিত্যাগকারীর হুকুম, শায়খ আলবানী রহ., p-60]
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের দিকে নিসবত করা সব মতামত একত্রে করলে বুঝা যায় — “সালাত না পড়ার কারণে কাওকে যদি তাওবাহ এবং হত্যা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়, এরপর ঐ লোক যদি ‘হত্যা হয়ে যাবে স্বীকার করে তবুও সালাত আদায় না করে’ তখন সে কাফের হয়ে যাবে।” ইমামের অবস্থান এমন বুঝা যায়। আলবানী রহ. তাই বইতে এরকম এনেছেন।
7. ফরজ আমল ছাড়ার বিষয়ে কেও কেও ইজমার (ঐক্যমত্যের) কথাও উল্লেখ করেছেন, ইবনু আবি যাইদ রহি. সহ আরও কিছু ফকিহ দাবী করেন যে যুহুদ (অস্বীকার) ব্যতীত ফরজসমূহ তরককারী কাফের নয় বরং ফাসেক৷ ইজমায়ে উম্মাহ হলো — তাদের জানাজা পড়ানো হবে, ইসলাম অনুযায়ী তাদের মিরাস বন্টিত হবে এবং মুসলিমদের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে৷ (শরহে বুখারী লি ইবনি বাত্তলঃ 8/579)
দুএকজনের বিচ্ছিন্ন মত আছে সেগুলোকে কুরআন হাদীসের দলীলের আলোকে আমরা গ্রহণ করতে পারি না। তারা ধমকি এবং গুরুত্ব বুঝানোর হাদিসগুলোকে আক্ষরিক অর্থে ধরে বুঝ নিয়েছেন। উদাহরণ হিসাবে একটা হাদিস খেয়াল করুন —
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَيُّمَا مَمْلُوكٍ تَزَوَّجَ بِغَيْرِ إِذْنِ سَيِّدِهِ، فَهُوَ عَاهِرٌ»
অনুবাদ- হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যে গোলাম মনীবের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করে তাহলে সে জিনাকারী। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২০৭৮, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৪২১২, সুনানে দারামী, হাদীস নং-২২৭৯, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১১১১, তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-২৭০৫}
হাদীসটি প্রমাণ করছে মনিবের অনুমতি ছাড়া বিয়েকারী যিনাকারী। কিন্তু উক্ত ব্যক্তির উপর যিনার শরয়ী শাস্তি প্রয়োগ হবে একথা কেউ বলেন না। কারণ এখানে আসলে যিনাকারী সাব্যস্ত করা উদ্দেশ্য নয়, বরং একাজটি গর্হিত অন্যায় এটি বুঝানো উদ্দেশ্য।
হাদীসে গোলামটিকে যিনাকারী বলা হলেও এটা প্রমাণিত যে তার উপর যিনার শাস্তি আসে না। মানে সে আসলে যিনাকারী হয় না। বরং ধমকের জন্য এটি বলা হয়েছে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
سِبَابُ الْـمُسْلِمِ فُسُوْقٌ وَقِتَالُهُ كُفْرٌ.
‘‘কোন মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসিকী এবং হত্যা করা কুফরি’’। (বুখারী ৬০৪৪, ৭০৭৬; মুসলিম ৬৪)
এটাও ধমক। কুফুরি বলার মাধ্যমে কাফের উদ্দেশ্য না। কাওকে হত্যা করলে কেও চীর জাহান্নামি হয় না। ঈমান থাকলে শাস্তি হলেও এক সময় আল্লাহ শাস্তি হতে বের করবেন এবং জান্নাত দিবেন।
—
সুতরাং নামায ছেড়ে দিলেই ব্যক্তি কাফের হবে না। বরং কাফেরদের মত কাজ হয়। কিন্তু ব্যক্তি এতে করে কাফের হয়ে যায় না। যদি কাফের হয়ে যেত তাহলে তার জন্য জান্নাতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত হাদীস আসতো। অথচ নামায ছেড়ে দিলে চিরস্থায় জাহান্নামী হবার কোন হাদীস বা আয়াত বর্ণিত হয়নি। অলসতাবশত নামায ছেড়ে দিলে ব্যক্তি কাফের হয়ে যায় বলাটা এই বিষয়ে কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচায়ক ছাড়া আর কিছু নয়।
সিদ্ধান্তঃ অলসতা বসত সালাত ত্যাগকারী কাফির, মুরতাদ, চিরস্থায়ী জাহান্নামী নয়।
এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত পড়ুন — ইমাম আবু হানিফা রাহ. কি সত্যিই মুরজিআ ছিলেন? (আন্ডার লাইনের ওপরে ক্লিক করুন)
রাসুল (সাঃ) বদদোয়া করেছেন?
December 14 2023
345
বর্তমান সময়ে বিবাহের ক্ষেত্রে মোহরে ফাতেমী কত টাকা?
December 01 2023
292
করযে হাসানা : কিছু নির্দেশনা
December 05 2023
292
কবরে শুয়ে মৃতরা কি শুনতে পায়?
December 11 2023
283
‘এরা এমন এক কালসাপ, যার বিষদাঁত এখনই উপড়ে ফেলা না হলে অন্যান্য মুসলিম ভূখণ্ডেও ছোবল বসাবে’
December 02 2023
253
ফিলিস্তিন সংকট : স্বদেশ ও বিদেশ
December 03 2023
252
কাফের দেশে স্থায়ী বসবাস সম্পর্কে ইসলামের বিধান
December 14 2023
233
গাজায় ইসরাইলের বর্বরতা গাজাবাসীর জন্য দুফোঁটা অশ্রু!
December 01 2023
232
হিজাব-নিকাব হিজাবের মর্যাদা রক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
December 05 2023
222
ঈদের নামায স্থানীয়ভাবে আদায় করবো? না সৌদির সঙ্গে মিলিয়ে?
December 03 2023
215