লিখুন ডট কম || ০৭ মার্চ ২০২৬

ধর্ষণের শাস্তির জন্য চারজন সাক্ষ্য লাগবে? ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি দিতে সাক্ষ্য প্রমাণ নীতি। ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি।

শাস্তি ধর্ষণের শাস্তি ও যেনা বা ব্যভিচারের শাস্তির মধ্যে কিছুটা তারতম্য রয়েছে। যেনা বা ব্যভিচারে লিপ্ত হ’লে তার শাস্তি - “বিবাহিত পুরুষ ও নারীর জন্য প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদন্ড ও অবিবাহিতদের জন্য একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছর নির্বাসন” (নূর ২৪/০২; বুখারী হা/৪৯৬৯; মুসলিম হা/১৬৯১; মিশকাত হা/৩৫৫৫) কিন্তু ধর্ষণ যেহেতু যিনার মত দুজনের সম্মতিতে হয় না তাই এক্ষেত্রে যিনার শাস্তির সাথে মুহারাবার শাস্তি যুক্ত হবে। কেবলমাত্র ধর্ষকের শাস্তি হবে। মুহারাবার শাস্তি হলো — অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ডাকাতির যে শাস্তি তাই। মুহারাবার শাস্তির ব্যাপারে কোরআন পাকে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, যারা আল্লাহ ও তার রাসুলের সঙ্গে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে, তাদেরকে হত্যা করা হবে, অথবা শূলে চড়ানো হবে, অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেওয়া হবে, অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হলো — তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। (সুরা মায়িদা ৩৩) যখন সমাজে ধর্ষণ মহামারি রূপ ধারণ করে, তখন সমাজকে কলুষমুক্ত করতে মুহারাবার মতো কঠোর শাস্তি দেওয়া জরুরি। কাজী তাকে রজম করতে নির্দেশ দিতে পারবে। আর ধর্ষণের কারণে অথবা ধর্ষণ পরবর্তী হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলে তার একমাত্র শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড প্রদান। সাক্ষ্য প্রমাণ ধর্ষণ সাধারণ জিনার মতো নয়, বরং এটি বলপ্রয়োগ এবং সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই ধর্ষণের ক্ষেত্রে চারজন সাক্ষীর শর্ত ছাড়া অন্যান্য প্রমাণ গ্রহণযোগ্য। চারজন সাক্ষী ছাড়াও ফরেনসিক ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে ধর্ষণের বিচার সম্ভব। নারীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে (ধর্ষণের) বিচার- আলকামা ইবনু ওয়াইল (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানায় একজন মহিলা নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলো। রাস্তায় একজন লোক তার সামনে পড়ে এবং সে তাকে তার পোশাকে ঢেকে নিয়ে (জাপটে ধরে) নিজের প্রয়োজন মিটায় (ধর্ষণ করে)। মহিলাটি চিৎকার করলে লোকটি পালিয়ে গেল। তারপর আর একজন লোক তার সম্মুখ দিয়ে যাচ্ছিল। মহিলাটি বলল ঐ লোকটি আমার সাথে এই এই করেছে। ইতোমধ্যে মুহাজির সাহাবীদের একটি দলও সে স্থান দিয়ে যাচ্ছিল। মহিলাটি বলল, ঐ লোকটি আমার সাথে এই এই করেছে। যে লোকটি তাকে ধর্ষণ করেছে বলে সে ধারণা করল, তারা (দৌড়ে) গিয়ে তাকে ধরে ফেলেন। তাকে নিয়ে তারা মহিলাটির সামনে ফিরে আসলে সে বলল, হ্যাঁ, এই সেই লোক। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাকে নিয়ে আসেন। তিনি যখন তাকে রজমের (পাথর মেরে হত্যা) হুকুম দিলেন, সে সময়ে তার আসল ধর্ষণকারী উপস্থিত হয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তার ধর্ষণকারী (ঐ লোকটি নয়)। তিনি মহিলাটিকে বললেনঃ যাও, তোমাকে আল্লাহ তা’আলা মাফ করে দিয়েছেন। তিনি (সন্দেহজনকভাবে) ধৃত লোকটির সম্বন্ধে ভাল কথা বললেন। মহিলাটির আসল ধর্ষণকারীর সম্পর্কে তিনি হুকুম করলেনঃ একে রজম কর। তিনি আরো বললেনঃ সে এমন ধরণের তাওবা করেছে, যদি মদীনার সকল জনগণ এমন তাওবা করে তবে তাদের সেই তাওবা কুবুল করা হবে।” [তিরমিজি: ১৪৫৪, হাসান] এটি একটি দৃষ্টান্ত। এছাড়াও ওমর (রা.) এর যুগে সাক্ষী ছাড়া ফরেনসিক প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার হয়েছে। শরীরের চিহ্ন, কাপড়ের দাগ, সন্দেহভাজন ব্যক্তির আচরণ ইত্যাদির ভিত্তিতে অপরাধের শাস্তি দিয়েছেন। এখন তো মেডিকেল টেস্ট, DNA টেস্ট সিসিটিভি সহ্য কত রকম প্রমাণ থাকে। এগুলো নিয়ে টেনশন নেই। মূলনীতি হল নিরপরাধ কেও যেন শাস্তি না পায়। এবং ধর্ষকের যেন কঠোর বিচার দ্রুত কার্যকর করা হয়। (আব্দিল বার্র, আল-ইস্তিযকার ৭/১৪৬) — Sharia Law

March 08 2025

102

সিয়ার

ইসলাম একমাত্র আল্লাহর মনোনীত ধর্ম। ইসলাম একমাত্র মুক্তির পথ। ইসলাম ছাড়া মুক্তি নেই।

যে কেও জেনেছে, ইসলাম নামে একটি দ্বীন আছে যা এক আল্লাহর কথা বলে এবং সে রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ)-এর রিসালাতের খবর শুনেছে, তার জন্য ইসলাম ছাড়া পরকালে মুক্তির আর কোন উপায় নেই। এবং রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ)-এর অনুসরণ ছাড়াও কারো জন্য অন্য কোন পথ অনুসরণ বৈধ নয়। এমনকি মুসা (আঃ)-ও যদি থাকতেন তবে তার জন্য আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর অনুসরণ ছাড়া অন্য কিছু বৈধ হতো না। আল্লাহ বলেছেন- إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম। যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত।’ (সূরা আল ইমরান ১৯ ও ৮৫) রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) এর স্পষ্ট বানী- আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেছেন, قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ لاَ تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا وَلاَ تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا ‏. ‘ঈমানদার ছাড়া কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।’ (সহিহ মুসলিম ৯৮, মান: সহিহ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الْمُوجِبَتَانِ فَقَالَ ‏”‏مَنْ مَاتَ لاَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ مَاتَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ النَّارَ‏”‏. ‘এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর সামনে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করল-ইয়া রসূলুল্লাহ! ওয়াজিবকারী (অবশ্যম্ভাবী) দু’টো বিষয় কি? তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে কোন কিছু শারীক না করে যে ব্যক্তি মারা যাবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছু শারীক করা অবস্থায় মারা যাবে সে জাহান্নামে যাবে।’ (সহিহ মুসলিম ১৭০, মান: সহিহ) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেন, “‏وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لاَ يَسْمَعُ بِي أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ يَهُودِيٌّ وَلاَ نَصْرَانِيٌّ ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ إِلاَّ كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ‏”‏‏.‏ ‘সে সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! ইয়াহুদী হোক আর খৃস্টান হোক, যে ব্যক্তিই আমার এ রিসালাতের খবর শুনেছে অথচ আমার রিসালাতের উপর ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করবে, অবশ্যই সে জাহান্নামী হবে।’ (সহিহ মুসলিম ২৭৯, মান: সহিহ) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَنَّهُ قَالَ وَالَّذِى نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لاَ يَسْمَعُ بِى أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ يَهُودِىٌّ وَلاَ نَصْرَانِىٌّ ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِى أُرْسِلْتُ بِهِ إِلاَّ كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ ‘যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ আছে, সেই সত্তার কসম! এই জাতির যে কেউ ইয়াহুদী হোক বা খ্রিস্টান আমার কথা শুনবে, অতঃপর যা দিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি, তার প্রতি ঈমান আনবে না, সেই জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (মুসলিম ৪০৩, হাদিস সম্ভার ১৫০৮, মান: সহিহ)

December 14 2023

94

ঈমান-আকীদা

ইসলামি শরীয়তের পরিভাষা: “ইমাম” “ওয়ালিয়ুল আমর” “রাষ্ট্রপ্রধান” “সরকার”

বর্তমান ইলমি ও ফিকরি ময়দানে অন্যতম একটি সংকট হল পরিভাষা সংক্রান্ত। পরিভাষাকে এড়িয়ে গিয়ে আমরা শব্দের মারপ্যাঁচে নিজেদের মূল্যায়নকে ক্রিয়েট করছি। ইসলামি শরীয়তের পরিভাষা কিংবা অন্য কোন মতবাদের পরিভাষা- উভয়ক্ষেত্রেই সমভাবে আমরা এই ভুলটি করে যাচ্ছি। ফলে একদিকে ইসলামী শরীয়তের নানা বিধান বিকৃতি সাধন হচ্ছে। যেমন জিহাদ, কিতাল, ইমামাত, খিলাফাত ইত্যাদি শর’য়ী বিষয়। অন্যদিকে বহিরাগত কুফুরি মতাদর্শ ইসলামে প্রবেশ করার সুযোগ পাচ্ছে। যেমন গণতন্ত্র, সেকুলারিজম ইত্যাদি পশ্চিমা আদর্শ। কুরআন সুন্নাহ এবং ফিকহের কিতাবগুলোতে বর্ণিত “ইমাম” কিংবা “ওয়ালিয়ুল আমর” নিছক কোন শব্দ নয়। এগুলো হল শর’য়ী পরিভাষা। এই পরিভাষাগুলোর সাথে ইসলামী শরীয়তের অনেক বিধান সম্পৃক্ত। নিছক শাব্দিক দৃষ্টিকোণ থেকে “রাষ্ট্রপ্রধান” কিংবা “সরকার” অর্থ তুলে এর পারিভাষিক বিধানকে প্রয়োগ করা ইলমি খিয়ানত। ইসলামী শরীয়তে পারিভাষিকভাবে যাকে ইমাম বলে বর্তমান রাষ্টপ্রধানদের উপর তা কার্যকর হয় না।

December 14 2023

177

সংশয় নিরসন

“তোমরা মৃতদের গালি দিও না, কেননা তারা অবশ্যই যা আমল করে সামনে পাঠিয়েছে তার কাছে পৌঁছে গেছে” - হাদিসটির ব্যাখ্যা।

একটা হাদিস উল্লেখ করে অনেকেই আমভাবে সকল মৃত সম্পর্কে অপছন্দনীয় কথা বলতে নিষেধ করেন, হাদিসটি হচ্ছে- لاَ تَسُبُّوا الأَمْوَاتَ، فَإِنَّهُمْ قَدْ أَفْضَوْا إِلَى مَا قَدَّمُوا . “তোমরা মৃতদের গালি দিও না, কেননা তারা অবশ্যই যা আমল করে সামনে পাঠিয়েছে তার কাছে পৌঁছে গেছে” . . এটা সহিহ বুখারির ১৩৯৩ নং হাদিস, এখানে أفضی إلی অবগত হওয়া অর্থও নির্দেশ করে।. . যাই হোক এই হাদিসের বাহ্যিক অর্থ এমনিতেও কেবল গালিগালাজ ও লানত করা থেকে নিষেধ করেছে। যাইদ বিন মুনির বা অন্য যারা এ থেকে আম হুকুম নিয়েছেন ইমাম ইবন হাজার(রাহ) ফাতহুল বারিতে তার জবাব দিয়েছেন।. . এই বাবের শুরু থেকে হাদিস পর্যন্ত ইবন হাজার(রাহ) আলোচনা করেছেন, সারমর্ম এই অল্প কথায় এসে যায়-. . وأصح ما قيل في ذلك أن أموات الكفار والفساق يجوز ذكر مساويهم للتحذير منهم والتنفير عنهم وقد أجمع العلماء على جواز جرح المجروحين من الرواة أحياء وأمواتا . . “সর্বাধিক সঠিক মত হচ্ছে এটা যা বলা হয় যে কাফির ও ফাসিকদের দোষত্রুটিসমূহ (খারাপ দিকসমূহ) তাদের থেকে সতর্ক করতে ও তাদের থেকে (অন্যদের) তাড়ানোর জন্য উল্লেখ করা জায়েয। আলিমগণ একমত যে ত্রুটিপূর্ণ বর্ণনাকারীদের জার্হ করা জায়েয, তা সে জীবিত হোক বা মৃত”- ফাতহুল বারী: ৩/২৫৯ , অনুরূপ আলোচনা ইমাম আইনীও(রাহ.) করেছেন।. . যাই হোক, আজকাল জালিম তো দূর কি বাত দেখছি আহলে বিদ’আহ মারা যাবার পরও অনেকে শোক প্রকাশ করছেন। ওকে, এটা আপনাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এ বিষয়ে আমার বলবার কিছু নাই। তবে আমি সালাফের কিছু ঘটনা উল্লেখ করব যা অন্যদের প্রেরণা দেবে-. . 1) ইমাম আবু বকর আল খাল্লাল(রাহ.) বলেন- قيل لأبي عبد الله — أي : الإمام أحمد بن حنبل — : الرجل يفرح بما ينزل بأصحاب ابن أبي دؤاد ، عليه في ذلك إثم ؟ قال : ومن لا يفرح بهذا ؟ . . “আবু আব্দিল্লাহ অর্থাৎ ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল(রাহ.) কে বলা হল ইবন আবি দুওয়াদের সংগীদের ওপর যে মুসিবত এসেছে তা জেনে লোকেরা আনন্দিত হচ্ছে। এতে কি তাদের গুনাহ হচ্ছে? তিনি বললেন, এতে কে আনন্দিত হবে না?”- আস সুন্নাহ্: ৫/১২১. . ইবন আবি দুওয়াদ ছিল মু’তাযিলাদের ইমাম। যে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়। . . ২) বাগদাদের আমীরদের একজন ছিল আল হাসান বিন সাফী আত তুর্কি। সে ছিল রাফিযী, শী’আ। তাঁর মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে ইমাম ইবন কাসির(রাহ.) বলেন-. . فلله الحمد والمنَّة . وحين مات فرح أهل السنة بموته فرحاً شديداً ، وأظهروا الشكر لله ، فلا تجد أحداً منهم إلا يحمد الله . . “আল্লাহইর প্রশংসা ও অনুগ্রহ (যে এ মারা গেছে)। সে যখন মারা যায় তখন আহলে সুন্নাহ অত্যন্ত আনন্দিত হয়। আর আল্লাহর শুকরিয়া খুল্লামখুল্লা প্রকাশ করে, তুমি তাদের এমন একজনকেও পাবে না যে আল্লাহর প্রশংসা করে নি”-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ১২/৩৩৮. . আজকাল আহলে সুন্নাহ বদলে গেছে।. . 3) ইমাম আবু হানিফা(রাহ.) হাম্মাদ(রাহ) হতে বর্ণনা করেন-. . بشرت ابراهيم النخعي بموت الحجاج فسجد ورايته يبكي. . “ইব্রাহীম আন নাখাঈ(রাহ.) কে হাজ্জাজের মৃত্যুর সুসংবাদ দেয়া হল, তিনি তখনই সিজদায় পড়ে গেলেন, আর আমি তাঁকে (সিজদায়) কাঁদতে দেখলাম”-তবাকাতু ইবন সা’দ: ৬/২৮০ . . এগুলোই যথেষ্ট ইন শা আল্লাহ। - উস্তাদ মানযুরুল কারীম (হাফিঃ)

December 14 2023

98

আমল ও আত্মশুদ্ধি

নতুন শিক্ষাবর্ষের সূচনা আসুন, নিজের ব্যাপারে দায়িত্বশীল হই!

আমাদের মাদরাসাগুলোতে একটি নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়েছে আলহামদু লিল্লাহ! নতুনের শুরু আমাদের মনে নিয়ে আসে নতুন আগ্রহ, নতুন উদ্দীপনা। এ উদ্দীপনাও আল্লাহ তাআলার নিআমত। আমাদের কর্তব্য, তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করা। বর্তমান সময়টা যদিও নানা প্রতিকূলতায় ঘেরা, নতুন নতুন বাধা-বিপত্তিতে আক্রান্ত হচ্ছে আমাদের জ্ঞান-চর্চাকেন্দ্রিক কর্মতৎপরতা, তবুও নতুনের আগমন আমাদের মনে নব উদ্দীপনা এনেই দেয়। নানা রকমের শঙ্কা, প্রতিকূলতা, বাধা-বিপত্তির মধ্যেও এই উদ্দীপনাকে সজীব রেখে আমাদের জীবন-বৃক্ষ ফুলে-ফলে সুশোভিত করে তুলতেই হবে। আর সেজন্য দরকার দিনরাতের ঘাম ঝরানো পরিশ্রম আর আল্লাহ তাআলার রহমতের বারি বর্ষণের প্রার্থনা। এই দুই শর্ত পূরণ হলে আশা করা যায় আমাদের জীবনভূমি সুজলা সুফলা হয়ে উঠবে। ইলমের পথে সফলতা অর্জন করতে হলে অবশ্যই সময়কে কাজে লাগাতে হবে। সময় আমাদের মহামূল্যবান সম্পদ। মহান আল্লাহর অন্যতম প্রধান নিআমত। আমাদের প্রজ্ঞাবান পূর্বসূরিরা যেসকল বিষয়কে জীবনের সমার্থক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তার একটি হচ্ছে সময়। ইমাম হাসান বসরী রাহ.-এর তাৎপর্যপূর্ণ উক্তি - ‘হে আদমের বেটা! তুমি কয়েকটি দিনের সমষ্টি ছাড়া আর কিছু নও। একটি দিন যখন অতীত হয় তখন আসলে তোমার জীবনেরই একটি অংশ অতীত হয়।’

December 05 2023

172

সাম্প্রতিক

আর বিলম্ব না করে মাদরাসাগুলোকে চলতে দিন

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি চলছে প্রায় দুই বছর থেকে। বাংলাদেশে ২০২০-এর মার্চ মাস থেকে এ মহামারিকে উপলক্ষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে আছে। বিভিন্ন পরীক্ষা হয়নি। কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগুলোও হয়নি। পরীক্ষা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের ‘অটো পাশ’ দিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে গত শিক্ষাবর্ষে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুললেও মাদরাসাগুলো খোলা রাখার ব্যাপারে সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছিল এবং পুরো দেশে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও কওমী মাদরাসায় শিক্ষাবর্ষের শেষ মাস শাবানের আগ পর্যন্ত সুচারুরূপে লেখাপড়া হয়েছে। কিন্তু এরপর কোনো অজানা কারণে কওমী মাদরাসাগুলোকেও সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পর্যায়ে নিয়ে এসে তাদের শিক্ষাদান কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

December 05 2023

182

সাম্প্রতিক

প্রবন্ধ-নিবন্ধ

August 02 2025

72

সংশয় নিরসন

ইমাম আবু হানিফা রাহ. কি সত্যিই মুরজিআ ছিলেন?

#ভূমিকাঃ মুরজিআ একটি বিভ্রান্ত ও বেদআতি ফেরকার নাম। এরা আবার বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত। তাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ বক্তব্য হচ্ছে: “পাপাচার ঈমানের জন্য ক্ষতিকর নয়, যেভাবে কুফরি থাকলে নেককাজ কোনো উপকারী নয়।” আহলেসুন্নাহ ওয়াল-জামাআত সর্বসম্মতিক্রমে এ মতবাদকে ভ্রান্ত ও বেদআত মনে করেন। ইমাম আবু হানিফা রাহ. থেকেও এমন কোনো বক্তব্য নেই। তবে ঈমানের ‘হকিকত’ নিয়ে জুমহুর আয়িম্মা ও আবু হানিফার মাঝে কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে। #বিরোধের সূত্রপাতঃ জুমহুরের মতে ঈমান হচ্ছে মুরাক্কা বা যৌগিক। অন্তরের বিশ্বাস-আমল-কর্ম ও মৌখিক স্বীকারোক্তি, তিনের সমন্বিত রূপের নাম ঈমান। আর আবু হানিফার মতে অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাস এবং মৌখিক স্বীকারোক্তির নামই ঈমান। কিন্তু আমল ঈমানের মৌলিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং তা ঈমানের মুকাম্মিল বা পরিপূরক। আর এ বিরোধকে আমি লফজি-শাব্দিক বিরোধ মনে করি। বাস্তবিক অর্থে তাঁদের মধ্যে কোনো বিরোধই নেই। কিন্তু যারা এ বিরোধকে হাকিকি বিরোধ মনে করেন এবং আমলকে ঈমানের ‘রুকনে আসলি’ তথা মৌলিক অংশ জ্ঞান করেন, তাদের ওপর বেশকিছু আপত্তি উত্তাপিত হয়। সে আপত্তি, তার জবাব ও পাল্টা জবাবের প্রেক্ষিতে আমরা প্রমাণ করব — এ বিরোধ স্রেফ লফজি। #আপত্তিঃ ‘আমল’ যদি ঈমানের ‘রুকনে আসলি’ তথা মৌলিক অংশ হয়, তাহলে ভ্রান্ত খারেজি কিংবা মু’তাযিলিদের মাজহাব গ্রহণ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। কারণ, রুকনের কোনো ফরদ/ন্যূনতম অংশ ছেড়ে দেয়া মানে ব্যক্তি কাফের হওয়া সুনিশ্চিত। অর্থাৎ কেউ মাঝেমধ্যে সালাত পরিহার করলে বা যাকাত না-দিলে কিংবা সিয়াম ভঙ্গ করলে কাফের হয়ে যাওয়ার কথা। এখন যদি বলেন ‘এ ক্ষেত্রে সে (এসব আমলে কমতি থাকায়) কাফের এবং ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত’, তবে তা হবে খারেজিদের মাজহাব। আর যদি বলেন ‘সে কাফেরও না আবার মুসলিমও না’, (منزلة بين المنزلتين) তাহলে তা হবে মু’তাযিলিদের মাজহাব। আর এ উভয় মাজহাবই আহলে সুন্নাহর নিকট নিকৃষ্ট বেদআত। তাঁরা যুগে যুগে এদের রদ্দ করে এসেছেন। এ আপত্তি থেকে বাঁচতে জুমহুরের পক্ষ থেকে বলা হয়, আমল ঈমানের অংশ বলতে ‘জিনসে আমল’ উদ্দেশ্য। অর্থাৎ ব্যক্তি যদি আমল সম্পূর্ণরূপে পরিহার করে, তবেই সে কাফের হবে, কিছু কমতির ফলে কাফের হবে না। খারেজি আর মু’তাযিলিদের সঙ্গে তাঁদের পার্থক্য এখানেই। তবে, এ জবাব খুরুজ আর ই’তেযাল থেকে বাঁচাতে পারলেও তা সহিহ ও সরিহ অনেক হাদিসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেগুলোতে আমলবিহীন অনেক মানুষ জান্নাতে যাওয়ার কথা বিবৃত হয়েছে। যেমনঃ

August 02 2025

65

ঈমান-আকীদা

এই কালিমা তাদেরকে জাহান্নাম থেকে রেহাই দিবে

নাবি আলাইসিস সালাম যখন কাকুতিমিনতি করবেন, তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন — . ‎فَيَقُولُ: وَعِزَّتِي وَجَلاَلِي، وَكِبْرِيَائِي وَعَظَمَتِي لَأُخْرِجَنَّ مِنْهَا مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ . “আমার ইজ্জত‌ ও পরাক্রম এবং আমার বড়ত্ব ও মহত্ত্বের শপথ! যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে, আমি অবশ্যই অবশ্যই তাদের সবাইকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনব।” [বুখারি-৭৫১০, মুসলিম-১৯৩] . ‎عن حذيفة بن اليمان، قال: قال رسول الله — صلى الله عليه وسلم -: “يدرس الإسلام كما يدرس وشي الثوب، حتى لا يدرى ما صيام ولا صلاة ولا نسك ولا صدقة…وتبقى طوائف من الناس، الشيخ الكبير والعجوز، يقولون: أدركنا آباءنا على هذه الكلمة: لا إله إلا الله، فنحن نقولها”. . “হুজায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, নাবি আলাইসিস সালাম বলেন — ইসলাম মুছে যাবে যেভাবে কাপড়ের নকশা (ধীরে ধীরে) মুছে যায়। শেষমেশ এমন হবে যে, মানুষ জানবেই না সিয়াম কী সালাত কী, কুরবানি কী, সাদাকাহ কী।… তখন একদল বৃদ্ধ নারী-পুরুষ থাকবে, যারা বলবে: আমরা আমদের পিতৃপুরুষদের এই কালিমা তথা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’র ওপর পেয়েছি। তাই আমরাও এটিই বলি। . ‎فقال له صلة : ما تغني عنهم لا إله إلا الله، وهم لا يدرون ما صلاة ولا صيام ولا نسك ولا صدقة؟ فأعرض عنه حذيفة، ثم ردها عليه ثلاثا، كل ذلك يعرض عنه حذيفة، ثم أقبل عليه في الثالثة، فقال:يا صلة، تنجيهم من ‎النار، ثلاثا . তখন তাবেঈ সিলাহ বিন যুফার রাহ. হুজায়ফা রা-কে বললেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” তাদের কী কজে আসেব, যখন তারা জানবেই না যে, সালাত কী, সিয়াম কী, কুরবানি কী? হুজায়ফা রা. তার উত্তর না-দিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। সিলাহ তিন বার এ প্রশ্ন পুনরাবৃত্তি করলেন। হুজায়ফা প্রত্যেকবার তার প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন। তৃতীয় বারে তিনি তার দিকে ফিরে বলেন: হে সিলাহ! এই কালিমা তাদেরকে জাহান্নাম থেকে রেহাই দেবে। তিনি কথাটি তিন বার বললেন।” [ইবনু মাজাহ — ৪০৪৯ মান: সহিহ] . “আনাস রা. থেকে বর্ণন, নাবি আলাইসিস সালাম বলেন — . ‎عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: «يَقُولُ اللهُ: أَخْرِجُوا مِنَ النَّارِ مَنْ ذَكَرَنِي يَوْمًا» أَوْ خَافَنِي فِي مَقَامٍ. . আল্লাহ বলবেন, জাহান্নাম থেকে তাকেও বের করে আনো, যে কোনো একদিন আমাকে স্মরণ করেছে বা কোনো একস্থানে আমাকে ভয় পেয়েছে।” [তিরমিজি — ২৫৯৪, আস-সুন্নাহ, ইবনু আবি আসিম — ৮৩৩, মানঃ হাসান] . নাবি আলাইসিস সালাম বলেন — . ‎مَا مِنْ عَبْدٍ يَشْهَدُ أَن لاَ إلهَ إلاَّ الله وَأنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ صِدْقاً مِنْ قَلْبِهِ إلاَّ حَرَّمَهُ الله عَلَى النَّار قَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ أفَلاَ أُخْبِرُ بِهَا النَّاس فَيَسْتَبْشِرُوا ؟ قَالَ إِذاً يَتَّكِلُوا فأخبر بِهَا مُعاذٌ عَندَ موتِه تَأثُّما. . “যে কোন বান্দা খাঁটি মনে সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কেউ (সত্য) উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সা. তাঁর বান্দা ও তাঁর রসূল, তাকে আল্লাহ তা’আলা দোযখের জন্য হারাম করে দেবেন। মুআজ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি লোকেদেরকে এই খবর বলে দেব না, যেন তারা (শুনে) আনন্দিত হয়? তিনি বললেন, তাহলে তো তারা (এর উপরই) ভরসা করে নেবে (এবং আমল ত্যাগ করে বসবে)। অতঃপর মুআজ (ইলম গোপন রাখার) পাপ থেকে বাঁচার জন্য তাঁর মৃত্যুর সময় (এ হাদীসটি) জানিয়ে দিয়েছিলেন।” [বুখারী ১২৮, মুসলিম ১৫৭] . আর এ দিক বিবেচনায় জুমহুর আয়িম্মায়ে কেরাম আমলের গুরুত্ব বুঝাতে এবং আমলের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত রাখতে তা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, রুকনে আসলি বা মৌলিক অংশ হিসেবে নয়।” — মোহাম্মদ আব্দুল হক হাফি. . আরেকটি মজবুত দলীল হল ঐ হাদিস যেখানে আল্লাহ কিয়ামতের মাঠে একজনকে তার ৯৯টি গুনাহের খাতা দেখাবেন যার কালিমা ছাড়া আর কোন নেক আমল ছিল না। কালেমা নিজেই একটি আমল। তাওহীদ নিজেই একটি লাগাতার আমল। যা তাকে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হওয়া থেকে আটকাবে। হাদীস সহীহ : তিরমিযী হা/২৬৩৯ ইবনু আবি যাইদ রহি. সহ আরও কিছু ফকিহ দাবী করেন যে যুহুদ (অস্বীকার) ব্যতীত ফরজসমূহ তরককারী কাফের নয় বরং ফাসেক৷ ইজমায়ে উম্মাহ হলো — তাদের জানাজা পড়ানো হবে, ইসলাম অনুযায়ী তাদের মিরাস বন্টিত হবে এবং মুসলিমদের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে৷ (শরহে বুখারী লি ইবনি বাত্তলঃ8/579)

August 02 2025

61

ঈমান-আকীদা

আমলহীন ব্যক্তি জান্নাতে যাবে? কোন আমল না করে কেও কি জান্নাতে প্রবেশ করবে?

শাফাআতের প্রসিদ্ধ ও দীর্ঘ হাদিসের শেষাংশে এসেছে, ‎فَيُخْرِجُ مِنْهَا قَوْمًا لَمْ يَعْمَلُوا خَيْرًا قَطُّ قَدْ عَادُوا حُمَمًا অতঃপর আল্লাহ জাহান্নাম থেকে এমন একদলকে বের করবেন, যারা কখনোই কোনো আমল করে নাই। আগুনে পুড়ে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। [মুসনাদে আহমদ — ১১৮৯৮, পড়ুন — মুসলিম ৩৪৩, বুখারী ২২, ৬৫৬০; মুসনাদে আহমদ — ১১৮৯৮] ইমাম ইবনুল কায়্যিম রাহ. বলেন, “হাদিসের ভাষ্য থেকে পরিষ্কার যে, এরা কোনো নেক কাজ করে নাই। স্রেফ আল্লাহর রহমত এদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করবে।” [হাদিল আরওয়াহ — ২/৭৮০] নাবি আলাইসিস সালাম যখন কাকুতিমিনতি করবেন, তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন — ‎فَيَقُولُ: وَعِزَّتِي وَجَلاَلِي، وَكِبْرِيَائِي وَعَظَمَتِي لَأُخْرِجَنَّ مِنْهَا مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ “আমার ইজ্জত‌ ও পরাক্রম এবং আমার বড়ত্ব ও মহত্ত্বের শপথ! যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে, আমি অবশ্যই অবশ্যই তাদের সবাইকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনব।” [বুখারি-৭৫১০, মুসলিম-১৯৩] ইমাম ইবনু রজব আল-হাম্বলি রাহ. বলেন — “শাফাআত সংক্রান্ত হাদিসে সহিহ বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে — নাবি আলাইসিস সালাম বলেন, “…..তখন আমি বলব, ‘হে আমার প্রভু! আমাকে অনুমতি দিন তাদের ব্যাপারে, যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে।’ তখন আল্লাহ বলবেন, ‘আমার সম্মান, আমার গৌরব, আমার মহত্ত্ব এবং আমার শ্রেষ্ঠত্বের শপথ! আমি তাদের জাহান্নাম থেকে বের করে দেব, যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে।’ সহিহ মুসলিমে আরও এসেছে: ‘তখন আল্লাহ বলবেন, এটি তোমার এখতিয়ারের বিষয় নয়, অথবা এটি তোমার কাজ নয়।’ ইবনু রজব রাহ. বলেন — وهذا يدل عَلَى أن الذين يخرجهم الله برحمته، من غير شفاعة مخلوق، هم أهل كلمة التوحيد، الذين لم يعملوا معها خيرًا قط بجوارحهم. “এটি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, যারা আল্লাহর (স্পেশাল) রহমতে কোনো মাখলুকের শাফাআত ছাড়াই জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে, তারা সেই লোক যারা তাওহিদের কালিমা (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) উচ্চারণ করেছে, কিন্তু শরীরের কোনো অঙ্গ দিয়ে এর সাথে কোনো নেক আমল করে নি।” — [আত-তাখউইফ মিনান নার ওয়া আত-তারিফ বিহাল দারিল বাওয়ার, পৃষ্ঠা ৩৬৪]

December 23 2023

45

ঈমান-আকীদা

বিদআতিদের সম্পর্কে সালাফগণের অবস্থান

বিদ'আতির সাথে বসো না ,কারণ আমি ভয় পাই যে তোমার উপর লানত নাযিল হবে। 📖[ইবনে বাত্তাহ, আল-ইনাবাহ (২/৪৫৯)] বিদ‘আতীদের রদ করা আল্লাহ’র রাস্তায় জিহাদ করার শামিল। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “বিদ‘আতীদের রদকারী একজন মুজাহিদ। এমনকি ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া বলেছেন, ‘সুন্নাহকে ডিফেন্ড করা সর্বোত্তম জিহাদ’।” 📖[নাক্বদ্বুল মানত্বিক্ব, পৃষ্ঠা: ১২; গৃহীত: শাইখ খালিদ বিন দ্বাহউয়ী আয-যাফীরী (হাফিযাহুল্লাহ), ইজমা‘উল ‘উলামা ‘আলাল হাজরি ওয়াত তাহযীরি মিন আহলিল বিদা‘; পৃষ্ঠা: ১০৪] ফুদাঈল বিন ঈয়াদ রাহিমাহুল্লাহ (মৃ-১৮৭ হি.) বলেন, ❝ আমার সাক্ষাত হয়েছে সুন্নাতের অনুসারী শ্রেষ্ঠ মনিষিদের সাথে এবং তারা বিদ'আতীদের সাথে মিশতে নিষেধ করতেন ❞ 📖[আল-লালাকাঈ,২৬৭] রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সাহাবী ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, ❝আহালুল হাওয়া (প্রবৃত্তির অনুসারী/বিদ'আতী) এর সাথে বসবে না,কারণ তাদের (সাথে) সমাবেশ -অন্তরের রোগ।❞ 📖 [আজূর্রি আস শারিয়াহ(১/১৯৬, নং ১৩৯); লালাকাঈ ,শারহু উসূলি ই'তিক্বাদু আহালুস সুন্নাহ ওয়াল জাম'আত(২/৪৩৮); আশ-শারিয়াতু লিলাযরীঈ(১/৪৫২)] ইবরাহীম নাখয়ী (রহ.) বলেন, বিদাতীদের নিকট বসো না, তাদের সাথে কথা বলো না। আমি আশংকা করি যে তারা তোমাদের অন্তরকে প্রভাবিত করে ফেলবে। 📖 [‘আল-বিদা‘ ওয়ান নাহয়্যু আনহা’’ পৃ. ৫৬, আল-ই‘তিছাম ০১/১৭২] শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমীয়া (রহ.) বলেন-- বিদাতীদের অনিষ্ট বিষয়ে বলেন, যদি কেউ তাদের মুক্বাবিলা না করত তাহলে দীন ধ্বংস হয়ে যেত। যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুদলের আক্রমণ থেকে তাদের আক্রমণ মারাত্মক। কেননা তারা বিজয়ী হলে শুধু আনুগত্যই করে নিতে পারে; মন-মানসিকতা এবং দীন ধ্বংস করতে পারে না। পক্ষান্তরে বিদাতীরা প্রথমেই মন-মানসিকতা নষ্ট করে দেয়। 📖 [মাজমূ‘ ফাতওয়া ২৮/২৩২] উসমান বিন যায়েদাহ বলেন, সুফিয়ান আমাকে উপদেশ দিয়ে বলেন, ‘বিদআতীদের সাথে ওঠা-বসা করো না।’ 📖 [আল ইবানাহ ২/৪৬৩, ৪৫২] ফিরয়াবী বলেন, ‘সুফিয়ান সওরী আমাকে অমুক বিদআতীর সংশ্রবে যেতে নিষেধ করেছেন।’ 📖 [আল ইবানাহ ৪৫৩] ইবনুল মুবারক বলেন, ‘খবরদার কোন বিদআতীর সাথে বসো না।’ 📖 [আল ইবানাহ ৪৫৪]

December 14 2023

209

দ্বীনিয়াত ও শিক্ষা

কাফের দেশে স্থায়ী বসবাস সম্পর্কে ইসলামের বিধান

অমুসলিম দেশে ৯/১১ এর মত হামলার মাসালা হল- ‘যদি হামলা করা জরুরী হয়ে পরে, কাফিররা যদি ঐ স্থানে থাকা মুসলিমদেরকে ঢাল হিসেবে ব্যাবহার করে আর কুফফারদের দল থেকে যদি মুসলিমদের আলাদা করা সম্ভব না হয়, তবে ইমামদের বক্তব্য অনুসারে তাদেরসহ কুফফারদের উপড়ে হামলা করা বৈধ। পরকালে তারা যার যার নিয়ত অনুযায়ী উঠবে। মুসলিমরা সেখানে অবস্থান করে বলে জিহাদ বন্ধ রাখা হবে না। জিহাদ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি যে অন্যান্য বিষয়গুলোর চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ । যে সকল বিষয় জিহাদকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার ঝুঁকির সম্মুখীন করে তার সবকিছুই রহিত হয়ে যাবে। মুসলিম উম্মতের বিপক্ষে কাফেরদের সুবিধার জন্য শরিয়তের দলীল ব্যাবহার কারার কোন সুযোগ নেই।' (দেখুনঃ ফাতাওয়া ইবন তাইমিয়াহ, ২৮/৫৩৭ ও ২০/৫২, আল হাশিয়া আলা আর রাওধ, ৪/২৭১, আল হিদায়া (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ জিহাদ, ২/৪৩২, ও এই বিষয়ে শাইখ আব্দুর রহমান রহিঃ এর বিস্তারিত ফতোয়া) একটি বিষয় চিন্তা করুন — ‘সেসব মুসলিম দের কি ঐ সমস্থ জায়গায় থাকার কথা?’ ‘তার দ্বীন যে ভূমিতে হুমকির মুখে সেখানে বসবাস করা কি তাদের জন্য জায়েজ?’ ‘তাদের কি হিজরত করা উচিত নয়?’ — সত্যিটা হচ্ছে তারা দ্বীন সম্পর্কে উদাসীন। ‘জায়েজ নাকি নাজায়েজ’ এতে তাদের কিছু যায় আসে না।’ একটি হাদিস দেখুন- আবুল আসওয়াদ মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহ.) থেকে বর্ণিত, عَبْدُ اللهِ بْنُ يَزِيْدَ الْمُقْرِئُ حَدَّثَنَا حَيْوَةُ وَغَيْرُهُ قَالَا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبُو الْأَسْوَدِ قَالَ قُطِعَ عَلَى أَهْلِ الْمَدِيْنَةِ بَعْثٌ فَاكْتُتِبْتُ فِيْهِ فَلَقِيْتُ عِكْرِمَةَ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَأَخْبَرْتُهُ فَنَهَانِيْ عَنْ ذَلِكَ أَشَدَّ النَّهْيِ ثُمَّ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَّ نَاسًا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ كَانُوْا مَعَ الْمُشْرِكِيْنَ يُكَثِّرُوْنَ سَوَادَ الْمُشْرِكِيْنَ عَلَى عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَأْتِي السَّهْمُ فَيُرْمَى بِهِ فَيُصِيْبُ أَحَدَهُمْ فَيَقْتُلُهُ أَوْ يُضْرَبُ فَيُقْتَلُ فَأَنْزَلَ اللهُ : {إِنَّ الَّذِيْنَ تَوَفّٰهُمُ الْمَلٰٓئِكَةُ ظَالِمِيْٓ أَنْفُسِهِمْ}الآيَةَ رَوَاهُ اللَّيْثُ عَنْ أَبِي الْأَسْوَدِ. “রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে যেসব মুসলিম মুশরিকদের সঙ্গে ছিল এবং তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছিল, মাঝে মাঝে এমনও হত যে, তাদের কেউ কেউ মুসলিমদেরই তীরের আঘাতে নিহত হতো বা তাদেরকে হত্যা করা হত। তখন আল্লাহ তা‘আলা — … إِنَّ الَّذِيْنَ تَوَفّٰهُمُ الْمَلٰ۬ئِكَةُ ظَالِمِيْٓ أَنْفُسِهِمْ ‘নিশ্চয় যারা নিজদের প্রতি যুলমকারী, ফেরেশতারা তাদের জান কবজ করার সময় বলে, ‘তোমরা কী অবস্থায় ছিলে’? তারা বলে, ‘আমরা যমীনে দুর্বল ছিলাম’। ফেরেশতারা বলে, ‘আল্লাহর যমীন কি প্রশস্ত ছিল না যে, তোমরা তাতে হিজরত করতে’? সুতরাং ওরাই তারা যাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম। আর তা মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল। (সূরা নিসা ৯৭) আয়াতটি অবতীর্ণ করেন।” (সহীহ বুখারী ৪৫৯৬, মান সহিহ) হাদিসে এসেছে- জারীর আল-বাজালী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, «أَنَا بَرِيءٌ مِنْ كُلِّ مُسْلِمٍ يُقِيمُ بَيْنَ الْمُشْرِكِينَ» ‘আমি ঐসব মুসলিমের উপর অসন্তুষ্ট ও রুষ্ট যারা মুশরিকদের মধ্যে অবস্থান করে।’ (বুলুগুল মারাম ১২৬৪, মান: সহিহ, এ বিষয়ে আরো দেখুন- জামে’ আত-তিরমিজি ১৬০৪, মান: সহিহ, আবু দাউদ ২৭৮৭, মান: সহিহ) নোট- এটি প্রকাশিত অফিসিয়াল ফতোয়া নয়, কিছু দলীল ভিত্তিক সরল বাক্য মাত্র।

December 14 2023

191

অপসংস্কৃতি ও বাতিল ফিরকা

মুরজিয়া হচ্ছে ক্বেবলার (অনুসরণকারী) ইহুদী

আল্লাহর ইচ্ছায় বিগত কয়েক বছরে বর্তমান যুগের খারেজীদের ব্যাপারে উম্মাহ একটা সুস্পষ্ট ধারনা লাভ করেছে। কিন্তু অনেকেই আরেক আপদ ‘মুরজিয়া গোষ্ঠীর’ ফিতনার কথা ভুলে গেছেন। মুরজিয়া গোষ্ঠী খারেজীদের বিপরীত। খারেজীরা কবিরা গুনাহের কারণে মুসলিমকে কাফির মনে করে আর মুরজিয়া গোষ্ঠী সুস্পষ্ট শিরকে আকবার ও কুফরে আকবার (নাওয়াক্বিদ) করলেও ঈমান অক্ষুন্ন থাকে বলে মনে করে। তারা ঈমান বিনষ্টকারী কাজগুলোকে বিষয়গুলোকে (নাওয়াক্বিদুল ঈমান) জুহুদ এর শর্ত দিয়ে আটকে দেয়। কিন্তু আহলে সুন্নাহ এই দুই বিভ্রান্ত দলের মধ্যবর্তী অবস্থান গ্রহন করে। তারা খারেজীদের বিপরীতে কবিরা গুনাহের কারণে ঈমান নষ্ট হয়ে যায় বলে মনে করেন না। আবার মুরজিয়াদের বিপরীতে নাওয়াক্বিদের কারণে ঈমান নষ্ট হয়ে যায় বলে মনে করেন। ইতিহাসে যখন খারেজীদের আবির্ভাব হয়, একই সময় মুরজিয়াদেরও আবির্ভাব হয়। বর্তমান যুগের মুরজিয়ারা যদিও মুখে মুখে এই দাবী করে যেন- “ঈমান হচ্ছে অন্তরে বিশ্বাস, মৌখিক স্বীকৃতি ও আ’মলের সমন্বয়” কিন্তু বাস্তবে তারা নানা অযুহাতে আ’মলকে ঈমান এর বাইরে রেখে দেয়। যেমনঃ মুসলিম নামধারী শাসকরা একাধিক ‘নাওয়াকিদুল ঈমান’ করলেও তাদের দৃষ্টিতে তারা ঈমানদার, কারণ হিসেবে তারা দাবী করেঃ ‘হয়তো অন্তরে তারা এই কাজকে খারাপ জানে’, অথবা ‘আমরা তো তাদের অন্তরের খবর জানি না’ ইত্যাদি। অর্থাৎ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তাদের দাবী হচ্ছে, অন্তরে কুফরী না করলে সেটা ঈমান বিনষ্টকারী হবে না। শুধু বাহ্যিক আ’মলের মাধ্যমে ঈমান বিনষ্ট হতে পারে না!! এছাড়া তারা এটাও দাবী করে যে, অন্তরে যতক্ষণ ঈমান আছে, ততক্ষণ বাইরের আ’মল যেমনঃ ইস্তেহলাল (আল্লাহ্‌র দেয়া বিধানকে পরিবর্তন বা হালালকে হারাম করা কিংবা হারামকে হালাল করা) এর কারণে ঈমান নষ্ট হয় না। জঘন্য মুরজিয়া গোষ্ঠী সম্পর্কে সালাফদের কিছু বক্তব্যঃ ক) ইমাম ইব্রাহীম নাখয়ী (রঃ) বলেছেন, لأنا لفتنة المرجئة أخوف على هذه الأمة من فتنة الازارقة ‘এই উম্মাহর জন্য আমরা মুরজিয়াদের ফিতনাকে আজারিক্বাহদের (চরম এক প্রকার খারেজী গোষ্ঠী) ফিতনা থেকে বেশী ভয় করি’। খ) ইমাম আওজায়ী (রঃ) বলেন, قال الاوزاعي كان يحيى وقتادة يقولان ليس من الاهواء شيء أخوف عندهم على الامة من الارجاء ‘ইয়াহইয়া ও ক্বাতাদা বলেছেন, যে বিদয়াত প্রচলন হয়েছে, এর মধ্যে উম্মাহর জন্য ইরজা এর চেয়ে বেশী অন্য কিছুকে ভয় করি না’। গ) সাইয়্যেদ ইবনে জুবায়ের (রঃ) বলেছেন, قال سعيد بن جبير غير سائله ولا ذاكرا ذاك له لا تجالس طلقا يعن أنه كان يرى رأي المرجئة ‘তাকে প্রশ্ন করবে না, এবং তার কাছে সেটা উল্লেখও করবে না, তালকা (তালকা বিন হাবীব) এর সাথে বসবে না’ (কারণ সে মুরজিয়াদের দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতো) অপর এক বর্ণনায় আছে, সাইয়্যেদ ইবনে জুবায়ের (রঃ) বলেছেন, المرجئة يهود القبلة ‘মুরজিয়া হচ্ছে ক্বেবলার (অনুসরণকারী) ইহুদী’। আল্লাহ মুরজিয়াদের ফিতনা থেকে এই উম্মাহকে হেফাজত করুন।

সম্পাদকীয়

হিজাব-নিকাব হিজাবের মর্যাদা রক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

হিজাব-নিকাব আমাদের কাছে অতি পরিচিত দুটি শব্দ। শব্দদুটি মূলত আরবী শব্দ হলেও তা আমাদের ভাষার শব্দভাণ্ডারে পাকাপোক্ত স্থান করে নিয়েছে। এর স্থান বাংলাভাষী মুসলিমদের অন্তরের গভীরে। হিজাব-নিকাব স্বচ্ছ পরিচ্ছন্ন ইসলামী সংস্কৃতির অংশ। মুসলিম নারীর মর্যাদা ও আভিজাত্যের প্রতিক। যুগ যুগ ধরে চলে আসা উম্মাহর মহীয়সী নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। সর্বোপরি তা কুরআন-সুন্নাহর পর্দার বিধান পালনের উত্তম উপায়। এসব কারণে মুসলিম-মানসে হিজাব-নিকাবের স্থান অত্যন্ত গভীরে। এটি একটি পোশাকমাত্র না, এর সাথে জড়িয়ে আছে মুসলিম নারী-পুরুষের ধর্মীয় আবেগ, মহান আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের পবিত্র প্রেরণা, উন্নত ও নির্মল ঐতিহ্যের অনুসরণ, সংযম, সচ্চরিত্র ও লজ্জাশীলতার মতো উন্নত চারিত্রিক গুণাবলির অনুশীলন। এইসব জিনিসের গুরুত্ব উপলব্ধি করার মতো জ্ঞানগত ও চিন্তাগত যোগ্যতা যাদের আছে, তারা হিজাব-নিকাবের গুরুত্বও উপলব্ধি করতে পারবেন।

December 05 2023

198

আমল ও আত্মশুদ্ধি

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দ্রব্যমূল্য, লোডশেডিং ও ভবিষ্যতের শঙ্কা : কিছু কথা

মুসলিম জাহানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত- হজ¦ ও কুরবানী সমাপ্ত হয়েছে। এই দুই ইবাদতকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের মাঝে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছিল। আল্লাহর স্মরণ ও আল্লাহমুখিতার পবিত্র অনুপ্রেরণা কিছুটা হলেও আমাদের দোলা দিয়েছিল। চিন্তা করলে দেখা যাবে, একমাত্র আল্লাহর স্মরণই আমাদের জীবন ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। আমাদের চারপাশে কষ্টের ব্যাপারগুলো বাড়ছে। দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতি, লোডশেডিং, ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এগুলো আমাদের কর্মেরই ফসল। কুরআন-সুন্নাহ্য় মানুষের ব্যক্তি-জীবন ও সামাজিক জীবনের ব্যাধিগুলো খুব পরিষ্কারভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই ভয়াবহ ব্যাধিগুলোর একটি হচ্ছে দুনিয়ার মোহ। দুনিয়ার মোহগ্রস্ত মানুষ অর্থ-সম্পদের ব্যাপারে এমনই আসক্ত হয়ে পড়ে যে, কিছুতেই তার পেট ভরে না। এর সাথে যখন আল্লাহর ভয় ও আখেরাতের জবাবদিহিতার অনুভূতি বিলুপ্ত হয়ে যায় তখন কোনো ব্যবস্থাই ব্যক্তি ও সমাজকে সহজ-স্বভাবিক অবস্থায় ধরে রাখতে পারে না।

December 05 2023

167

সাম্প্রতিক

সাম্প্রতিক ইস্যু অসংযত, অতিউৎসাহী আচরণ থেকে নিবৃত্ত হোন

সম্প্রতি মেয়েদের লেবাস-পোশাক ও সাফ ফুটবলে শিরোপাপ্রাপ্তিকে কেন্দ্র করে একটি মহল থেকে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ন্ত্রিত আচরণ প্রকাশিত হতে দেখা যাচ্ছে। মানুষের আচার-ব্যবহারে অনেক কিছুই প্রকাশিত হয়। শব্দ-বাক্যের চাতুর্য আর উপস্থাপনার কলা-কৌশল দ্বারা সবকিছু ঢাকা যায় না। তাই এই সবকিছুর মধ্য দিয়েও ইসলাম ও ইসলামের সংযত-শালীন জীবনব্যবস্থার প্রতি একশ্রেণির মানুষের চরম বিদ্বেষ প্রকাশিত হয়েই পড়ে। জীবনের সকল অঙ্গনে ইসলাম মানুষকে সুস্থ-সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে। সঠিক বিশ্বাস, ভারসাম্যপূর্ণ চেতনা, আল্লাহমুখী জীবনবোধ ও সংযত-শালীন জীবনধারা ইসলামী জীবনব্যবস্থার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। একারণেই ইসলাম ভোগবাদী জীবন-দর্শনের প্রধান শত্রুরূপে পরিগণিত। ইসলাম যতই মানবতার, উদারতার ও সহনশীলতার কথা বলুক- যেহেতু ইসলামী জীবনব্যবস্থার মধ্যেই সংযমী জীবনাচারের অত্যন্ত শক্তিশালী শিক্ষা ও বিধান আছে তাই একশ্রেণির মানুষ কিছুতেই ইসলামের শিক্ষা-দীক্ষাকে সহ্য করতে পারে না। কিন্তু এ তো স্পষ্ট কথা যে, জলাতঙ্ক-রোগে আক্রান্ত কারো কাছে পানি যতই ভীতি ও আতঙ্কের কারণ হোক- এতে পানির কোনো দোষ নেই। ঐ ব্যাধিগ্রস্তের চিকিৎসাই এখানে মুখ্য প্রয়োজন।

December 05 2023

179

আদাব ও আখলাক

শিক্ষা পাঠ্যপুস্তকের অনৈতিকতা : কিছু সাধারণ কথা

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষার মাধ্যমেই কোনো জাতি শক্তিমান জাতি হিসেবে গড়ে ওঠে। কিন্তু জাতির মেরুদণ্ডের পরিচর্যা যদি মেরুদণ্ডহীন লোকদের হাতে ন্যস্ত হয় তখন সেই জাতির ভবিষ্যত কত ভয়াবহ হতে পারে তা খুব সহজেই অনুমেয়। সম্প্রতি যে বিষয়গুলো সামনে আসছে তা একটি জাতির জন্য রীতিমত রোমহর্ষক। যারা এই দেশ ও জাতির ভবিষ্যত নিয়ে আন্তরিকতার সাথে ভাবেন তাদের অবশ্যই এই অবক্ষয় রোধে সর্বশক্তি নিয়োজিত করতে হবে। জাতির কর্ণধারদের এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলার কাছে জবাবদিহি করতে হবে। ইসলাম মানুষকে ভালো-মন্দের পরিষ্কার সীমারেখা দান করেছে। ঈমানী শিক্ষা মানুষকে আল্লাহকে ভয় করতে ও ভালবাসতে শেখায় এবং আল্লাহপ্রদত্ত সীমারেখা মেনে চলতে প্রস্তুত করে। এই সীমারেখা মেনে চলার চর্চা যারা করেন তাদের মধ্যে সৌজন্য, সংযম, শালীনতা ও লজ্জাশীলতা তৈরি হয়। একজন সৎ-সজ্জন মানুষের জন্য এইসকল বৈশিষ্ট্যের কোনো বিকল্প নেই। অন্যদিকে যে সমাজ থেকে আল্লাহপ্রদত্ত ভালো-মন্দের সীমারেখা বিলুপ্ত হতে থাকে, তা লঙ্ঘন করতে তারা উৎসাহিত হতে থাকে, সেই সমাজ থেকে শুধু একান্ত ধর্মীয় বিষয়গুলোই বিলুপ্ত হয় না, স্বাভাবিক মানবীয় বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলির ক্ষেত্রেও ভয়াবহ অবক্ষয়ের বিস্তার ঘটতে থাকে। মিথ্যা-প্রতারণা, পরস্বহরণ, হিংস্রতা, পরশ্রীকাতরতা থেকে শুরু করে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, লুটপাট, রক্তপাত, ইজ্জত-আব্রু লুণ্ঠন পর্যন্ত সব রকমের অনাচারই সংঘটিত হতে থাকে। এই সত্য আজ আমাদের গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে। সমাজের সর্বস্তরে ঈমানের আলো বিস্তারে সব রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঈমান ইসলাম পরিপন্থী নানা বিষয়ের প্রচার-প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যেসকল অপপ্রয়াস চলে প্রত্যেকে স্ব স্ব অঙ্গন থেকে সেসবের খণ্ডন ও প্রতিরোধে পূর্ণ শক্তি ব্যয় করতে হবে।

December 05 2023

168

অন্যান্য

আরবলীগের জেদ্দা সম্মেলন ও সোনায় মোড়ানো জিলাপি

মে ২০১২ সালে আলকাউসারে ‘আরববিশ্বে জিহাদের প্রত্যাবর্তন’ শিরোনামে একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। তাতে জানা গিয়েছিল, পুরো আরববিশ্ব সিরিয়া ও তার শাসক বাশার আলআসাদের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছে। এবং তার বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানকে জিহাদ আখ্যা দিচ্ছে। যদিও ইতিপূর্বে দীর্ঘদিন থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে (বর্তমানের মতো) জিহাদ শব্দ প্রায় অনুচ্চারিতই হয়ে গিয়েছিল। এমনকি মসজিদের খতীবগণও কুরআন মাজীদের জিহাদের আয়াতগুলো এবং এ বিষয়ক হাদীসগুলো এড়িয়ে চলতেন। কিন্তু তখন রাতারাতি পরিস্থিতি পাল্টে দেওয়া হয়েছিল। হারামাইনসহ মসজিদে মসজিদে জিহাদের ফযীলতের ওয়াজ এবং সিরিয়ার বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানকে জিহাদ আখ্যাদান তখনকার নিয়মিত ঘটনা ছিল।

December 05 2023

172

সাম্প্রতিক

প্রসঙ্গভিত্তিক সর্বাধিক পঠিত
বর্তমান সময়ে বিবাহের ক্ষেত্রে মোহরে ফাতেমী কত টাকা?

বর্তমান সময়ে বিবাহের ক্ষেত্রে মোহরে ফাতেমী কত টাকা?

December 01 2023

266

কবরে শুয়ে মৃতরা কি শুনতে পায়?

December 11 2023

260

কাফের দেশে স্থায়ী বসবাস সম্পর্কে ইসলামের বিধান

December 14 2023

209

গাজায় ইসরাইলের বর্বরতা গাজাবাসীর জন্য দুফোঁটা অশ্রু!

গাজায় ইসরাইলের বর্বরতা গাজাবাসীর জন্য দুফোঁটা অশ্রু!

December 01 2023

206

হিজাব-নিকাব হিজাবের মর্যাদা রক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

December 05 2023

198

মুরজিয়া হচ্ছে ক্বেবলার (অনুসরণকারী) ইহুদী

December 14 2023

191

ঈদের নামায স্থানীয়ভাবে আদায় করবো? না সৌদির সঙ্গে মিলিয়ে?

ঈদের নামায স্থানীয়ভাবে আদায় করবো? না সৌদির সঙ্গে মিলিয়ে?

December 03 2023

190

শরীয়া নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই ‘সুকুক’ ছাড়া হয়েছে

December 05 2023

185

সাম্প্রতিক ইস্যু অসংযত, অতিউৎসাহী আচরণ থেকে নিবৃত্ত হোন

December 05 2023

179

আকিকার গোশত কি সন্তান নিজে এবং তার পিতা-মাতা খেতে পারবে?

December 05 2023

177

ইসলামি শরীয়তের পরিভাষা: “ইমাম” “ওয়ালিয়ুল আমর” “রাষ্ট্রপ্রধান” “সরকার”

December 14 2023

177

সকল মুসলমানের জন্যে দ্বীনের মৌলিক শিক্ষা অপরিহার্য শিখতে হবে আলেমদের শরণাপন্ন হয়ে

December 05 2023

158

পিতার হারাম সম্পত্তির/টাকার/উপার্জনের উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে ফতোয়া

December 14 2023

157

ধর্ষণের শাস্তির জন্য চারজন সাক্ষ্য লাগবে? ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি দিতে সাক্ষ্য প্রমাণ নীতি। ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি।

March 08 2025

102

প্রশ্নোত্তর

'গান-বাজনা হারাম' — এই কথা আপনি কোথায় পেয়েছেন? গান বাদ্যযন্ত্র কি হারাম?

April 01 2025

86

আমল ও আত্মশুদ্ধি

'গান-বাজনা হারাম' — এই কথা আপনি কোথায় পেয়েছেন? গান বাদ্যযন্ত্র কি হারাম?

নবী (ﷺ ) বলেন, “অবশ্যই আল্লাহ আমার উম্মতের জন্য মদ, জুয়া, ঢোল তবলা এবং বীণা-জাতীয় বাদ্যযন্ত্রকে হারাম করেছেন।” [আহমাদ ৬৫৪৭, সিলসিলাহ সহীহাহ ১৭০৮] “অবশ্যই আমার উম্মতের মাঝে (কিছু লোককে) মাটি ধসিয়ে, পাথর বর্ষণ করে এবং আকার বিকৃত করে (ধ্বংস করা) হবে। আর এ শাস্তি তখন আসবে, যখন তারা মদ পান করবে, নর্তকী রাখবে এবং বাদ্যযন্ত্র বাজাবে।” [সহীহুল জামে’ ৩৬৬৫, ৫৪৬৭] "মদের মূল্য হারাম, ব্যভিচারের উপার্জন হারাম, কুকুরের মূল্য হারাম, তবলা হারাম।" [ত্বাবারানী ১২৪৩৫, সিলসিলাহ সহীহাহ ১৮০৬] "ঘন্টা বা ঘুঙুর হল শয়তানের বাঁশি।" [মুসলিম ২১১৪, আবূ দাঊদ ২৫৫৬, আহমাদ ২/৩৬৬, ৩৭২, বাইহাকী ৫/২৫৩] রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইহ-পরকালে দুটি শব্দ-ধ্বনি অভিশপ্ত; সুখ ও খুশীর সময় বাঁশীর শব্দ এবং মসীবত, শোক ও কষ্টের সময় হা-হুতাশ ধ্বনি। [বাযযার ৭৫১৩, সহীহুল জামে’ ৩৮০১, সিলসিলাহ সহীহাহ ৪২৭] ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, ঢোলক হারাম, বাদ্যযন্ত্র হারাম, তবলা হারাম এবং বাঁশীও হারাম। [বাইহাকী ২০৭৮৯] হাসান বাসরী (রঃ) বলেন, ঢোলক মুসলিমদের ব্যবহার্য নয়। আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদের সহচরগণ ঢোলক দেখলে ভেঙ্গে ফেলতেন। [দেখুন, তাহরীমু আলাতুত ত্বারব, আলবানী ১০৩-১০৪ পৃঃ] আল্লাহর রাসূল (ﷺ ) অন্যত্র বলেছেন, ''অবশ্যই অবশ্যই আমার উম্মাতের মধ্য হতে এমন কিছু গোষ্ঠি তৈরি হবে, যারা যেনা-ব্যভিচার, রেশমী কাপড়, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে।'' [সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৫৫৯০] হাদীসে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে বাদ্যযন্ত্র হারাম। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘বৈধ মনে করবে’, তার মানে তিনি বুঝিয়েছেন এটা অবৈধ, এরপর লোকেরা একে বৈধ বানিয়েছে। তিনি আরো বলেন, সাহাবী ও তাবেয়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী বহু গুনাহর সমষ্টি হল গান ও বাদ্যযন্ত্র। যথা: • ক) নিফাক এর উৎস • খ) ব্যভিচারের প্রেরণা জাগ্রতকারী • গ) মস্তিষ্কের উপর আবরণ • ঘ) কুরআনের প্রতি অনিহা সৃষ্টিকারী • ঙ) আখিরাতের চিন্তা নির্মূলকারী • চ) গুনাহের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টিকারী ও • ছ) জিহাদী চেতনা বিনষ্টকারী। [ইগাছাতুল লাহফান ১/১৮৭] শাইখুল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিঃ) বলেন, “যে সকল কাজ শয়তানের পথকে শক্তিশালী করে তাদের মধ্যে গান বাজনা শোনা এবং অন্যায় হাসি তামাশা অন্যতম। এটা সেই কাজ যা কাফেররা করত। তিনি আরো বলেন, গান হচ্ছে অন্তরের মদ।” [মাজমু'ঊ ফাতাওয়া : ১০/৪১৭] গান ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যাপারে ইমাম আবু হানীফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহ.-অভিন্ন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। সকলেই গান-বাদ্যকে হারাম বলে আখ্যায়িত করেছেন- ইমাম মালেক রাহ. কে গান-বাদ্যের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কেবল ফাসিকরাই তা করতে পারে। (কুরতুবী ১৪/৫৫) ইমাম শাফেয়ী রাহ. বলেছেন যে, গান-বাদ্যে লিপ্ত ব্যক্তি হল আহমক। তিনি আরো বলেন, সর্বপ্রকার বীণা, তন্ত্রী, ঢাকঢোল, তবলা, সারেঙ্গী সবই হারাম এবং এর শ্রোতা ফাসেক। তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না। (ইগাছাতুল লাহফান ১/১৭৯; কুরতুবী ১৪/৫৫) হাম্বলী মাযহাবের প্রখ্যাত ফকীহ আল্লামা আলী মারদভী লেখেন, বাদ্য ছাড়া গান মাকরূহে তাহরীমী। আর যদি বাদ্য থাকে তবে তা হারাম। (আহসানুল ফাতাওয়া ৮/৩৮৮) ইমাম শাফেয়ী রাহ. শর্তসাপেক্ষে শুধু ওলীমা অনুষ্ঠানে দফ বাজানোর অবকাশ আছে বলে মত দিয়েছেন। কেননা বিয়ের ঘোষণার উদ্দেশ্যে ওলীমার অনুষ্ঠানে দফ বাজানোর অবকাশের বর্ণনা হাদীসে রয়েছে।-জামে তিরমিযী হাদীস : ১০৮৯; সহীহ বুখারী হাদীস : ৫১৪৭, ৫১৬২ মনে রাখতে হবে, এখানে দফ বাজানোর উদ্দেশ্য হল বিবাহের ঘোষণা, অন্য কিছু নয়। (ফাতহুল বারী ৯/২২৬) ‘তোর আওয়াজ দ্বারা তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস পদস্খলিত কর।’ (সূরা ইসরা ৬৪) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, যে সকল বস্তু পাপাচারের দিকে আহ্বান করে সেটাই ইবলিসের আওয়াজ। বিখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ (রাহি.) বলেন, ইবলিসের আওয়াজ বলতে এখানে গান ও বাদ্যযন্ত্রকে বোঝানো হয়েছে। আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রাহি.) বলেন, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যেসব বস্তু পাপাচারের দিকে আহ্বান করে তার মধ্যে গান-বাদ্যই সেরা। এজন্যই একে ইবলিসের আওয়াজ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। (ইগাছাতুল লাহফান ১/১৯৯) ইমাম ইবন তাইমিয়া (রাহি.) আরো বলেন সেই ব্যক্তির সম্পর্কে যার স্বভাব হল গান-বাজনা শোনা, ‘সে যখন কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করে তখন সে আবেগাপ্লুত হয় না, অপরদিকে সে যখন শয়তানের বাদ্যযন্ত্র (গান-বাজনা) শ্রবণ করে, সে নেচে উঠে। যদি সে সালাত প্রতিষ্ঠা করে, তবে সে হয় বসে বসে তা আদায় করে অথবা মুরগী যেভাবে মাটিতে ঠোকর দিয়ে শস্যদানা খায় সেভাবে দ্রুততার সাথে আদায় করে। সে কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করতে অপছন্দ করে এবং তাতে কোন সৌন্দর্য খুঁজে পায় না। কুরআনের প্রতি তার কোন রুচি নেই এবং যখন তা পড়া হয় সে এর প্রতি কোন টান বা ভালোবাসা অনুভব করে না। বরং, সে মু’কা (শিষ দেয়া) ও তাসদিয়া (তালি দেয়া) শুনে মজা পায়। এগুলো শয়তানী আনন্দ এবং সে তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্যে একটি শয়তান নিযুক্ত করে দেই, অতঃপর সে সর্বক্ষণ তার সাথী হয়ে থাকে”। (আউলিয়া আর রাহমান)

December 14 2023

322

দ্বীনিয়াত ও শিক্ষা

রাসুল (সাঃ) বদদোয়া করেছেন?

অনেকের একটি ধারণা রয়েছে যে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) কখনো কারো জন্য বদদোয়া করেন নাই। এটি একটি ভুল ধারণা। তিনি যালিম কাফিরদের গোত্রের নাম ধরে এবং কাফিরদের নাম ধরে উভয়ভাবেই বদদোয়া করেছেন এবং কিছু বদামলের জন্য বদকার-মুসলিমদেরও লানত করেছেন। তাই যালিম কাফের দেশের বা গোত্রের নাম ধরে বা কাফিরদের নাম ধরে বদদোয়া করা যাবে যা হাদিস থেকে প্রমাণিত। হা তিনি অযথা কোন মুসলিমকে অভিশাপ, লানত করেন নাই এবং নিষেধ করে গেছেন। নিচের হাদিসগুলো দেখুন তাহলেই বিষয়গুলো পরিষ্কার হয়ে যাবে- ১। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, مُحَمَّدٌ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ عَنْ أَبِيْ مِجْلَزٍ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَنَتَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ الرُّكُوْعِ شَهْرًا يَدْعُوْ عَلَى رِعْلٍ وَذَكْوَانَ وَيَقُوْلُ عُصَيَّةُ عَصَتْ اللهَ وَرَسُوْلَهُ নবী (সাঃ) এক মাস ব্যাপী সলাতে রুকুর পরে কুনূত পাঠ পড়েছেন। এতে তিনি রি‘ল, যাকওয়ান গোত্রের জন্য বদদু‘আ করেছেন। তিনি বলেন, উসায়্যা গোত্র আল্লাহ ও তাঁর রসুলের অবাধ্যতা করেছে। (সহিহ বুখারী ৪০৯৪, মান: সহিহ) ২। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, إِسْحَاقُ حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ عَبِيْدَةَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ يَوْمَ الْخَنْدَقِ مَلَا اللهُ عَلَيْهِمْ بُيُوْتَهُمْ وَقُبُوْرَهُمْ نَارًا كَمَا شَغَلُوْنَا عَنْ صَلَاةِ الْوُسْطَى حَتَّى غَابَتْ الشَّمْسُ নবী (সাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি খন্দকের যুদ্ধের দিন বদদু’আ করে বলছিলেন, আল্লাহ তাদের ঘরবাড়ি ও কবর আগুন দ্বারা ভরে দিন। কারণ তারা আমাদেরকে মধ্যবর্তী সলাতের সময় ব্যস্ত করে রেখেছে, এমনকি সূর্য অস্তমিত হয়ে গেছে। (সহিহ বুখারী ৪১১১, মান: সহিহ) ৩। উবাইদ ইবনে রিফাআ আয-যুরাকী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "اللَّهُمَّ قَاتِلِ الْكَفَرَةَ الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِكَ، وَيُكَذِّبُونَ رُسُلَكَ، وَاجْعَلْ عَلَيْهِمْ رِجْزَكَ وَعَذَابَكَ. اللَّهُمَّ قَاتِلِ الْكَفَرَةَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ، إِلَهَ الْحَقِّ" রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দোয়া করেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি কাফেরদের ধ্বংস করো, যারা তোমার পথে বাধা সৃষ্টি করে। তোমার ক্রোধ ও আযাব তাদের উপর অবতীর্ণ করো। হে আল্লাহ! কিতাবপ্রাপ্ত কাফেরদের ধ্বংস করো। হে সত্য ইলাহ”। (আদাবুল মুফরাদ ৭০৪ নাসাঈ, হাকিম, ইবনে হিব্বান, মান: সহিহ)

December 14 2023

157

ব্যবসা ও লেনদেন

পিতার হারাম সম্পত্তির/টাকার/উপার্জনের উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে ফতোয়া

প্রশ্ন: পিতার উপার্জনে যদি হালাল হারাম মিশ্রিত থাকে তাহলে কি ঐ সম্পদ উত্তরাধিকার হওয়া কি বৈধ হবে? উত্তর: بسم الله الرحمن الرحيم ''যতটুকু সম্পদ হারাম তা ব্যতিত হালাল মালের উত্তারিধকার সন্তানগণ হবে। যে পরিমাণ টাকা হারাম তা মূল মালিকের কাছে ফেরত পাঠাতে হবে, সক্ষম না হলে দান করে দিতে হবে।'' وفى رد المحتار ج: 2 ص: 292 (طبع سعيد) ان المراد ليس هو نفس الحرام ام لأنه ملكه بالخلط وانما الحرام التصرف فيه قبل اداء بدله….. نعم لا يباح الانتفاع به قبل أداء البدل فى الصحيح من المذهب، وكذا فى الطحطاوى على الدر المختار-4/192. وفى الهندية- ج/349 (طبع مكتبة رشيدية) والسبيل فى المعاصى ردها وذلك ههنا برد المأخوذ ان تمكن من رده بان عرف صاحبه…. الخ. وفى رد المحتار-5/99 (طبع سعيد) والحاصل أنه ان علم أرباب الأموال وجب رده عليهم والا فان علم عين الحرام لا يحل له ويتصدق به بنية صاحبه… وبعد اسطر …… ومفاده الحرمة وان لم يعلم أربابه وينبغى تقييده بما اذا كان عين الحرام ليوافق ما نقلناه اذ لو اختلط بحيث لا يتميز لملكه ملكا خبيثا لكن لا يحل له التصرف فيه ما لم يؤد بدله الخ وفى الدر المختار-6/182 (سعيد) ويجب رد عين المغصوب فى مكان غصبه ويبرأ بردها ولو بغير علم المالك….. أو يجب رد مثله ان هلك وهو مثلى، وفى رد المحتار-6/385- ويردونها على أربابها ان عرفوهم والا تصدقوا بها لان سبيل الكسب الخبيث التصدق اذا تعذر الرد على صاحبه، মিরাছ হবার জন্য উক্ত সম্পদের মালিক হতে হয়, আর আপনার পিতা হারাম মাল নিজের করায়ত্বে রাখলেও তার মালিক তিনি প্রকৃত অর্থে ছিলেনই না, তাই এর মিরাছও জারি হবে না। উত্তর দিয়েছেন- মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী। প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন- বাবার হারাম উপার্জন সন্তানের জন্য গ্রহন করার বিধান- মুফতী সাহেব ! আমাকে একটি সমস্যা থেকে উদ্ধার করেন ৷ আমি খুব বিপদে আছি ৷ আমি কলেজ স্টুডেন্ট ৷লেখা পড়ার সব খরচ বাবা বহন করেন ৷ কিন্তু বাবার উপার্জন সব হারাম পন্থায় ৷ বাবাকে অনেক বুঝানো হয়েছে ৷ কিন্তু বাবা মানছে না ৷ জানার বিষয় হলো, আমি আমার বাবা থেকে খরচ নিতে পারবো কি না? উত্তর: 'হারাম উপার্জনকারী পিতার কামাই প্রাপ্তবয়স্ক ছেলের জন্য ভোগ করা বৈধ নয় ৷ সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি নিজে উপার্জন করে খরচ চালানোর মত সামর্থ থাকলে আপনার বাবার হারাম পন্থায় উপার্জিত টাকা-পায়সা নেয়া আপনার জন্য বৈধ হবে না ৷ তবে যদি নিজে উপার্জন করার মত সামর্থ না থাকে, প্রয়োজন পরিমান আপনার বাবা থেকে টাকা-পয়সা নিতে পারবেন ৷ প্রয়োজন অতিরিক্ত নেয়া বৈধ নয়৷' (ইহয়াউ উলুমিদ দ্বীন ২/১৪৭, ফতওয়ায়ে আলমগীরী ৫/৩৪২; ফতাওয়ায়ে শামী ৬/২৪৭) মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷ - Sharia Law

December 11 2023

260

ঈমান-আকীদা

কবরে শুয়ে মৃতরা কি শুনতে পায়?

আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন: “নিশ্চয় তুমি মৃতকে শুনাতে পারবে না, আর তুমি বধিরকে আহ্বান শুনাতে পারবে না, যখন তারা পিঠ ঘুরিয়ে চলে যায়।” [সূরা আন-নামল- ২৭:৮০] “আর জীবিতরা ও মৃতরা এক নয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শুনাতে পারেন, কিন্তু যে ব্যক্তি কবরে আছে তাকে তুমি শুনাতে পারবে না।” [সূরা আল-ফাতির- ৩৫:২২] যারা বলেন ‘মৃতরা শুনতে পায় না’ তাঁদের প্রাথমিক প্রমাণ হলো কুরআনের এই দুটো আয়াত। আল্লাহ কুরআনে স্পষ্ঠভাবে বলছেন- তুমি মৃতকে শুনাতে পারবে না। এখন আমরা দেখবো হাদীসে কী আছে। বদর যুদ্ধ শেষে কাফিরদের লাশগুলোকে দাফন করা হয়। লাশ দাফন শেষে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাফিরদের নামধরে ডাকতে থাকেন। নামধরে ডেকে তিনি সূরা আরাফের ৪৪ নাম্বার আয়াত তেলাওয়াত করেন- “তোমাদের সাথে রব যে ওয়াদা করেছেন, তা তোমরা বাস্তবে পেয়েছো?” এটা দেখে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বেশ অবাক হলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি মৃতদেরকে ডেকে কথা বলছেন?” অর্থাৎ, তারা তো মৃত। আপনি তাদের সাথে কিভাবে কথা বলছেন? উমরের (রা:) প্রশ্নের জবাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন (ভাবানুবাদ), “তোমরা যেমন আমাকে শুনছো, তারাও ঠিক আমাকে শুনছে; কিন্তু তারা জবাব দিতে পারছে না।” [সহীহ বুখারী: ১৩৭০]